সমাজে শান্তি নিশ্চিতের জন্য রয়েছে ইসলামের বিধান

মুফতি মাহফূযুল হক, অতিথি লেখক, ইসলাম
সমাজে শান্তি নিশ্চিতের জন্য রয়েছে ইসলামের বিধান, ছবি: সংগৃহীত

সমাজে শান্তি নিশ্চিতের জন্য রয়েছে ইসলামের বিধান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি রমজানের ৭ম তারাবিতে তেলাওয়াত করা হবে সূরা আনফালের ৪১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা তওবার ৯৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। আজকের তারাবিতে তেলাওয়াতকৃত প্রায় পুরো অংশেই রয়েছে জিহাদ প্রসঙ্গ। জিহাদের গুরুত্ব, নির্দেশ, পুনঃনির্দেশ এবং এর বেশ কিছু বিধান আসবে আজকের তারাবির তেলাওয়াতে।

বর্তমানে জিহাদ সবচেয়ে স্পর্শকাতর জটিল একটা বিষয়। ভিন্নধর্মাবলম্বীরা জিহাদকে ভয় করে, জিহাদমুক্ত ইসলাম মেনে নিতে প্রতিশ্রুতি দেয়। জিহাদবিহীন মুসলিমদের সাথে তাদের যতসব সখ্যতা। আবার মুসলিমরাও জিহাদকে ভয় করে, জিহাদমুক্ত ইসলাম নিয়ে শান্তিতে থাকতে চায়। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, ইনিয়ে-বিনিয়ে জিহাদকে অনুল্লেখ রাখতে চায়। অথচ জিহাদ ইসলামের, কোরআনের ও নবী জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ।

আজকের তারাবিতে তেলাওয়াতকৃত অংশের অনেকগুলো আয়াতই রণাঙ্গনে নাজিল হয়েছে। সে সব আয়াতের উদ্দেশ্য ও নির্দেশ বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট আয়াত নাজিলে প্রেক্ষিত-প্রেক্ষাপট ভালোভাবে অনুধাবন করতে হবে। না হলে ভুল বুঝার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামবিরোধীরা এ সব আয়াত অবতরণের প্রেক্ষিত অনুল্লেখ করে সরাসরি আয়াতের অনুবাদ তুলে ধরে মানুষকে ইসলামের প্রতি অনাস্থাশীল করার চেষ্টা করে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিৎ জিহাদের আয়াতগুলোর অনুবাদ আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটসহ মিলিয়ে নবী জীবনকে সামনে রেখে অধ্যয়ন করা।

জিহাদ ইসলামের একান্তই নিজস্ব একটি পরিভাষা। গুরুত্ব বিবেচনায় জিহাদ ইসলামের সর্বোচ্চ মর্যাদার নেক আমল। আর তাই অনেক সময় অন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দরকারি আমলের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টির জন্য সে সব আমল উল্লেখের সময়ও জিহাদ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তবে তা জিহাদের রূপক অর্থ মাত্র।

ইসলাম নিছক কিছু প্রার্থনার সামষ্টিক বিধানের নাম নয়। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন বিধানের নাম। একটি সফল পূর্ণাঙ্গ কল্যাণকর রাষ্ট্রের যত ধরণের বিধি-বিধান প্রয়োজন সে সব বিধি-বিধান স্বতন্ত্রভাবে ইসলামেরও আছে।

যখন কোনো রাষ্ট্র তার মুসলিম নাগরিকদের নিগৃহীত করবে, জাতিগতভাবে নিধনে মেতে উঠবে, তাদের মৌলিক মানবিক অধিকারগুলো কেড়ে নেবে তখন সেই সব নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালায়, কূটনৈতিক সব তৎপরতা চালিয়েও নির্যাতনকারী রাষ্ট্রকে থামাতে ব্যর্থ হয় তখন মানবতাকে মুক্ত করার জন্য, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য, মুসলিমদের হেফাজত করার জন্য সেই উদ্যোগী মুসলিম রাষ্ট্র নির্যাতনকারী রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌ-বাহিনী দিয়ে হামলা করে তবে এ যুদ্ধ কেন অপরাধ হবে। এ যুদ্ধ তো অপরিহার্য।

আধুনিককালের সকল রাষ্ট্রেই স্বাধীনতা যুদ্ধের নিহতরা সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভূষিত হয়, জীবিত যোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। ইসলামও তা-ই করেছে। শহীদের সকল গোনাহ মাফ ঘোষণা করে তার জন্য বিনাহিসেবে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গাজী মুজাহিদদের দিয়েছে ঈর্ষণীয় সম্মান।

ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে ইসরায়েল রাষ্ট্র। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তারা ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন করে আসছে। কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ, আলোচনার সুফল আনতে পারেনি। মিয়ানমার নির্যাতন করে দেশ ছাড়া করেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমদের। তারা আজ উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে আমাদের দেশে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তৎপরতা আর আলোচনার টেবিল কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি। চীনের উইঘুরে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এখানেও কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ। এ সব নির্যাতিত জনপদের অধিবাসীদের উদ্ধারের জন্য যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের ঘোষণা দেয় মানবিক বিবেচনায়, সভ্যতার বিবেচনায়, বিবেকের আদালতে তা কেন অপরাধ হবে।

যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা, ঘোষণা ও পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া শান্তি বিরাজমান নিরাপদ ভূখন্ডের অধিবাসীদের ওপর কেউ যদি ইসলামের নামে সশস্ত্র আক্রমণ করে তাহলে এ দায় তো একান্তভাবেই তার নিজের। এ দায় তো ইসলামের নয়, এ দায় তো জিহাদের নয়।

সন্ত্রাস অপরাধ অবশ্যই। আবার সন্ত্রাসের নামে জিহাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা, জিহাদকে ঘৃণিত করার প্রয়াস চালানো আরও বড়ো অপরাধ।