ব্যায়াম নয়, নামাজ আদায় করতে হবে ইবাদত হিসেবে

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবায় নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবায় নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি নামাজ সম্পর্কে গবেষণা করেছেন আমেরিকার বিংহেম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গবেষণার ফলাফলে বলেছেন, দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও প্রভূত উপকৃত হতে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।

গবেষকরা বলেছেন, নামাজের সময় শারীরিক যে ক্রিয়া হয়ে থাকে এটা যদি নিয়মিতভাবে ও নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় তবে অন্য সব চিকিৎসা থেকে পিঠের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করবে। শারীরিক এ উপকার ছাড়াও নামাজ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। এ সম্পর্ক মানুষের আত্মাকে প্রশান্ত করে তোলে। নিয়মিত নামাজ শরীরের ওপর ঝিম ঝিম প্রভাব কমায়, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। পরিণামে দেহের পেশি শিথিল হয় এবং স্বাভাবিক থাকে।

বিংহেম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, যদি কেউ ঠিক মতো রুকু করতে পারেন তাহলে তার পিঠে কোনও ব্যথা থাকবে না। কেননা রুকুর সময় পিঠ সমান হয়ে থাকে।

আলোচ্য গবেষণায় মূলত নামাজ আদায় করলে শারীরিক যেসব উপকার হবে সে বিষয়গুলোই বড় করে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, রুকু পিঠ, উরু এবং ঘাড়ের পেশিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত এবং উদ্দীপ্ত করে। রক্ত শরীরের ওপরের অংশে প্রবাহিত হয়। সিজদা দিলে হাড়ের জোড়ার নমনীয়তা বাড়ে। মাথা নামানোর সময় মস্তিকে রক্ত সঞ্চালন হলে রক্তচাপ কমে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। সিজদা শরীরের ভারসাম্য আনে।

তবে এটা সত্য যে, নামাজ শারীরিক উপকারের জন্য আদায় করতে হয় না। নামাজ আদায়ের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহতায়ালার আদেশ পরিপালন এবং তাকওয়া ও তার নৈকট্য অর্জন।

বলে রাখা ভালো, নামাজ আদায়ের আগে সব নামাজিকে পাক-পবিত্র হওয়ার জন্য অজু করতে হয়। অজু ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। নামাজ আদায়ের আগে তাই অজুর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আর দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়ষ্ক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ। কেউ এক ওয়াক্ত নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে তার কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসলে ইসলামের প্রত্যেকটি কাজের বিজ্ঞানভিত্তিক যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব বিদ্যমান। এর প্রতিটি হুকুম-আহকাম মানুষের বৃহত্তর কল্যাণে নির্দেশিত। নামাজেও এর ব্যত্যয় নেই। তাই মানবদেহে নামাজের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক অভিসন্দর্ভের জন্য বিংহেম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটিকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে শারীরিক প্রয়োজনের জন্য নামাজ ফরজ করা হয়নি, এটা আসলে ইবাদত। মহামহিম স্রষ্টার তরে আত্মসমর্পণ আনুগত্য প্রকাশ ও কল্যাণের জন্য। এই দৃষ্টিতেই নামাজকে দেখা হয় এবং দেখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। আমরা আল্লাহর হুকুম পালনার্থে নামাজ আদায় করি। স্বাস্থ্য রক্ষা কিংবা অন্যকোনো উদ্দেশ্য নেই তাতে। আল্লাহতায়ালার সঙ্গে বান্দার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো- নামাজ। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ৮২ বার হুকুম দিয়েছেন নামাজ প্রতিষ্ঠার জন্য।

নামাজ যারা পড়ে তারা আল্লাহর ভয়ে, আল্লাহর ভালোবাসায় পড়ে। কিয়ামতের দিন বান্দার সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। নামাযের হিসাব সঠিক হলে তার সমস্ত জবাব সঠিক হবে, আর নামাজের হিসাব বেঠিক হলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হবে। -আবু দাউদ

ঈমানের পর পরই নামাজের হুকুম, নামাজ যে পড়ে সেই মুসলমান। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে যে নামাজ পড়তো না, তাকে মুসলমান বলা হতো না। নামাজ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তুমি যখন নামাজে দাঁড়াও তখন মনে করো যে, তুমি আল্লাহকে দেখছ; আর আল্লাহ তোমাকে দেখছে। তুমি যদি আল্লাহকে নাও দেখো তবে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ’

অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নামাজি তার নামাজ আদায় করে। নামাজি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে এক মন, এক ধ্যানে নামাজের আদব-কায়দা রক্ষা করে। পবিত্র দেহ ও মনে আল্লাহর জিকির-আজকার ও আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে সর্বদা আল্লাহমুখী থাকে, এদিক-সেদিক তাকায় না। নামাজের সময় দুনিয়াবী সব খেয়াল থেকে সে পরিপূর্ণ মুক্ত থাকে, এভাবে নামাজি তার একনিষ্ঠ চেষ্টা-সাধনাসমৃদ্ধ নামাজের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে যায়। নামাজি হয়ে উঠে আল্লাহপ্রেমিক। এমন নামাজি তার প্রতিটি কাজেকর্মে শুধু আল্লাহর পথ তালাশ করে। কামনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি। হৃদয়ে অনুভব করে অনুপম প্রশান্তি আর বেহেশতি সুবাস।

আপনার মতামত লিখুন :