জেনে নিন কোরবানি বিষয়ক প্রয়োজনীয় মাসয়ালা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরবানির মাসয়ালা, ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির মাসয়ালা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না- তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম : ৩৫১৯

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নেসাব হলো- স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। - ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ১৭/৪০৫

কোরবানি করতে না পারলে
কেউ যদি কোরবানির দিনগুলোতে ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারে তাহলে কোরবানির পশু ক্রয় না করে থাকলে তার ওপর কোরবানির উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করেছিল, কিন্তু কোনো কারণে কোরবানি দেওয়া হয়নি তাহলে ওই পশু জীবিত সদকা করে দেবে। - ফাতাওয়া কাজিখান : ৩/৩৪৫

যেসব পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে
উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। -বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৫

কোরবানির পশুর বয়সসীমা
উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কোরবানি জায়েজ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২০৫-২০৬

উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। অর্থাৎ কোরবানির পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যেকোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েজ। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ- যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই। -সহিহ মুসলিম : ১৩১৮

কোরবানির পশুতে আকিকার অংশ
কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে। -রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৬২

শরিকানা কোরবানির নিয়ম

শরিকদের কারও পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না।

যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরিক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। -ফাতাওয়া কাজিখান : ৩/৩৫০-৩৫১

রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কোরবানি
এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। -জামে তিরমিজি : ১/২৭৫

দাঁত নেই এমন পশুর কোরবানি
গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কোরবানি সহিহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ওই পশু কোরবানি করা যাবে না। -ফাতাওয়া আলমগীরী : ৫/২৯৮

যে পশুর শিং ভেঙে বা ফেটে গেছে
যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। কিন্তু শিং ভাঙার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ। তাই যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একেবারে উঠেনি, সে পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। -জামে তিরমিজি : ১/২৭৬

কান বা লেজ কাটা পশুর কোরবানি
যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিজি : ১/২৭৫

মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি
মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি অসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কোরবানির অসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমাদ : ১/১০৭

অন্যের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে চাইলে
অন্যের ওয়াজিব কোরবানি দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি নিলে এর দ্বারা ওই ব্যক্তির কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কোরবানি আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করে তাহলে তাদের কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।

গোশত, চর্বি বিক্রি করা
কোরবানির গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েজ নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান : ১৭/২৫৯

বিদেশে থাকা ব্যক্তির কোরবানি অন্যত্র করা
বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কোরবানি করা জায়েজ।

কোরবানিদাতা এক স্থানে আর কোরবানির পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কোরবানিদাতার ঈদের নামাজ পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে।

কোরবানির পশুর হাড় বিক্রি
কোরবানির মৌসুমে অনেকে কোরবানির হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কোরবানিদাতার জন্য নিজ কোরবানির কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েজ নয়। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনেশুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩০১

কাজের লোককে কোরবানির গোশত খাওয়ানো
কোরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েজ নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদের গোশত খাওয়ানো যাবে। -আল বাহরুর রায়েক : ৮/৩২৬

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া
কোরবানির পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েজ। তবে কোরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতি : ৮/২৬৫

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মো. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, সোনালী ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন নদভি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম সাইফুল ইসলাম এবং ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল্লাহ শরীফ।

সভায় বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও আয়-ব্যয় বাজেট প্রণয়নসহ নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

;

নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচারে তিন হজ এজেন্সির অভিনব কৌশল



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অভিযুক্ত তিন এজেন্সির মালিক (বা থেকে) বাবা মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার, ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও হাফেজ কাওছার আহমাদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

অভিযুক্ত তিন এজেন্সির মালিক (বা থেকে) বাবা মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার, ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও হাফেজ কাওছার আহমাদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজ শেষ হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন হাজিরা। তীব্র দাবদাহের দরুণ এবার হজে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনা ছাপিয়ে বাংলাদেশের হজ কার্যক্রমে এক এজেন্সির মালিককে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে মক্কাস্থ হজ মিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন, কয়েকটি এজেন্সির বিরুদ্ধে নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচারের অভিযোগ এবং নানা অনিয়ম, গাফিলতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের হজ কার্যক্রম।

এসব ঘটনায় নড়েচড়ে বসছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোর।

রোববার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের সহকারী সচিব মো. তফিকুল ইসলাম খিদমাহ ওভারসীজ, জিলহজ্ব ট্রাভেলস ও আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় হজ লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, ২০২৪ সনের হজ মৌসুমে খিদমাহ ওভারসীজ (হজ লাইসেন্স নং ১৪০১) নিবন্ধিত ১৪১ জন হজযাত্রীর সঙ্গে সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে ৫৬ জন হজযাত্রী নিয়ে জিলহজ্ব ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স নং ০৩২১), ৫৪ জন হজযাত্রী নিয়ে আত-তাবলীগ হজ সার্ভিস (হজ লাইসেন্স নং ১৩৪২) এবং ৪০ জন হজযাত্রী নিয়ে আল-তাকওয়া হজ কাফেলা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স নং ০৬৭৬) হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। হজ কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই এসব এজেন্সি হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। ২০ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট পাওয়ার পর আরও রিপ্লেসমেন্টের জন্য দেন-দরবার অব্যাহত রাখে। রিপ্লেসমেন্টের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের উপস্থিত করাতে বললে, সেটাও তারা করতে পারেনি। একপর্যায়ে হাইকোর্টে রিট করে হজযাত্রীদের হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমনের শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ ১১ জুন ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের একটি ফ্লাইটে লিড এজেন্সি খিদমাহ ওভারসীজের ১৯৫ জন হজযাত্রীর মধ্যে ওই এজেন্সির ১১১ জন, সমন্বয়কারী এজেন্সি জিলহজ্ব ট্রাভেলসের ৩৪ জন এবং আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের ৩৭ জন নিবন্ধিত হজযাত্রী ছিলেন।

খিদমাহ ওভারসীজের হজযাত্রীদের চেক ইন চলাকালে তামাক পাতা, জর্দা ও বিড়িসহ একটি লাগেজ সনাক্ত হয়। নেশা জাতীয় সামগ্রীসহ লাগেজ সনাক্ত হওয়ার পর খিদমাহ ওভারসীজের মোনাজ্জেম মুহাম্মদ আবদুস সালাম সনি, জিলহজ ট্রাভেলসের মালিক মো. আবদুস সাত্তার এবং গ্রুপ লিডার মো. বাবুল মিয়া সনাক্তকৃত ওই লাগেজসহ আরও ৩০টি লাগেজ নিয়ে হজক্যাম্প ত্যাগের চেষ্টা করলে ক্যাম্পের মূল ফটকে বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক লাগেজসমূহ জব্দ করা হয়।

ওই ৩০টি লাগেজের মধ্যে ২টি লাগেজের তালা ভেঙে তাতে বিপুল পরিমাণ তামাক পাতা, জর্দ্দা ও বিড়ি পাওয়া যায়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রুপ লিডার মো. বাবুল মিয়া জানান, ৩০টি লাগেজের সবগুলোতেই এমন জিনিস রয়েছে। বর্তমানে ওই লাগেজগুলো আশকোনা হজ অফিসে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৭২৯) করা হয়েছে।

অবাক করার বিষয় হলো, ২টি লাগেজ ব্যতিত কোনো লাগেজেই হজযাত্রীর নামসহ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লাগেজগুলোর অভ্যন্তরে রক্ষিত অবৈধ পণ্য সামগ্রী হজযাত্রীর নয় বরং সংশ্লিষ্ট ৩টি এজেন্সির। যারা পরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ কাজটি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা পরিকল্পনা করে শুরু থেকেই হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকে।

তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিলহজ্ব ট্রাভেলসের মালিক মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার। তার দুই ছেলে আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের মালিক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও খিদমাহ ওভারসীজের হাফেজ কাওছার আহমাদ। তারা জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ নামে হজ ও উমরার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আগেও জেদ্দা বিমানবন্দরে তাদের লাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ জর্দা ও গুল উদ্ধার করা হয়।

সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে তামাক পাতা, জর্দ্দা ও বিড়ি পরিবহনে সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জেদ্দা বিমানবন্দরে ইতোপূর্বে হজযাত্রীর লাগেজে তামাক পাতা-জর্দা ও গুল ধরা পড়লে সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানায়।

এমতাবস্থায় তামাক পাতা, জর্দা ও গুলভর্তি এসব লাগেজ সৌদি বিমানবন্দরে ধরা পড়লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হতো এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তো। এ ধরনের কার্যক্রম হজ এজেন্সির জন্য হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা আইন- ২০২১ এর পরিপন্থী।

উল্লেখিত এজেন্সিগুলোর এমন কাজ হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা আইন- ২০২১ এর ধারা ১২ (খ) (জ) (ঞ) এবং (ঢ) মোতাবেক অনিয়ম ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। এগুলো ধারা ১৩ (১) ও (২) অনুসারে লিড এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সমন্বয়কারী দুই এজেন্সির হজ লাইসেন্স বাতিলযোগ্য।

এ ধরনের কাজকে গুরুতর অন্যায় উল্লেখ করে হজ পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামান (উপসচিব) বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অভিযুক্ত এজেন্সিদের শোকজ করা হয়েছে, শোকজের উত্তর পেলে পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন আইন লঙ্ঘনকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হজ এজেন্সি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

;

আশুরার রোজা কবে রাখতে হবে



মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
আশুরার রোজা অত্যন্ত ফজিলতময়, ছবি: বার্তা২৪.কম

আশুরার রোজা অত্যন্ত ফজিলতময়, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। হিজরি দ্বিতীয় সনে রমজানের রোজা ফরজের বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা নফল হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো- মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো- তাহাজ্জুদের নামাজ।’ -সহিহ মুসলিম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করতো। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সে সময় রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরার রোজা শিথিল করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক।’ -সহিহ বোখারি

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজা আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

এভাবে হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং এ মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা সম্পর্কে হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একাধিক হাদিস রয়েছে।

১০ মহররম আশুরার দিনে রোজার ফজিলত প্রসঙ্গে হজরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘এ আশুরার দিন রোজা রাখার কারণে আল্লাহতায়ালা বান্দার বিগত এক বছরের গোনাহসমূহ মাফ করে দেন।’ -সহিহ মুসলিম

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার সময়টি ঘনিয়ে এসেছে। ১০ মহররম আশুরার দিন ঠিক রেখে আগের কিংবা পরের দিন মিলিয়ে ২ দিন রোজা রাখা উত্তম। সে হিসেবে এ বছর চাইলে ১৬-১৭ জুলাই মঙ্গলবার ও বুধবার রোজা রাখা যায়। আবার চাইলে ১৭-১৮ জুলাই বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা যায়।

তবে আশুরার রোজার বিধান প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত হলো, কেউ যদি শুধু মহররম মাসের ১০ তারিখ রোজা রাখেন এবং এর আগে বা পরে একটি রোজা যোগ না করেন, তবে তা মাকরূহ নয়; বরং এতে মুস্তাহাব বিঘ্নিত হবে।

প্রকৃত সুন্নত হলো, আগের ৯ মহররম বা পরের দিনের সঙ্গে ১১ মহররম মিলিয়ে মোট ২ দিন রোজা রাখা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মহররমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখো।’ -জামে তিরমিজি

তবে যে এ আশুরার দিন রোজা রাখতে পারল না, তার জন্য কোনো সমস্যা কিংবা আশাহত হওয়ার কিছু নেই। আবার কেউ যদি যদি মহররমের ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ মোট ৩ দিন রোজা রাখেন তবে তা সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) এ মত উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার এ রোজা পালনের মাধ্যমে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করার তওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

;

বরুনা মাদ্রাসার কৃতি ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, ৪ জন যাবেন উমরায়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বহুমুখী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পুরস্কার হিসেবে বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। অন্য শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ ও কিতাব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

বরুণা মাদ্রাসার মসজিদে আয়োজিত মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সিলেটের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারার মহাসচিব মাওলানা আবদুল বছির, বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দাল হোসেন খাঁন, সিলেট দরগাহ মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, বরুণা মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত হাফেজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, শায়খুল হাদিস মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মাওলানা সৈয়দ আতহার জাকওয়ান, মাওলানা রশিদ আহমদ হামিদী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরসুরী, মাওলানা হিলাল আহমদ ও মুফতি হিফযুর রহমান ফুয়াদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের বক্তারা ছাত্র পড়ালেখার মানোন্নয়নে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলইয়া এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী ও মুমতাজ (A+) শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার হিসেবে ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। এছাড়া ১৩২জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩ লক্ষাধিক টাকা ও কিতাব পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।

;