আলজেরিয়ায় মসজিদ থেকে কোরআন তেলাওয়াত প্রচার করা হচ্ছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আলজেরিয়ার একটি মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়ার একটি মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় রমজান উপলক্ষ্যে কারোনাকালীন বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। বেশকিছু প্রদেশে কারফিউ শুরুর সময় বিকেল ৩টা থেকে পিছিয়ে বিকেল ৫টা করা হয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আলজেরিয়ায় ১৭ মার্চ থেকে মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং রমজানেও বন্ধ থাকবে। আলজেরিয়ার ফতোয়া কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আবির মাশনান জানিয়েছেন, রমজানে কোরআন তেলাওয়াত এবং ধর্মীয় বক্তৃতা মসজিদ থেকে সম্প্রচার করা হবে। কোনো ধরনের জমায়েত ও আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না।

ওই ঘোষণা মোতাবেক দেশটির সকল মসজিদ বন্ধ রয়েছে। তবে নিয়মিত আজান হচ্ছে সেই সঙ্গে লাউডস্পিকারে কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে ধর্মীয়, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক বক্তৃতাও প্রচার করা হচ্ছে সময়ে সময়ে।

স্থানীয় ইমামরা অনলাইনে ধর্ম, রোজার মাসয়ালাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে বক্তৃতা প্রচার করছেন। বক্তব্যে তারা আলজেরিয়ার নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘরে বসে আল্লাহর ইবাদত, তওবা-ইস্তেগফার এবং তারাবির নামাজ আদায় করতে বলছেন।

বিশ্বের আরও অনেক দেশে মসজিদ বন্ধ। তবে মসজিদ থেকে শুধু আজান দেওয়া হয়। কিন্তু আলজেরিয়ার এই উদ্যোগ একেবারেই নতুন। এমন উদ্যোগ আর কোনো দেশ গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে আলজেয়ার ফতোয়া কমিটির বক্তব্য হচ্ছে, মসজিদের ইমামরা সমাজের ব্যাপকভাবে প্রস্তার বিস্তার করেন। তাই তাদেরকে সমাজ সচেতনতার কাজে লাগানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে রমজানে মানুষ ধর্মোপদেশ শুনতে পাচ্ছে। আমার চাচ্ছি, মানুষ উপকৃত হোক।

সাহারা মরুভূমির দেশ আলজেরিয়া। আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে ভূমধ্যসাগরের তীরের একটি স্বাধীন দেশ। এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। মোট আয়তন ২৩,৮১,৭৪১ বর্গকিলোমিটার (৯,১৯,৫৯৫ বর্গমাইল)।

মোট জনসংখ্যা চার কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৮। এর মধ্যে ৯৭.২৫ শতাংশ মুসলিম আর ২.৭৫ শতাংশ ইহুদি ও খ্রিস্টান।

১৯৯০ সালে আরবিকে সরকারিভাবে আলজেরিয়ার জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বেশিরভাগ আলজেরীয় প্রচলিত কথ্য আরবি ভাষার একাধিক উপভাষার কোনো একটিতে কথা বলেন। বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক প্রমিত আরবি ভাষা শেখানো হয়।

উমাইয়া খেলাফত আমলে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মধ্যভাগে বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি ওকবা বিন নাফির নেতৃত্বে এ অঞ্চল প্রথম মুসলিমদের হাতে আসে। এ সময় আরব মুসলিমরা উত্তর আফ্রিকা জয় করে এ অঞ্চলে ইসলাম ও আরবি ভাষার প্রচলন করেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই এ জনপদের প্রধান ধর্ম ইসলাম এবং ভাষা হিসেবে আরবির ব্যাপকতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।