ব্রিটেনের নির্বাচনে গুরুত্ব বাড়ছে মুসলিম ভোটারদের

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্রিটেনের ভোটকেন্দ্র, ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনের ভোটকেন্দ্র, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন। দেশজুড়ে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সারা ব্রিটেনে চলছে প্রচারাভিযান। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে সরগরম সংবাদ মাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়া। এরই মধ্যে নির্বাচনে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। যা প্রার্থীদের ইমেজকে দারুণভবে ক্ষুণ্ন করেছে।

ব্রিটেনের বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইহুদিবিদ্বেষের কারণে লেবার পার্টিকে ইহুদিদের ভোট টানতে সমস্যায় পড়তে হবে। ঠিক একইভাবে কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগের কারণে তাদেরও মুসলিমদের ভোট পেতে অসুবিধা হবে। যদিও ইসলামবিদ্বেষের জন্য ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

অন্যদিকে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগে এক সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করেছে স্কটিশ কনজারভেটিভ পার্টি। গ্লাসগোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া প্রার্থী ফ্লোর স্কারাবেলোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে দলটি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে সদস্যপদ স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি নির্বাচনে ৮টি দল অংশ নিচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নির্বাচন উপলক্ষে ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এবারের নির্বাচনে অন্তত ৩১জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হতে যাচ্ছেন। যে ৩১টি আসন মুসলিমদের দখলে আসতে পারে সেগুলোর ১৪টি করে লেবার ও কনজারভেটিভের এবং বাকি তিনটি এসএনপির।

তবে ব্রিটেনে মুসলমানদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনস (এমসিবি)’ আসন্ন নির্বাচনের নির্দলীয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এমসিবি জানিয়েছে, তারা মুসলিম ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্ধুদ্ধ করতে কাজ করবে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা অনুসারে, বর্তমানে ব্রিটেনে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এমতাবস্থায় ৩১ আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার পূর্বাভাস রাজনীতিতে মুসলমানদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত।

২০১৫ সালে ব্রিটেনের ৫৬তম সাধারণ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেবার নির্বাচনে ২৪ মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৩ জন বিজয়ী হন। বিজয়ীদের মধ্যে আবার ৮ জনই ছিলেন নারী। ১৩ জনের ৯ জন নির্বাচিত হন বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে। আর সরকারি দল কনজারভেটিভ থেকে নির্বাচিত হন ৩ জন। বাকী আসনটি স্কটিশ দল এসএসপির।

নির্বাচন শেষে এক জরিপে বলা হয়, শুধু ১৩ প্রার্থী বিজয়ী নয়; ২০১৫ সালের নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা প্রায় ৩২টি আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এবার প্রার্থী দিয়েছে দলগুলো।

এর আগে ২০১০ সালের নির্বাচনে ৮ জন মুসলিম প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

-দ্য মুসলিম নিউজ অবলম্বনে

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর