মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা চলছে, মোনাজাত রোববার



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের ভিড়, ছবি: সংগৃহীত

ইজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের ভিড়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

টঙ্গী (গাজীপুর) থেকে: নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দিল্লি নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ অনুসারীদের (এতায়াতি) বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। আলমি শুরার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার চার দিন পর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বাদ ফজর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এই ইজতেমা শুরু হয়। 

রোববার (১৯ জানুয়ারি) জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমা। ইজতেমায় হেদায়েতি বয়ান ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন নিজামুদ্দিনের মাওলানা জামশেদ।

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজকদের অন্যতম, তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের আহলে শুরা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও ইজতেমায় আসছেন না। তবে নিজামুদ্দিন মারকাজের পক্ষ থেকে ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইজতেমায় এসেছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ইজতেমা।

ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার প্রকৌশলী শাহ মহিবুল্লাহ জানান, মাঠে বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকে বয়ান শুরু হয়েছে। শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ান করেন দিল্লির মুফতি ওসমান ও মুফতি আসাদুল্লাহ সুলতানপুরি। শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত জুমার নামাজে ইমামতি করেন বংলাদেশের মাওলানা মোশারফ। জুমার আগে সালাতুত তাসবিহ ও ফাজায়েল বিষয়ে বয়ান করেন মুফতি ফয়জুর রহমান।

আলমি শুরার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ইজতেমার তুলনায় এই ইজতেমায় লোক সমাগম বেশ কম। তবে জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা বাড়ে। জুমার নামাজে অংশ নেন- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রো পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন ও চট্টগ্রাম লালখান বাজার মাদরাসার মুহতামিম মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বাদ জুমা ময়দানে আম বয়ান করেন নিজামুদ্দিনের মুফতি চেরাগ আলী। বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের খান মো. শাহাবুদ্দিন নাসিম ও বাদ মাগরিব নিজামুদ্দিনের মাওলানা আবদুস সাত্তার।

প্রথা অনুযায়ী ইজতেমার মূল বয়ান উর্দুতে হলেও ইজতেমায় আগত বিভিন্ন দেশের-ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ইজতেমার বয়ানে আলেমরা বলেন, দাওয়াতের মেহনত হলো নবুওয়তি মেহনত। এই মেহনত খুলুসিয়াত (একনিষ্ঠতা) ও আজমতের (গুরুত্বের) সঙ্গে যারা পালন করবে, তাদের যেকোনো আমলের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। বয়ানে তাবলিগের ছয় উসুল (মূলনীতি) ঈমান, নামাজ, ইলম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, সহিহ নিয়ত ও দাওয়াতে তাবলিগ সম্পর্কে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও উদ্দীপনামূলক আলোচনা করা হয়। তাবলিগের কাজের স্পৃহা বাড়াতে বিভিন্ন ঘটনা শুনানো (কারগুজারি) হয়।

জুমাপূর্ব বয়ানে বলা হয়, পরকালের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যককে দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে জানমাল দিয়ে মেহনত করতে হবে। ঈমান আমলের মেহনত ছাড়া কেউ হাশরের ময়দানে কামিয়াব হতে পারবে না।

ইজতেমার মাঠের নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তায় ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৯ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ইজতেমা ময়দান সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদ্যরা পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ছাড়াও মেটাল ডিটেক্টর, ফুটপেট্রল, মোবাইল পেট্রল ও চেকপোস্টসহ পোশাকে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ইজতেমা ময়দানের ভেতরে এবং বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন। ইজতেমায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। রয়েছে ইজতেমা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সদস্যরা। তারাও লাঠি হাতে মাঠের প্রবেশপথগুলোতে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। মাঠের বিভিন্ন পার্শ্বে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প।

তিন মুসল্লির মৃত্যু: ইজতেমায় যোগ দিতে আসা এক মুসল্লি বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন। তার নাম কাজী আলাউদ্দিন (৬২)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার থানার চানপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে। এদিকে ইজতেমায় আসার পথে টঙ্গীতে বুধবার রাতে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই মুসল্লি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে টঙ্গী স্টেশনে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার টেংরাকান্দি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে গোলজার হোসেন (৪০) এবং মন্নু নগর এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় কাভার্ডভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে নরসিংদীর বেলাবো থানার বীরবাগদে গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬০) মারা যান।

বিদেশি মুসল্লি: পুলিশের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়িছে, ইজতেমায় শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ৩৩টি দেশের প্রায় এক হাজার ৯ শ’র মতো মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। বিদেশি মুসল্লিদের বৃহৎ একটি অংশ ভারত থেকে আসা। বয়ানের মঞ্চের পেছনে (ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে) বিদেশি মুসল্লিদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মোবাইল চার্জের অস্থায়ী দোকান: ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের জন্য হোন্ডা রোড, ভরান মাজার বস্তি, টঙ্গী বাজার, আশরাফ সেতু মার্কেট, ষ্টেশন রোড, কামারপাড়া রোড, নিউ মন্নু টেক্সটাইলস মিলস, নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস, মিলগেট এলাকায় মোবাইল চার্জের একাধিক দোকান দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানে ২০ টাকায় স্মার্টফোন ফুল চার্জ, আর ১০ টাকায় বাটন ফোন ফুল চার্জ করা হয়।

শনিবারের কর্মসূচি: বাদ ফজর পাঁচ কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বয়ান করেন নিজামুদ্দিনের ভাই মুরসালিন। বাদ জোহর মাঠে আম বয়ান করবেন দিল্লির মুফতি রিয়াসত, বাদ আসর বাংলাদেশের মাওলানা মোশাররফ হোসেন ও বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা জামশেদ।

ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ১০টায় আলেম-উলামাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার ময়দানে বয়ানের মিম্বরে এই বয়ান অনুষ্ঠিত হবে ছোট মাইকে। তখন মাঠের মাইক বন্ধ থাকবে। আলেমদের বয়ান চলাকালে ময়দানে তালিমের আমল চলবে। এই বয়ান চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

আলেমদের উদ্দেশ্য আজ বয়ান করবেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা আব্দুস সাত্তার। বয়ানটি উর্দু ভাষায় হবে। এর কোনো বাংলা তরজমা করা হবে না।

   

সিলেটে শবে বরাতের রাতে দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের ভিড়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। ইবাদত-বান্দেগীর মধ্য দিয়ে পবিত্র এই রাতটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রতিবারের ন্যায় এবারো পবিত্র শবে বরাতে সিলেটের দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকেই সিলেটে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের হাজার হাজার মুসল্লী জড়ো হতে থাকেন। কেউ নফল নামাজ পড়ছেন কেউবা ওলির মাজার জিয়ারত করছেন।

জানা যায়, প্রতি বছরেই শবে বরাত উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসেন সিলেটের এই দুই ওলির মাজারে। এবারও এসেছেন তারা। এক মাজার থেকে আরেক মাজারে যাচ্ছেন এবং মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

সরেজমিনে রোববার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান রহ. মাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাজারে প্রবেশের প্রতিটি গেইটে মুসল্লিদের উপস্থিতি। একদিকে মুসল্লিরা প্রবেশ করছেন অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাজার মসজিদে ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পার্শ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকে।

শবে বরাত রাতকে কেন্দ্র করে মাজারের বাইরের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের টুপি, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর গোলাপজল, তাসবীসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও মাজারের প্রবেশপথগুলোতে সারিবদ্ধ ভিক্ষু ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমান। ঝুলি নিয়ে বসে থাকা ভিক্ষুকদেরকে মাজারে আসা লোকজনও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থকরী দান করেন।

;

কটিয়াদীতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে শবে বরাত



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র শবেবরাত পালিত হয়েছে।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শবে বরাত উপলক্ষ্যে মসজিদে মসজিদে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ কটিয়াদীর কেন্দ্রীয় মসজিদ কলামহাল জামে মসজিদে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে৷  কবরস্থানগুলোয় ছিল মুসল্লিদের ভিড়। 

নামাজ শেষে মানুষ আত্মীয়স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া দরুদ পাঠ ও তাদের জান্নাত নসিব করার জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো মসজিদে মুসল্লিতে ভরপুর ছিল৷ 

হিজরী বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাত ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত।

মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীরা যার যার ঘরেও রাতভর মগ্ন ছিলেন ইবাদত বন্দেগিতে। অনেকে নফল রোজা রেখেছেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সওয়াব হাসিল আর গুনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার রাত হিসেবে শবে বরাতের মর্যাদা অতুলনীয়। তাই নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, ইবাদত বন্দেগি, জিকির-আসকার, করব জিয়ারত আর বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ফজিলতের এই রাত পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। 

বিশেষ মোনাজাতে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। দেশের সুখ সমৃদ্ধি উন্নতি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ কামনা করে মসজিদগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নেন।

মিলাদ মাহফিলে নামাজ, রোজা ও শবে বরাতের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। মসজিদের বাইরেও বিভিন্নস্থানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজন ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের। এশার নামাজের পর মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে রাতভর নফল নামাজ ও আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফ চেয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছেন।

;

পবিত্র শবে বরাত রোববার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পবিত্র শবে বরাত রোববার

পবিত্র শবে বরাত রোববার

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামীকাল রোববার (২৫ ফেব্রুযারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুুটি থাকবে।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর কিছু দিন পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। এ প্রেক্ষিতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরম করুণাময় সকল সংঘাত-সংকট থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন।’

রাষ্ট্রপতি পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী উল্লেখ করে এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

অপর এক পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র শবেবরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র শবেবরাত রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র শবে বরাত ১৪৪৫ হিজরি উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার এ উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ‘পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ‘পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন মাদারীপুর জামেআতুছ সুন্নাহ শিবচরের মুহতামিম হযরত মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ ফরিদী।

রোববার দিবাগরাত সাড়ে ১২টায় ‘আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলীর শাহাজাদ লেন জামে মসজিদের খতীব শায়খুল হাদিস মুফতী নজরুল ইসলাম কাসেমী। আর রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে ‘নফল নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর সাড়ে ৫ টায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন।

মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

;

বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তিতে সম্মাননা পেলেন বিশিষ্ট লেখকরা



নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামি ধারার সৃজনশীল প্রকাশনী বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী। মাসউদুল কাদির ও শেখ মুহাম্মদ রিয়াজের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাসিক মুসলিম নারী পত্রিকার সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল।

ক্বারী ইলিয়াস লাহোরীর তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। ফাঁকে ফাঁকে হামদ- নাত ও ইসলামি সংগীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে অনুষ্ঠান।

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. অ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ছাড়াও সংবর্ধিত লেখকরা বক্তব্য দেন। তারা লেখালেখি ও প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। জাতির ক্রান্তিকালে লেখকদের একতাবদ্ধ হয়ে লেখালেখি করার আহ্বান জানান বক্তারা। প্রকাশকদের উদার মনে লেখকদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

ইসলামি ও মৌলিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন: মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, মুফতী মুবারকুল্লাহ, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাসুদ মজুমদার, নূরুল ইসলাম খলিফা, অধ্যাপক এম. মুজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, আবদুল কাদির সালেহ, আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, ফরীদ আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ড. মুহাম্মদ সোলায়মান, মুহাম্মদ এনায়েত আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, ড. সালেহ মতীন, মো. শরীফ হোসেন, ড. মুহাম্মদ নুরউদ্দিন কাওছার, মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ মনজুরে মাওলা, শেখ মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. খায়রুল হাসান, জহির উদ্দিন বাবর, মাওলানা মুনীরুল ইসলাম, আইয়ূব বিন মঈন, মাসউদুল কাদির, মুফতী ফারুক আহমাদ, মুফতী মাহফূযুল হক, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, কাজী সিকান্দার, সাইফুল হক।

অনুবাদ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় উৎসাহ প্রদানে সম্মাননা পেলেন মুফতী আবু সাঈদ, মুফতি আবু উসায়মা আখতার, মুফতী আমিনুল ইসলাম আরাফাত, মুফতী শরীফুল ইসলাম, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ, মুফতী আশরাফ আলী, মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয় মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. (মরণোত্তর), এমদাদিয়া লাইব্রেরীর আব্দুল হালিম ও ইসলামিয়া কুতুবখানার মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে বই পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে পবিত্র ওমরার ব্যবস্থা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ল্যাপটপ ও তৃতীয় বিজয়ীকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৪০ জন বিজয়ী পুরস্কার লাভ করেন। বই পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মোস্তাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় খুলনার উম্মে হাবিবা এবং তৃতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইশতার জাহান। অনুষ্ঠানে কাজী সিকান্দার রচিত ‘লেখক হওয়ার ব্যাকরণ’ এবং মো. শরীফ হোসেন রচিত ‘চিন্তাগুলো যাক ছড়িয়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের লেখক ও পাঠকদের পক্ষ থেকে ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রকাশনাটির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

;