গবাদি পশু-পাখির জাকাতের হিসাব

মুফতি মাহফূযুল হক, অতিথি লেখক, ইসলাম
গবাদি পশু-পাখির জাকাতের হিসাব, ছবি: বার্তা গ্রাফিক্স

গবাদি পশু-পাখির জাকাতের হিসাব, ছবি: বার্তা গ্রাফিক্স

  • Font increase
  • Font Decrease

গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁসসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু-পাখি পালন পৃথিবীর সুপ্রাচীন পেশাগুলোর একটি। সময়ের পরিবর্তনে এগুলোর লালন-পালন প্রক্রিয়া ও ধরণে পরিবর্তন এসেছে বেশ। এখন এককভাবে বা যৌথভাবে গড়ে উঠেছে অনেক ফার্ম। আমাদের দেশেও ছোট-বড় অনেক ফার্ম আছে। আবার প্রাচীনতম পদ্ধতিতে গোয়াল ঘরে, খোঁয়াড়ে, খাঁচায় পশু-পাখি পালনের প্রচলনও রয়েছে আমাদের দেশে।

যারা যেভাবেই পালন করেন না কেন, মুসলিম হিসেবে পশু-পাখির জাকাতের হিসাব কিংবা বিধান জানা তাদের জন্য অপরিহার্য।

গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এগুলো দু'প্রকার। যথা- ১. সায়েমা, ২. মালুফা।

পরিচয়
সায়েমা: যে সব পশুকে ৬ মাসের অধিক সময় কিনে খাওয়াতে হয় না বরং চারণভূমির (যে খাবার কিনে খাওয়াতে হয় না) খাদ্য খেয়ে জীবনধারণ করে সে সব পশুকে সায়েমা বলে।

মালুফা: যে সব পশুকে ৬ মাস বা তার অধিক সময় কিনে খাওয়াতে হয় সে সব পশুকে মালুফা বলে।

সায়েমার জাকাত
সায়েমা পশুর সংখ্যার ওপর জাকাত ফরজ হবে। পশুভেদে সায়েমার জাকাতের পৃথক পৃথক নেসাব। নির্ধারিত যে সংখ্যার সায়েমা পশু থাকলে জাকাত ফরজ হয়, সেই সংখ্যাকে নেসাব বলে। আমাদের জানা মতে বাংলাদেশে সায়েমা নেই। তাই সায়েমার জাকাতের নেসাব আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। তার পরও যদি কারো সায়েমা থাকে তাহলে তিনি যোগাযোগ করে নেসাব জেনে নেবেন।

মালুফা পশু এবং হাঁস, মুরগি ও পাখির জাকাত
মালুফা পশু এবং হাঁস, মুরগি, পাখি পালনের উদ্দেশ্যের বিবেচনায় ৩ প্রকার। যথা- ১. সরাসরি পালিত পশু-পাখি বিক্রি করে লাভ উপার্জন করা উদ্দেশ্য (যেমন- ব্রয়লার মুরগি, কোক, ফার্মের ষাড় ইত্যাদি), ২. পশুর উৎপাদন (যেমন- ডিম, দুধ, বাচ্চা, পশম) বিক্রি করে লাভ উপার্জন করা উদ্দেশ্য ও ৩. পশু বা পশুর উৎপাদন বিক্রি করে লাভ উপার্জন করা উদ্দেশ্য থাকবে না। বরং নিছক সখে পালন করা হবে অথবা কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে (যেমন- হাল দেওয়া, গাড়ি টানা, ঘানি ঘোরানো, মই দেওয়া ইত্যাদি) পালন করা হবে।

পাখি এবং মালুফা পশুর ১ম প্রকারের জাকাত
পাখি এবং মালুফা পশুর ১ম প্রকারের সংখ্যার ওপর জাকাত ফরজ নয়। বরং পশুর অনুমিত মূল্যের ওপর ব্যবসার সম্পদের মতো করে জাকাত ফরজ হবে।

সুতরাং মালিকের জাকাত দিবসে এ প্রকারের পশুপাখির সম্ভাব্য বিক্রি মূল্য অনুমান করতে হবে। সেই অনুমিত মূল্য মালিকের অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে।

অর্থাৎ মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ যদি মোট বিয়োগযোগ্য ঋণ বিয়োগের পর ৫২.৫ ভরি বা ৬১২ গ্রাম রুপার মূল্যে পৌঁছে তবে ২.৫% জাকাত ফরজ হবে।

পাখি ও মালুফা পশুর ২য় ও ৩য় প্রকারের জাকাত
২য় ও ৩য় প্রকারের পশু-পাখির সংখ্যার ওপর জাকাত ফরজ হবে না এবং পশু-পাখির সম্ভাব্য অনুমিত মূল্যের ওপরও জাকাত ফরজ হবে না।

তবে এ দু'প্রকারের পশু-পাখি বা পশু-পাখির উৎপাদন যদি জাকাত দিবসের পূর্বেই মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় এবং মুদ্রা জাকাত দিবসে নগদে বা একাউন্টে স্থিতিতে থাকে তবে তা মালিকের অন্যান্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে।

অর্থাৎ মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ যদি মোট বিয়োগযোগ্য ঋণ বিয়োগের পর ৫২.৫ ভরি বা ৬১২ গ্রাম রুপার মূল্যে পৌঁছে তবে ২.৫% জাকাত ফরজ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :