দুই ফুটবল তারকার রমজান উদযাপন

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তারকা ফুটবলার ওজিল ও মাহমুদ আহমেদ হাসান ইবরাহিম, ছবি: সংগৃহীত

তারকা ফুটবলার ওজিল ও মাহমুদ আহমেদ হাসান ইবরাহিম, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান বহুমুখী ইবাদতের মাস। প্রতি বছরই সংযম ও নেক আমলের বার্তা নিয়ে এ মাসের আগমন ঘটে। এ মাসে সাহরি, ইফতার, তারাবি, নফল নামাজ, কোরআর তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দান-খয়রাতের মতো বহুবিধ ইবাদতের সমাহার ঘটে। তাই এ মাসে মুসলমানদের দৈনন্দিন রুটিন, আমলের প্রস্তুতি, আমলের উপলক্ষ ও নেক কাজের আগ্রহ বরাবরই একটু ভিন্ন হয়ে থাকে।

এ ভিন্নতা ছুঁয়ে যায় মুমিন-মুসলমানের হৃদয়কে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরের, বিভিন্ন ভাষাভাষীর, বিভিন্ন পেশার মুসলমান রমজানে ইবাদত-বন্দেগিসহ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার কাজে এগিয়ে আসেন।

চলতি রমজানে এমনই এক চিত্র দেখা গেছে। রমজান উপলক্ষে দুই ফুটবল তারকা তাদের কাজ দিয়ে নজর কেড়েছেন। একজন ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের তারকা ফুটবলার ওজিল। অন্যজন ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন ভিলা ফুটবল ক্লাবের তারকা মাহমুদ আহমেদ হাসান ইবরাহিম। ফুটবল বিশ্বে অবশ্য ত্রেজেগে নামে পরিচিত। ফরাসি সাবেক তারকা ফুটবলার ডেভিড ত্রেজেগের সঙ্গে তার খেলার স্টাইলে বেশ মিল। এ কারণেই যুব দলের সাবেক কোচ আদর করে এই নাম দিয়েছিলেন তাকে।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের তারকা ফুটবলার ওজিল তিন দেশকে ১ লাখ ১ হাজার ডলার দান করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যেটা ৮৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সোমালিয়া, সিরিয়া ও তুরস্কের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খাদ্য ও ইফতারের জন্য এই টাকা দিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে এই টাকা দিয়ে তিনটি দেশে খাদ্য ও ইফতার বন্টন করে দেওয়া হবে। ওজিলের দেওয়া টাকার মাধ্যমে তুরস্কের ১৬ হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা হবে রমজান মাসব্যাপী। এ ছাড়া তুরস্ক ও সিরিয়ার ২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে। আর সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ৯০ হাজার ইফতার প্যাকেজ বন্টন করা হবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মধ্যে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন ভিলা ফুটবল ক্লাবের মুসলিম তারকা এবং মিসরীয় জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় মাহমুদ হাসান বলেছেন, ‘অন্য সময় আমি প্রতি দুই মাসে একবার কোরআন খতম করি, কিন্তু রমজানে এক অথবা দুইবার খতম করবো- ইনশাআল্লাহ।’

এই ফুটবলার স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘ডিএমসি’তে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। ত্রেজেগে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এক অথবা দুই বার কোরআন খতম করতে হবে। কারণ এই মাসে কোরআন তেলাওয়াতের সওয়াব অনেক বেশি। পবিত্র রমজানের এই সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয় এবং এই মাসে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য নেক আমল বেশি বেশি করা উচিত।

বস্তুত নেক কাজে কোনো মুসলিমকে সহযোগিতা করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। আল্লাহতায়ালা নিজেই এর আদেশ করেছেন এবং আল্লাহতায়ালা সহায়তাকারীর সাহায্যে থাকার সুসংবাদ দিয়েছেন। পৃথিবীর এই সঙ্কটকালে রমজান আমাদের মাঝে এসেছে। যেখানে সহযোগিতা ও সহমর্মিতাই পারে সুন্দর একটি পৃথিবী উপহার দিতে।

আর রমজান কোরআন নাজিলে মাস। কোরআন এমন এক কিতাব, যার তেলাওয়াত, শেখা, শেখানো ও আলোচনা সবই ফজিলতপূর্ণ। কোরআন তেলাওয়াত হলো- সর্বোত্তম নফল ইবাদত। আর আল্লাহতায়ালা রমজানে নফলের মর্যাদা ও সওয়াবের পরিমাণও বৃদ্ধি করে দেন।