কোরবানির গোশত বণ্টনের সমাজপ্রথা মানা কি জরুরি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরবানির গোশত, ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির গোশত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনো কোনো এলাকায় কোরবানির গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে। তা হলো- এলাকায় যারা কোরবানি করেন, তাদের কোরবানির গোশতের তিন ভাগের একভাগ সমাজে জমা ‎করতে হয়। পরে ওই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সবার মাঝে (যারা কোরবানি করেছেন বা করেননি) বণ্টন করা হয়।

সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে, কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা ‎শরিয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না- তাও নিশ্চিত হতে হয়। ভালো নিয়ত থাকলেও শরিয়ত সমর্থন করে না ‎অথবা ইসলামের নীতির সঙ্গে মানানসই নয়- এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণের সুযোগ ‎নেই।

বর্ণিত সামাজিক প্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় তাতে শরিয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি ‎রয়েছে। তার অন্যতম হলো, সামাজিক এ প্রথার কারণে সবাই তার কোরবানির এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের ‎লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদের হাত থাকে। ‎গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা শরিয়তসম্মত নয়। কেননা শরিয়তে কোরবানি ও গোশত বণ্টন একান্তই কোরবানিদাতার নিজস্ব কাজ।

ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামাজ আদায় করতে বলা হলেও কোরবানির জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু ‎কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে- এ বিষয়গুলো কোরবানিদাতার ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

‎শরিয়তে কোরবানির কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কোরবানির ‎গোশত দিতে তাকিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কোরবানিদাতার ওপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কোরবানিদাতা কী ‎পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর ‎জন্য সংরক্ষণ করবে- এগুলো কোরবানিদাতার একান্ত নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে ‎সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।

শরিয়তের মাসয়ালা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের বর্ণিত যে পদ্ধতি প্রচলিত- তা পরিহারযোগ্য। এখানে চলমান প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হলো-

এক. অনেক কোরবানিদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্যকোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের ‎জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়, ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার ‎কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কোরবানির গোশত দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‎সামাজিক রীতি অনুযায়ী কোরবানির এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদিসে ইরশাদ ‎হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়।’ -মুসনাদে আহমাদ : ২০৬৯৫

দুই. প্রচলিত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা ‎পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।

তিন. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরিয়তও কাউকে সবার ‎হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য ‎সবার হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ‎মোটেই উচিত নয়।

চার. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হলো, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় ‎রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কোরবানির গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ‎হয়। অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কোরবানিকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েজ নয়।

মোটকথা, শরিয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কোরবানির অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। কোরবানিদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে ‎যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরিব-মিসকিনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। নবী কারিম ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে। এই পদ্ধতিই অবলম্বন ‎করা জরুরি। শরিয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে। -সহিহ মুসলিম : ১৯৭২

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মো. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, সোনালী ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন নদভি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম সাইফুল ইসলাম এবং ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল্লাহ শরীফ।

সভায় বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও আয়-ব্যয় বাজেট প্রণয়নসহ নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

;

নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচারে তিন হজ এজেন্সির অভিনব কৌশল



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অভিযুক্ত তিন এজেন্সির মালিক (বা থেকে) বাবা মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার, ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও হাফেজ কাওছার আহমাদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

অভিযুক্ত তিন এজেন্সির মালিক (বা থেকে) বাবা মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার, ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও হাফেজ কাওছার আহমাদ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজ শেষ হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন হাজিরা। তীব্র দাবদাহের দরুণ এবার হজে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনা ছাপিয়ে বাংলাদেশের হজ কার্যক্রমে এক এজেন্সির মালিককে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে মক্কাস্থ হজ মিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন, কয়েকটি এজেন্সির বিরুদ্ধে নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচারের অভিযোগ এবং নানা অনিয়ম, গাফিলতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের হজ কার্যক্রম।

এসব ঘটনায় নড়েচড়ে বসছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোর।

রোববার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের সহকারী সচিব মো. তফিকুল ইসলাম খিদমাহ ওভারসীজ, জিলহজ্ব ট্রাভেলস ও আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় হজ লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, ২০২৪ সনের হজ মৌসুমে খিদমাহ ওভারসীজ (হজ লাইসেন্স নং ১৪০১) নিবন্ধিত ১৪১ জন হজযাত্রীর সঙ্গে সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে ৫৬ জন হজযাত্রী নিয়ে জিলহজ্ব ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স নং ০৩২১), ৫৪ জন হজযাত্রী নিয়ে আত-তাবলীগ হজ সার্ভিস (হজ লাইসেন্স নং ১৩৪২) এবং ৪০ জন হজযাত্রী নিয়ে আল-তাকওয়া হজ কাফেলা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস (হজ লাইসেন্স নং ০৬৭৬) হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। হজ কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই এসব এজেন্সি হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। ২০ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট পাওয়ার পর আরও রিপ্লেসমেন্টের জন্য দেন-দরবার অব্যাহত রাখে। রিপ্লেসমেন্টের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের উপস্থিত করাতে বললে, সেটাও তারা করতে পারেনি। একপর্যায়ে হাইকোর্টে রিট করে হজযাত্রীদের হজে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমনের শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ ১১ জুন ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের একটি ফ্লাইটে লিড এজেন্সি খিদমাহ ওভারসীজের ১৯৫ জন হজযাত্রীর মধ্যে ওই এজেন্সির ১১১ জন, সমন্বয়কারী এজেন্সি জিলহজ্ব ট্রাভেলসের ৩৪ জন এবং আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের ৩৭ জন নিবন্ধিত হজযাত্রী ছিলেন।

খিদমাহ ওভারসীজের হজযাত্রীদের চেক ইন চলাকালে তামাক পাতা, জর্দা ও বিড়িসহ একটি লাগেজ সনাক্ত হয়। নেশা জাতীয় সামগ্রীসহ লাগেজ সনাক্ত হওয়ার পর খিদমাহ ওভারসীজের মোনাজ্জেম মুহাম্মদ আবদুস সালাম সনি, জিলহজ ট্রাভেলসের মালিক মো. আবদুস সাত্তার এবং গ্রুপ লিডার মো. বাবুল মিয়া সনাক্তকৃত ওই লাগেজসহ আরও ৩০টি লাগেজ নিয়ে হজক্যাম্প ত্যাগের চেষ্টা করলে ক্যাম্পের মূল ফটকে বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক লাগেজসমূহ জব্দ করা হয়।

ওই ৩০টি লাগেজের মধ্যে ২টি লাগেজের তালা ভেঙে তাতে বিপুল পরিমাণ তামাক পাতা, জর্দ্দা ও বিড়ি পাওয়া যায়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রুপ লিডার মো. বাবুল মিয়া জানান, ৩০টি লাগেজের সবগুলোতেই এমন জিনিস রয়েছে। বর্তমানে ওই লাগেজগুলো আশকোনা হজ অফিসে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৭২৯) করা হয়েছে।

অবাক করার বিষয় হলো, ২টি লাগেজ ব্যতিত কোনো লাগেজেই হজযাত্রীর নামসহ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লাগেজগুলোর অভ্যন্তরে রক্ষিত অবৈধ পণ্য সামগ্রী হজযাত্রীর নয় বরং সংশ্লিষ্ট ৩টি এজেন্সির। যারা পরিকল্পিতভাবে এই অবৈধ কাজটি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তারা পরিকল্পনা করে শুরু থেকেই হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকে।

তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিলহজ্ব ট্রাভেলসের মালিক মো. আব্দুস সাত্তার চাকলাদার। তার দুই ছেলে আত-তাবলীগ হজ সার্ভিসের মালিক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সনি ও খিদমাহ ওভারসীজের হাফেজ কাওছার আহমাদ। তারা জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ নামে হজ ও উমরার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আগেও জেদ্দা বিমানবন্দরে তাদের লাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ জর্দা ও গুল উদ্ধার করা হয়।

সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে তামাক পাতা, জর্দ্দা ও বিড়ি পরিবহনে সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জেদ্দা বিমানবন্দরে ইতোপূর্বে হজযাত্রীর লাগেজে তামাক পাতা-জর্দা ও গুল ধরা পড়লে সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানায়।

এমতাবস্থায় তামাক পাতা, জর্দা ও গুলভর্তি এসব লাগেজ সৌদি বিমানবন্দরে ধরা পড়লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হতো এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তো। এ ধরনের কার্যক্রম হজ এজেন্সির জন্য হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা আইন- ২০২১ এর পরিপন্থী।

উল্লেখিত এজেন্সিগুলোর এমন কাজ হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা আইন- ২০২১ এর ধারা ১২ (খ) (জ) (ঞ) এবং (ঢ) মোতাবেক অনিয়ম ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। এগুলো ধারা ১৩ (১) ও (২) অনুসারে লিড এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সমন্বয়কারী দুই এজেন্সির হজ লাইসেন্স বাতিলযোগ্য।

এ ধরনের কাজকে গুরুতর অন্যায় উল্লেখ করে হজ পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামান (উপসচিব) বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অভিযুক্ত এজেন্সিদের শোকজ করা হয়েছে, শোকজের উত্তর পেলে পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন আইন লঙ্ঘনকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হজ এজেন্সি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

;

আশুরার রোজা কবে রাখতে হবে



মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
আশুরার রোজা অত্যন্ত ফজিলতময়, ছবি: বার্তা২৪.কম

আশুরার রোজা অত্যন্ত ফজিলতময়, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। হিজরি দ্বিতীয় সনে রমজানের রোজা ফরজের বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা নফল হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো- মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো- তাহাজ্জুদের নামাজ।’ -সহিহ মুসলিম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করতো। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সে সময় রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরার রোজা শিথিল করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক।’ -সহিহ বোখারি

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজা আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

এভাবে হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং এ মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা সম্পর্কে হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একাধিক হাদিস রয়েছে।

১০ মহররম আশুরার দিনে রোজার ফজিলত প্রসঙ্গে হজরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘এ আশুরার দিন রোজা রাখার কারণে আল্লাহতায়ালা বান্দার বিগত এক বছরের গোনাহসমূহ মাফ করে দেন।’ -সহিহ মুসলিম

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার সময়টি ঘনিয়ে এসেছে। ১০ মহররম আশুরার দিন ঠিক রেখে আগের কিংবা পরের দিন মিলিয়ে ২ দিন রোজা রাখা উত্তম। সে হিসেবে এ বছর চাইলে ১৬-১৭ জুলাই মঙ্গলবার ও বুধবার রোজা রাখা যায়। আবার চাইলে ১৭-১৮ জুলাই বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা যায়।

তবে আশুরার রোজার বিধান প্রসঙ্গে আলেমদের অভিমত হলো, কেউ যদি শুধু মহররম মাসের ১০ তারিখ রোজা রাখেন এবং এর আগে বা পরে একটি রোজা যোগ না করেন, তবে তা মাকরূহ নয়; বরং এতে মুস্তাহাব বিঘ্নিত হবে।

প্রকৃত সুন্নত হলো, আগের ৯ মহররম বা পরের দিনের সঙ্গে ১১ মহররম মিলিয়ে মোট ২ দিন রোজা রাখা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মহররমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখো।’ -জামে তিরমিজি

তবে যে এ আশুরার দিন রোজা রাখতে পারল না, তার জন্য কোনো সমস্যা কিংবা আশাহত হওয়ার কিছু নেই। আবার কেউ যদি যদি মহররমের ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ মোট ৩ দিন রোজা রাখেন তবে তা সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) এ মত উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার এ রোজা পালনের মাধ্যমে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করার তওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

;

বরুনা মাদ্রাসার কৃতি ছাত্রদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, ৪ জন যাবেন উমরায়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

বক্তব্য রাখছেন বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বহুমুখী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পুরস্কার হিসেবে বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। অন্য শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ ও কিতাব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

বরুণা মাদ্রাসার মসজিদে আয়োজিত মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সিলেটের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারার মহাসচিব মাওলানা আবদুল বছির, বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দাল হোসেন খাঁন, সিলেট দরগাহ মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, বরুণা মাদ্রাসার নাজেমে তালিমাত হাফেজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, শায়খুল হাদিস মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মাওলানা সৈয়দ আতহার জাকওয়ান, মাওলানা রশিদ আহমদ হামিদী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরসুরী, মাওলানা হিলাল আহমদ ও মুফতি হিফযুর রহমান ফুয়াদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের বক্তারা ছাত্র পড়ালেখার মানোন্নয়নে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খ বদরুল আলম হামিদীর প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলইয়া এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী ও মুমতাজ (A+) শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার হিসেবে ৪ জন পেয়েছেন পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ। এছাড়া ১৩২জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩ লক্ষাধিক টাকা ও কিতাব পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।

;