রমজানের সওগাত



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
রমজানের সওগাত লাখে ধন্য হোক মুসলমি সমাজ, ছবি: সংগৃহীত

রমজানের সওগাত লাখে ধন্য হোক মুসলমি সমাজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাতের বার্তাবহ রমজান মাস নূরানি সওগাতে ভরপুর। বান্দা প্রাণভরে রমজানের নানা তোহফা বা উপহার পেয়ে ধন্য হয়। রোজা, তারাবি, ইতেকাফ ইত্যাদি হলো বান্দার জন্য রমজানের বিশেষ উপহার, যা বছরের অন্য সময় হাজারো চেষ্টা করেও পাওয়া যাবে না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফজিলত ও বরকতময় রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত সওয়াব ও কল্যাণে ভরপুর। রমজানের প্রতিটি ক্ষণ আমাদেরকে বার বার আমলে ও আখলাখে মশগুল হয়ে রমজানকে সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে পালন করার আহ্বান জানায়। আলস্য ও অহেতুক বসে বসে রমজান অতিবাহিত করলে মোবারক এই মাসের পরিপূর্ণ কল্যাণ ও সফলতা হাসিল করা সম্ভব হবে না, এই প্রেরণাও জাগায় মাহে রমজান।

রমজানের সঙ্গে আমল বা সুকর্মের সম্পর্ক সুনিবিড়। রমজান কানায় কানায় পূর্ণ আমলের পেয়ালায়। সারা দিন, সারা রাত আমলের বা সুকর্ম করার অবারিত সুযোগ উন্মোচিত হয় মাহে রমজানে।

আর এ কথা তো অতীব সত্য যে, আমল বা সুকর্মই হলো প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্য। এজন্যই আমলের কথা বা সুকর্মের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন ও দৃষ্টান্ত পবিত্র কোরআনে বার বার উল্লেখিত হয়েছে। বহু জাতির উত্থান-পতনের ঘটনাসমূহের মাধ্যমে মানব জাতিকে সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সূরা ও অধ্যায়ে। যাতে মানুষ শিক্ষা লাভ করে সরল, সঠিক, অভ্রান্ত পথ অনুসরণ করে কল্যাণ ও সফলতার মঞ্জিলে মাকসুদে পৌঁছাতে পারে।

কারণ, কোরআন হলো উপদেশ ও হেদায়েত। কিন্তু সেই উপদেশ, হেদায়েত, সঠিক পথের দিশা বিনা চেষ্টা ও শ্রমে পাওয়া যাবে না। গভীর চর্চা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে শিখতে হবে ও আত্মস্থ করতে হবে পবিত্র কোরআনের আলোকিত, শাশ্বত শিক্ষাগুলো।

পবিত্র ঐশী গ্রন্থের শিক্ষাগুলো গ্রহণ করার জন্য মুসলমানগণ উদ্যোগী না হলে উপদেশ, হেদায়েত, সঠিক পথের দিশা তথা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের মূলমন্ত্র কেমন করে পাওয়া সম্ভব হবে? পরিশ্রম ও চেষ্টা ছাড়া তো কিছুই শেখা বা পাওয়া যায় না। নিজেকে উন্নত, সুশিক্ষিত, সফল ও কল্যাণমণ্ডিত করতে হলে নিরন্তর চেষ্টা ও চর্চা করতে হবে। মাহে রমজান সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনের সূরা রাদের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালা সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ওই পর্যন্ত কোনও জাতির (ভাগ্য/অবস্থা) পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের (ভাগ্য/অবস্থা) পরিবর্তন করে।’

অতএব নিজের ভাগ্য/অবস্থা বদলের জন্য নিজে সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করে কাজে নেমে গেলেই সফলতা আসবে। অলস ও অকেজো বসে থাকলে সফলতা কস্মিনকালেও আসবে না। রমজানে সেই সুকর্ম ও আমলের প্রশিক্ষণ নিয়ে সারা বছর সুপথে থাকার শপথ নেওয়াই প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের জরুরি কর্তব্য।

আমাদের সামনে দিয়ে রহমত, বরকত, মাগফেরাত, নাজাতের মহিমান্বিত মাস রমজান চলছে, আমরা বসে থাকলে, এ মাসের ফজিলতগুলো কেমন করে হাসিল করবো? আলস্য, হতাশা, বিমুখতার কারণে অচল, অকর্মণ্য হয়ে বসে থাকলে রমজানের সীমাহীন সুযোগ ও সওয়াবের অংশীদার হওয়া কেমন করে সম্ভব হবে?

রমজানের পবিত্র ও মূল্যবান সময়ে প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজের কর্ম ও তৎপরতা সম্পর্কে আত্মসমীক্ষা ও আত্মসমালোচনা করা। নামাজ, রোজা, তেলাওয়াতের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং সঠিক কাজের ধারায় সঠিক পথে চলার মাধ্যমে ইহ ও পারলৌকিক সফলতা হাসিলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।