সৌদিতে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশনায় বিভ্রান্তি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সৌদি আরবে সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে, ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ে। বেলা করে ঈদের নামাজ আদায় করা সৌদিতে বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়। সে জন্য সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ বলেছেন, দেশটিতে সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে হবে। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছেন মন্ত্রী।

সৌদি গেজেটও এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে দেশের শীর্ষ একটি গণমাধ্যম ‘সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পরে’ থেকে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের নির্দেশনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিটের মধ্যে’ শিরোনামে পরিবেশন করে। এ নিয়ে পাঠকমহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

পাঠকরা নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ আদায়ে সৌদি নির্দেশনাকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করতে থাকেন। তাদের মন্তব্য, সূর্যোদয়ের পর থেকে এশরাকের আগ পর্যন্ত নামাজ পড়া নিষেধ। এ সময়ের মধ্যে কিভাবে তারা নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেয়?

ইসলামি স্কলারদের মতে, সূর্য ওঠার পর হলুদ আলো দূর হতে ২০ মিনিট সময় লাগে। অর্থাৎ আবহাওয়া অফিস যদি বলে, সকাল ছয়টায় সূর্য উঠবে, তার মানে ৬টা ২০ পর্যন্ত সব ধরনের নামাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে নিষিদ্ধ সময়ে কিভাবে নামাজ হয়?

বাস্তবতা যাচাই করতে সৌদি গেজেটের নিউজের লিংকে গিয়ে দেখা গেছে, সৌদি নির্দেশনায় সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পরে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে জানানোর পরও তারা সময়ক্ষেপণ করে পরে বিষয়টি সংশোধন করে। এরইমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কেউ কেউ সৌদি আরবের প্রকৃত নির্দেশনা না দেখে দেশটিকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যও করতে থাকেন।

সৌদি আরবের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে হবে খোলা মাঠে ও মসজিদে। তবে যেসব মসজিদের পাশে খোলা মাঠ কিংবা ঈদগাহ আছে, সেসব মসজিদের ভেতরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা যাবে না।

মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে ও আরামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য আগে থেকে সংশ্লিষ্ট মাঠ ও মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ প্রাথমিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ।

উল্লেখ্য, সূর্য আনুমানিক তিন গজ পরিমাণ ওপরে উঠার পর অর্থাৎ সূর্যোদয়ের ২৩/২৪ মিনিট পর থেকে দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাজের ওয়াক্ত। সূর্য তিন গজ পরিমাণ ওপরে উঠা পর্যন্ত সময়টুকুকে তার উদয়কাল বলে গণ্য করা হয়। এ সময়ে কোনো নামাজ পড়া জায়েজ নেই। ঈদুল ফিতরের নামাজ অপেক্ষাকৃত বিলম্বে এবং ঈদুল আজহার নামাজ আগে আদায় করা উত্তম।

যেভাবে দরুদ-সালাম পৌঁছে নবী কারিম (সা.)-এর কাছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক, ছবি : সংগৃহীত

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ-সালাম পাঠ করা একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। তার নাম শুনলে দরুদ পাঠ করা তার প্রতি ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন। উম্মতের পঠিত দরুদ-সালাম তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি শোনেন ও জবাব দেন।

দরুদ-সালাম পাঠের নির্দেশনা
নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির মতো নবী কারিম (সা.)-এর প্রতি দরুদ-সালাম পাঠ করার নির্দেশনা কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ রাসুলের প্রতি দরুদ-সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারাও নবীর জন্য রহমতের দোয়া করে। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর প্রতি রহমতের দোয়া করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ -সুরা আহযাব : ৫৬

দরুদ-সালাম পাঠের ফজিলত : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ-সালাম পাঠের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। দুনিয়া ও আখেরাতে দরুদ-সালাম পাঠকারীর জন্য সৌভাগ্যের সব দুয়ার খুলে যায়।

দরুদ-সালাম পাঠের বিভিন্ন মর্যাদার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ প্রেরণ করে, মহান আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। -সহিহ মুসলিম : ৪০৮

দূরবর্তীদের দরুদ-সালাম পৌঁছানো হয়
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যেকোনো উম্মত, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে তার প্রতি দরুদ-সালাম পাঠ করলে ফেরেশতারা তা তার কাছে পৌঁছে দেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহর নির্ধারিত একদল ফেরেশতা রয়েছেন, যারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ান এবং আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন।’ -সহিহ ইবনে হিব্বান : ৯১৪

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। আর আমার কবরে উৎসব করো না। আমার ওপর দরুদ পাঠাও। কেননা তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছবে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ২০৪২

নিকটবর্তীদের দরুদ-সালাম শোনেন
নবী কারিম (সা.)-এর কবরের পাশ থেকে দরুদ-সালাম পেশ করলে তিনি তা শোনেন। মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার মাধ্যমে নবীদের দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।’ -সুরা জুমার : ৩০

তবে মৃত্যুর পর তারা আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশেষ জীবন লাভ করেন। নবীদের কবরের জীবনের বৈশিষ্ট্য হলো- কবরে সাধারণ মুমিন ও শহীদদের জীবন থেকে নবীদের জীবন পূর্ণাঙ্গ ও উন্নত। এ ছাড়া দুনিয়ার জীবনের সঙ্গে কবরের জীবনের কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন- কবরে তাদের দেহ সুরক্ষিত রয়েছে। -সুনানে আবু দাউদ : ১০৪৭

তারা কবরে নামাজ আদায় করেন। -মুসনাদে আবু ইয়ালা : ৩৪২৫

হজরত মুসা (আ.) তার কবরে স্বশরীরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার বিষয়টি নবী (সা.) উল্লেখ করেছেন। -সহিহ মুসলিম : ২৩৪৭

আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা বিশেষ রিজিকপ্রাপ্ত। -ইবনে মাজাহ : ১৬৩৭

তাদের কবরের কাছে গিয়ে দরুদ-সালাম পেশ করলে তারা তা সরাসরি শোনেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আমার কবরের পাশে আমার ওপর দরুদ পেশ করে, আমি তা শুনি। আর যে দূরে থেকে আমার ওপর দরুদ পড়ে, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ -ফাতহুল বারি : ৬/৬০৫

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের জবাব দেন
কেউ নবী কারিম (সা.)-কে সালাম দিলে তিনি উত্তর দেন। দিনরাত সর্বাবস্থায়ই কবরের কাছ থেকে ও দূর থেকে নবী কারিম (সা.)-এর ওপর সালাত ও সালাম অব্যাহত থাকে। সারাক্ষণ কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে দরুদ-সালাম পেশ করতে থাকে, আর নবী কারিম (সা.) এর উত্তর দিতে থাকেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন। ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই।’ -সুনানে আবু দাউদ : ২০৪১

বস্তুত মহান আল্লাহ নবী কারিম (সা.)-কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তিনি উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র ও স্নেহশীল ছিলেন। উম্মতের কল্যাণে তিনি সদা ব্যাকুল থাকতেন। এই উম্মতের ওপর তার অবারিত অনুগ্রহ রয়েছে। এর অন্যতম দাবি হলো- তার প্রতি দরুদ-সালামের নাজরানা পেশ করা। তার প্রতি পঠিত দরুদ-সালাম তার কাছে পৌঁছে যায়।

;

মুসলিমদের কাছে ক্ষমা চাইল শ্রীলঙ্কা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইফতার মাহফিলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ছবি: সংগৃহীত

ইফতার মাহফিলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস মহামারির সময় মৃতদের লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ায় মুসলিমদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

এ ছাড়া ক্ষমা চাওয়া সংক্রান্ত একটি যৌথ প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভা।

করোনা মহামারির সময় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মুসলিমদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

বুধবার (২৪ জুলাই) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মুসলিমদের লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বীপ দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। যদিও করোনায় মৃতদের লাশ মুসলিম রীতিতে দাফন করাকে নিরাপদ বলে জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এছাড়া মৃতদের লাশ ইসলামিক রীতিতে দাফন নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরাও মতামত দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে লাশ পুড়িয়ে ফেলার নীতির বিষয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা’ করেছে দেশের মন্ত্রিসভা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহামারির সময় লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে সরকারের এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সকল সম্প্রদায়ের কাছে ‘সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে’ মন্ত্রিসভার সদস্যদের একটি গ্রুপ যৌথ প্রস্তাবও অনুমোদন করেছেন।

করোনা মহামারির সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন গোটাবায়া রাজাপাকসে। তার সরকারই সেসময় এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শ্রীলঙ্কায় একটি নতুন আইন করা হবে হবে যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুসলিম বা অন্যকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতিনীতি লঙ্ঘন না করা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

ঐতিহ্যগতভাবে, মুসলমানরা মুসলিমদের লাশকে কেবলার দিকে মুখ করে দাফন করে থাকে। আর শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মরদেহ হিন্দুদের মতো সাধারণত দাহ করা হয়।

শ্রীলঙ্কার মুসলিম প্রতিনিধিরা সরকারের এই ক্ষমা প্রার্থনাকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু তারা বলেছে, তাদের সমগ্র সম্প্রদায় এই ঘটনার আঘাত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশের ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম জনগোষ্ঠী।

;

ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলমানদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন মুসলিম নারী। শাবানা মাহমুদ নামের ওই মন্ত্রী পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন।

এ ছাড়া আরও দুই মুসলিম নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের অন্যতম হলেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের ‘সিটি মিনিস্টার’ হন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ।

মুসলিম নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে ২০১৯ সালে ১৯ জন এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ২৫ জন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছে। ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম এমপি এবারই নির্বাচিত হলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জন লেবার পার্টির, চারজন স্বতন্ত্র, দুজন কনজারভেটিভ পার্টির এবং একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের।

মুসলিম নেটওয়ার্কের দাবি, গাজার প্রতি মুসলিম ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। ফলে চারজন মুসলিমসহ পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

তারা মোট ৬৫০ এমপির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে মুসলিমরা যেহেতু ব্রিটেনের জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশ, তাই হাউস অফ কমন্সে মুসলিমদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও ১৭ জন এমপি দরকার।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ইসলামি মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মাসুদ শাজারেহ বলেছেন, ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলমানরা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটেনে বেশি সংখ্যায় মুসলমানদের যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয় প্রায় এক শতাব্দী আগে। বর্তমানে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

মাসুদ শাজারেহ সম্প্রতি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়েছে মুসলমানরা। এটাকে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মুসলমানদের অসন্তোষের কারণে ব্রিটিশ লেবার পার্টি কয়েকটি আসন হারিয়েছে। এই প্রভাব ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলের মতো আরও সংগঠন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের সংগঠনের উপস্থিতি মুসলমানদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে তা মানুষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

গত ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে লেবার পার্টি পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তবে গাজায় নির্বিচার গণহত্যার ব্যাপারে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল মুসলমানেরা। তারা নির্বাচনে নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ব্রিটিশ জনগণ দেশটির খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দখলদার ইসরায়েলের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সরকারের সমর্থনের প্রতিবাদে ভোট দিয়েছে। এর অর্থ হলো, লেবার পার্টি বিজয় পেলেও সেটা তার নিজের নীতির কারণে পায়নি বরং বিরোধী দলের অপছন্দনীয় কিছু কাজ ও নীতির কারণে মানুষ বিদ্যমান বিকল্প ধারাটিকে বেছে নিয়েছে।

;

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে যারা অংশ নিলেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পবিত্র দুই মসজিদের সেবক ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের পক্ষ থেকে মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ এবার পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সকালে কাবা শরিফ ধোয়া হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, মক্কার ডেপুটি গভর্নর মসজিদে হারামে পৌঁছলে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মসজিদে হারামের পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

এবার কাবা শরিফ ধোয়ার কাজে অংশ নেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ, সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া, হারামাইন পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ইসা, কাবার চাবি রক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শায়বি, মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ অনেকেই।

জমজমের পানি ও গোলাপজল মিশ্রিত বিশেষ পানি দিয়ে কাবা শরিফ ধৌত করার পর ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা হয়।

কাবা শরিফের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। ওইসব পর্দা প্রতি তিন বছর পর পর পরিবর্তন করা হয়। এর ছাদে ১২৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১০৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। যা দিয়ে ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে।

এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা। প্রতিবছর কাবা শরিফের ভেতর ধৌত করার সময় এ কাচ খোলা হয়। এবারও কাচটি খোলা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজ শেষে বেরিয়ে আসছেন মক্কার গভর্নরসহ অন্যরা, ছবি: সংগৃহীত

মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্য চলে আসছে। অষ্টম হিজরিতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ধৌত করেন। ইসলামের সম্মানিত খলিফারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের পর থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রথা চালু রয়েছে। আগে বছরে দুবার পবিত্র কাবা ঘর ধোয়া হতো। প্রথমবার মহররম মাসে, দ্বিতীয়বার রমজান মাস শুরুর আগে।

ধোয়ার সময় পবিত্র কাবাকে ঘিরে রাখে স্পেশাল ইমারর্জেন্সি ফোর্স ও হজ সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। তখন দূর দিয়ে তাওয়াফ করেন মুসল্লিরা।

পবিত্র কাবা ধোয়ার পর এ কাজে নিয়োজিতরা হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন শেষে কাবা তাওয়াফ ও মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র কাবা ধোয়াকে সৌদি সরকার সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা একটা উৎসবও বটে। উপস্থিত তাওয়াফকারীরা এ সময় আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

;