‘রমজানের শেষ দশকে অধিক ইবাদতে মনোযোগী হোন’

নাজমুল হুদা, মক্কা মোকাররমা থেকে
সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের স্থানীয় হিসাবমতে রমজানের শেষ দশক শুরু হয়েছে বুধবার (১৩ মে)। মহিমান্বিত রমজানের শেষ দশকের আগমনে সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আলেমদের বোর্ড থেকে রমজানের শেষ দশকে সবাইকে ইবাদত-বন্দেগি পালনের জন্য যথাসম্ভব সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য বলা হয়।

বোর্ড থেকে বলা হয়, বছরের অন্যান্য দিনসমূহের মাঝে রমজানের শেষ দশক হলো- মর্যাদাপূর্ণ। এই দশকের রাতগুলো সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ এবং প্রতিদানও অনেক বেশি।
এই দশকে আল্লাহতায়ালা কদরের রাত দান করেছেন। এ রাতকে হাজার রজনী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘কদরের রজনী হলো- এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ -সূরা কদর: ৩

হজরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন রমজানের শেষ দশকের আগমন হতো, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব রাতগুলোতে বিনিদ্র থাকতেন, পরিবারের লোকদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন এবং (অধিক আমলের জন্য) শক্তভাবে কোমর বেঁধে নিতেন।’ –সহিহ বোখারি: ২০২৪

সৌদি আরবের শীর্ষ আলেমরা আরও বলেন, রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো- আল্লাহর ফরজ বিধানকে আদায় করা। আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বস্তু হতে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সমীপে নিয়তের সচ্ছতা প্রদর্শন করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রাযি.) নবীজির পবিত্র জবানে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে বর্ণনা করেন, আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমার বান্দার ওপর আমি যা ফরজ করেছি, তার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো ইবাদত দ্বারা সে আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারবে না।’ –সহিহ বোখারি: ৬৫০২

ফরজ হুকুম আদায়ের পর নৈকট্য লাভের নানা পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করা। যেমন অধিক পরিমাণে নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, জিকির-আজকার এবং অধিক পরিমাণে সদকা করা।

যেমনটি হজরত আয়েশা (রাযি.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) (রমজানের) শেষ দশকে এতো পরিমাণ ইবাদত করতেন, যেমনটি তিনি অন্য সময় করতেন না।’ -সহিহ মুসলিম: ১১৭৫

বর্ণিত হাদিসটি ইবাদতের নানা প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই আখেরাতের জন্য নিজেদের আমলের নজরানা পেশ করুন। আমলের মাঝে আত্মনিয়োগ করুন। তার সামনে বিনীত হোন। অধিক পরিমাণে দোয়া করুন। আল্লাহর ইরশাদ, ‘(হে নবী) আর আমার বান্দারা যখন আমার ব্যাপারে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে- বস্তুত আমি তাদের সন্নিকটেই আছি। প্রার্থনাকারী যখন প্রার্থনা করে, তখন আমি তার প্রার্থনা কবুল করে থাকি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ -সূরা বাকারা: ১৮৬

তারা আরও বলেন, কল্যাণ লাভ ও মসিবত দূরীকরণে দোয়ার মর্যাদাপূর্ণ এক প্রভাব রয়েছে। সাথে নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিস্থিতির সংশোধন এবং অধিক আমলের তওফিক ও রিজিকে বরকত আনয়নে দোয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

রমজানের শেষ দশকের মহান প্রাপ্তি ও অনুসন্ধানের বিষয় হলো- মহিমান্বিত কদরের রাত। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাতে বিশ্বাসের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় দণ্ডায়মান হবে, আল্লাহতায়ালা তার অতীতের সব গোণাহ মাফ করে দেবেন।’

বৈঠকে সবার জন্য শেষ দশকের অবারিত সুযোগকে কাজে লাগানোর তওফিকের দোয়া করা হয়। আর সবাই যেন তওবা ও ইস্তেগফারের সুযোগ লাভে নিজেকে ধন্য করেন- সেই দোয়াও করা হয়।

এদিকে রমজানের শেষ দশক শুরু উপলক্ষে মসজিদে হারামে শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস এবং মসজিদে নববীতে শায়খ আবদুল্লাহ বুআইজান তারাবির আগে উপস্থিত মুসল্লিসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যেও রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা-ইস্তেগফার ও দান-খয়রাত করার বিষয়গুলো উঠে আসে। বিশেষ করে, করোনা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়ার কথা বলা হয়।