মহররম মাসে করণীয়-বর্জনীয় ১০ বিষয়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মহররম সম্মানিত চার মাসগুলোর একটি, ছবি: সংগৃহীত

মহররম সম্মানিত চার মাসগুলোর একটি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আরবি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। ইসলামে মাসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। ইসলামপূর্ব যুগেও এ মাসকে মর্যাদাপূর্ণ বিবেচনা করা হতো। নবী কারিম (সা.) এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তা ছাড়া এটি পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত সম্মানিত চারটি মাসের একটি। এ প্রসেঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় থেকেই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে চারটি হলো- সম্মানিত মাস। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ -সুরা তওবা : ৩৬

বিদায় হজের খুতবায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্মানিত এ মাসগুলোকে চিহ্নিত করে বলেন, তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক- জিলকদ, জিলহজ ও মহররম, অন্যটি হলো- রজব। -সহিহ বোখারি : ৩১৯৭

এ মাসের অন্যতম একটি ফজিলতপূর্ণ দিবস হলো- আশুরা। মুসলিম সমাজে মহররম এবং এই আশুরাকেন্দ্রিক নানা ভ্রান্তি ও রসম রেওয়াজের প্রচলন আছে, যা পরিহারযোগ্য। তাই এই মাসের করণীয় ও বর্জনীয় ১০টি বিষয় এ লেখায় তুলে ধরা হলো-

গোনাহ বর্জন
মহররম সম্মানিত চার মাসগুলোর একটি। এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহর নাফরমানি ও অবাধ্যতার চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে? আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এই চার মাসের মধ্যে তোমরা (গোনাহ করে) নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’ -সুরা তওবা : ৩৬

নফল রোজা পালন
নফল রোজা রাখা এ মাসের অন্যতম আমল। নবী কারিম (সা.) এই মাসের নফল রোজাকে সর্বোত্তম ঘোষণা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। -সহিহ মুসলিম : ২৬৪৫

তওবা-ইস্তিগফার
নফল রোজার পাশাপাশি মহররমের বিশেষ আমল হলো- তওবা ইস্তিগফার করা। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মহররম আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা একটি সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন। (আশা করা যায়) সেদিন অন্যান্য সম্প্রদায়ের তওবাও কবুল করা হবে। -জামে তিরমিজি : ৭৪১

তাই ক্ষমা পাওয়ার আশায় বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।

আশুরার রোজা পালন
এ মাসের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ দিন হচ্ছে দশম দিন, তথা আশুরা। আশুরার রোজা রাখা মোস্তাহাব। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আশুরার এক দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে এই আশা করি যে তিনি এ রোজার অসিলায় বান্দার আগের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন। -সহিহ মুসলিম : ১১৬২

৯ বা ১১ মহররমে রোজা
শরিয়তে আশুরার রোজা দুটি। মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ কিংবা ১০ ও ১১ তারিখ। তবে কোনো কোনো আলেম এ বিষয়ে বর্ণিত সব হাদিসের ওপর আমলের সুবিধার্থে ৯, ১০ ও ১১- এ তিন দিন রোজা রাখার কথা বলেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন (মহররমের দশম দিবস) রোজা রাখো এবং তাতে ইহুদিদের বিরুদ্ধাচরণ করো। আশুরার আগে এক দিন বা পরে এক দিন রোজা রাখো।’ -মুসনাদে আহমদ : ২১৫৪

ভিন্নধর্মীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ
মহররমের দশম দিবসে ইহুদিরা রোজা রাখত। এ দিনটিকে তারা ঈদের মতো উদযাপন করত। তাই নবী কারিম (সা.) ওই দিনের সঙ্গে আরেকটি রোজা পালনের নির্দেশ দিয়ে বিধর্মীদের বিরোধিতার শিক্ষা দিয়েছেন। ইবাদতের মতো বৈধ বিষয়ে এমন বিরোধিতা হতে পারলে বিধর্মীদের নিজস্ব সভ্যতা-সংস্কৃতির বিরোধিতা করার বিধান কত কঠোর হতে পারে! হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, কেয়ামতের দিন সে ওই জাতির দলভুক্ত হবে। অর্থাৎ ওই দল জান্নাতবাসী হলে সে-ও জান্নাতবাসী হবে। আর ওই দল জাহান্নামবাসী হলে সে-ও জাহান্নামবাসী হবে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৪০৩১

তাই জীবনের সব ক্ষেত্রে বিধর্মীদের সাদৃশ্য পরিহার করা মুসলমানদের আবশ্যকীয় কর্তব্য।

মাতম মর্সিয়া পরিহার
হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে আশুরা নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি রয়েছে। আছে অনেক কুসংস্কার। অন্যতম একটি হলো- মাতম মর্সিয়া গাওয়া। মর্সিয়া মানে নবী দৌহিত্রের শোক প্রকাশে নিজের শরীরে আঘাত করা ও জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা। ইসলামে এটা নিষিদ্ধ। নবী কারিম (সা.) এ ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি (শোকে-দুঃখে) চেহারায় চপেটাঘাত করে, জামার বুক ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলি যুগের মতো হা-হুতাশ করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ -সহিহ বোখারি : ১২৯৭

ভিত্তিহীন ঘটনা না বলা
আশুরার দিনের গুরুত্ব বোঝাতে অনেকে মিথ্যা ও জাল হাদিসের আশ্রয় নিয়ে থাকে। যেমন- এদিন হজরত ইউসুফ (আ.) এর জেল থেকে মুক্তি। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর চোখের জ্যোতি ফিরে পাওয়া। হজরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ। হজরত ইদরিস (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। আবার এ দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে এমন ধারণা করা। এসব ঘটনা ও ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। -আল আসারুল মারফুআ : ৬৪-১০০

রসম-রেওয়াজ থেকে বিরত থাকা
রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব ছাড়া বিশেষ কোনো আমল নেই মহররম মাসে। অথচ আশুরাকেন্দ্রিক মনগড়া আমল ও রসম বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত আছে। ধর্মীয় কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের প্রথা, প্রচলন ও কুসংস্কার বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। কিছু কুসংস্কার শিরকের নামান্তর। এগুলো গোমরাহি ও ভ্রষ্টতা। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘পথভ্রষ্ট লোক আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকে।’ -সুরা হিজর : ৫৬

আর হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’ -সহিহ মুসলিম : ১৫৩৫

আশুরাকে ‘কারবালা দিবস’ মনে করা
আশুরা মানেই কারবালা নয়। আশুরার মর্যাদা ও ঐতিহ্য ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই স্বীকৃত। ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে নবী কারিম (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারের মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ আশুরার সঙ্গে মিলে যাওয়া কাকতালীয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির লোকের শোক প্রকাশের অযৌক্তিক নানা আয়োজনের কারণে আশুরা ও কারবালাকে একাকার মনে করে থাকে অনেকে। অথচ জাহেলি যুগেও আশুরার রোজার প্রচলন ছিল।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখলেন। তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, এটা সেই দিন, যেদিন আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে মেরেছেন। তার সম্মানার্থে আমরা রোজা রাখি। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমরা তোমাদের চেয়েও হজরত মুসা (আ.)-এর বেশি নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ -সহিহ মুসলিম : ২৫৪৮

তাই ফজিলতপূর্ণ ঐতিহ্যের এই আশুরাকে শুধু কারবালা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা মূর্খতা।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলমানদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন মুসলিম নারী। শাবানা মাহমুদ নামের ওই মন্ত্রী পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন।

এ ছাড়া আরও দুই মুসলিম নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের অন্যতম হলেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের ‘সিটি মিনিস্টার’ হন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ।

মুসলিম নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে ২০১৯ সালে ১৯ জন এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ২৫ জন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছে। ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম এমপি এবারই নির্বাচিত হলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জন লেবার পার্টির, চারজন স্বতন্ত্র, দুজন কনজারভেটিভ পার্টির এবং একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের।

মুসলিম নেটওয়ার্কের দাবি, গাজার প্রতি মুসলিম ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। ফলে চারজন মুসলিমসহ পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

তারা মোট ৬৫০ এমপির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে মুসলিমরা যেহেতু ব্রিটেনের জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশ, তাই হাউস অফ কমন্সে মুসলিমদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও ১৭ জন এমপি দরকার।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ইসলামি মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মাসুদ শাজারেহ বলেছেন, ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলমানরা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটেনে বেশি সংখ্যায় মুসলমানদের যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয় প্রায় এক শতাব্দী আগে। বর্তমানে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

মাসুদ শাজারেহ সম্প্রতি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়েছে মুসলমানরা। এটাকে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মুসলমানদের অসন্তোষের কারণে ব্রিটিশ লেবার পার্টি কয়েকটি আসন হারিয়েছে। এই প্রভাব ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলের মতো আরও সংগঠন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের সংগঠনের উপস্থিতি মুসলমানদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে তা মানুষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

গত ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে লেবার পার্টি পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তবে গাজায় নির্বিচার গণহত্যার ব্যাপারে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল মুসলমানেরা। তারা নির্বাচনে নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ব্রিটিশ জনগণ দেশটির খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দখলদার ইসরায়েলের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সরকারের সমর্থনের প্রতিবাদে ভোট দিয়েছে। এর অর্থ হলো, লেবার পার্টি বিজয় পেলেও সেটা তার নিজের নীতির কারণে পায়নি বরং বিরোধী দলের অপছন্দনীয় কিছু কাজ ও নীতির কারণে মানুষ বিদ্যমান বিকল্প ধারাটিকে বেছে নিয়েছে।

;

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে যারা অংশ নিলেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পবিত্র দুই মসজিদের সেবক ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের পক্ষ থেকে মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ এবার পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সকালে কাবা শরিফ ধোয়া হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, মক্কার ডেপুটি গভর্নর মসজিদে হারামে পৌঁছলে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মসজিদে হারামের পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

এবার কাবা শরিফ ধোয়ার কাজে অংশ নেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ, সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া, হারামাইন পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ইসা, কাবার চাবি রক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শায়বি, মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ অনেকেই।

জমজমের পানি ও গোলাপজল মিশ্রিত বিশেষ পানি দিয়ে কাবা শরিফ ধৌত করার পর ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা হয়।

কাবা শরিফের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। ওইসব পর্দা প্রতি তিন বছর পর পর পরিবর্তন করা হয়। এর ছাদে ১২৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১০৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। যা দিয়ে ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে।

এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা। প্রতিবছর কাবা শরিফের ভেতর ধৌত করার সময় এ কাচ খোলা হয়। এবারও কাচটি খোলা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজ শেষে বেরিয়ে আসছেন মক্কার গভর্নরসহ অন্যরা, ছবি: সংগৃহীত

মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্য চলে আসছে। অষ্টম হিজরিতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ধৌত করেন। ইসলামের সম্মানিত খলিফারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের পর থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রথা চালু রয়েছে। আগে বছরে দুবার পবিত্র কাবা ঘর ধোয়া হতো। প্রথমবার মহররম মাসে, দ্বিতীয়বার রমজান মাস শুরুর আগে।

ধোয়ার সময় পবিত্র কাবাকে ঘিরে রাখে স্পেশাল ইমারর্জেন্সি ফোর্স ও হজ সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। তখন দূর দিয়ে তাওয়াফ করেন মুসল্লিরা।

পবিত্র কাবা ধোয়ার পর এ কাজে নিয়োজিতরা হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন শেষে কাবা তাওয়াফ ও মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র কাবা ধোয়াকে সৌদি সরকার সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা একটা উৎসবও বটে। উপস্থিত তাওয়াফকারীরা এ সময় আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

;

ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুরার দিবসের একটি বিশেষ দিক আছে। মানুষের অজ্ঞতা কিংবা উদাসীনতার ধরুন অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। দিকটি হলো, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।

হাদিস শরিফ ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার চোখে দেখে। খ্রিস্টানরা আশুরার দিনকে হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ তবে আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। -হাকেম : ৪১৫৫

অন্যদিকে মূর্তি পূজারি আরবদেরও দেখা গেছে যে তারা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিত। জাহেলি যুগে মক্কার কাফেররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখত। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। -সহিহ বোখারি : ১৫৯২

এসব বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

আশুরার দিনে আমল হিসেবে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, রোজা রাখা। এ আমলটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরা উপলক্ষে দুই দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। মহররমের ১০ তারিখের আগে বা পরে এক দিন বাড়িয়ে রোজা রাখার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি আমল বর্ণনা সূত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো, আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে, সে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ -বায়হাকি : ৩৭৯৫

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা আছে। তবে ইবনে হিব্বানের মতে, এটি ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের হাদিস। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর দাবি, রিজিকে প্রশস্ততার ব্যাপারে কোনো হাদিস নেই। এটি ধারণাপ্রসূত। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ হাদিস নয়। তবে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে ‘হাসান’ হওয়া অস্বীকার করা যাবে না। আর ‘হাসান লিগাইরিহি’ পর্যায়ের হাদিস দ্বারা আমল করা যায়। -আস সওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রফজি ওয়াদ দালাল ওয়াজ জানদিকা : ২/৫৩৬

তৃতীয়ত, আরেকটি আমল যুক্তিভিত্তিক প্রমাণিত। তা হলো, আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের শাহাদাতের কারণে তাদের জন্য দোয়া করা, দরুদ পড়া ও তাদের কাছ থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা। এই তিনটি কাজ ছাড়া আশুরায় অন্যকোনো আমল নেই।

স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে। প্রাক-ইসলামি যুগেও মহররমের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের অসংখ্য কালজয়ী ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুণ্যময় এ মাস। আর কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রচিত হয়েছে শোকাভিভূত এক নতুন অধ্যায়। কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই আশুরার একমাত্র ও আসল প্রেরণার উৎস নয়। বরং সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসা সত্যাশ্রয়ী মহামানবদের দ্বারা লালিত সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যুক্ত যবনিকা বলা যেতে পারে এ ঘটনাকে।

;

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

আশুরায় তওবা-ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ কিছু সময় ও মৌসুম দিয়েছেন, যে সময়ে বান্দা অধিক ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজ করে সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুমিনের জন্য এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। অতীতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় গোনাহসমূহ মার্জনা করানোর সুবর্ণ সুযোগ বটে। এই বরকতময় সময়ের মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, ‘মহররম ও আশুরা’।

এক সাহাবি নবী কারিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি কোন মাসে রোজা রাখতে বলেন? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি যদি রমজানের পর রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমে রোজা রাখো। কেননা মহররম হচ্ছে আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন এক দিন আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা (অতীতে) অনেকের তওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিজি : ৭৪১

আলেমদের অভিমত হলো, এই হাদিসে যে দিনের দিকে ইশারা করা হয়েছে- খুব সম্ভব সেটি আশুরার দিন।

ইসলামের বিধানে তওবা-ইস্তেগফার যেকোনো সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে কিছু কিছু সময় এমন রয়েছে, যখন তওবার পরিবেশ বেশি অনুকূল হয়। বান্দার উচিত সেই প্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোর কদর করা। মহররমের এ মাসটি, বিশেষ করে ১০ তারিখ- এমনই এক মোক্ষম সময়। এদিনে তওবা কবুল হওয়া, নিরাপত্তা এবং অদৃশ্য সাহায্য লাভ করার কথাও রয়েছে। এ জন্য এ সময়ে এমন সব আমলের প্রতি মনোনিবেশ করা উচিত, যাতে আল্লাহর রহমত বান্দার দিকে আরও বেশি ধাবিত হয়।

তওবা-ইস্তেগফারের জন্য সবথেকে উত্তম হলো, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত ইস্তেগফার বিষয়ক দোয়াগুলো বুঝে বুঝে মুখস্থ করা। সেই দোয়াগুলোর মাধ্যমে রাব্বে কারিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তবে নিজের ভাষায় নিজের মতো করে ইস্তেগফার করলেও ঠিক আছে। কারণ আল্লাহতায়ালা সব ভাষারই স্রষ্টা। তিনি সবার কথা বুঝেন। সবার আরজি কবুল করেন।

;