নিউইয়র্কের ঈদ স্মৃতি, শিক্ষণীয় নানাদিক



ফয়সল আহমদ জালালী, অতিথি লেখক, ইসলাম
নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পুরোনো ছবি

নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পুরোনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নিউইয়র্ককে বলা হয় বিশ্বের রাজধানী। দুনিয়ার সব জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এখানে। ভাষার বৈচিত্র্যময় শহর ও এটি। নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই শহরে জীবনযাপন করেন। যার যার ধর্ম পালন করেন অবাধে। ধর্মীয় আচার-আচরণ পালনে নেই কোনো বিধি-নিষেধ। দিন হোক আর রাত হোক চলাচলে নেই কোনো ভয়-আশংকা। লিঙ্গ বৈষম্যমহীনের দেশ আমেরিকা। নারীরা ও চলছে নিজ নিজ গন্তব্যে একা একা। কেউ কাউকে বিরক্ত করছে না।

আমার প্রথম সফর
২০১৮ সালের কথা। আমার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল রমজান মাসের শেষ দশকে। নিশ্চিত করে বললে ঈদুল ফিতরের ২দিন আগে। নিউইয়র্ক ঈদগাহের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের দুয়ার খুলে। এই ঈদগাহের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কাইয়ুম। এই নামেই তিনি খ্যাত। আমেরিকাজুড়ে মুসলিম কমিউনিটিতে তার বেশ প্রভাব ও খ্যাতি রয়েছে। তীক্ষ্ম প্রতিভার অধিকারী বন্ধুবর মাওলানা আবদুল কাইয়ূম খান। শুধু ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেননি তিনি মুহাম্মাদী সেন্টার নামে জ্যাকসন হাইটসে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সংস্কৃতিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। নিউইয়র্কে ইন্টারফেইথ, এন্টি টেরোরিজম এওয়ারনেসেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান। পরে নিজে গাড়ি চালিয়ে তার অফিসে নিয়ে যান। সে স্মৃতি কোনোদিন ভুলবার মতো নয়। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি প্রবন্ধ লেখব- ইনশাআল্লাহ।

অতিথি ইমাম হিসেবে লেখককে সম্মাননা জানাচ্ছেন স্থানীয় কাউন্সিলম্যান, ছবি: সংগৃহীত

‘চাঁদ রাত’ সংস্কৃতি
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসকে বলা হয় মিনি বাংলাদেশ। এখানে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন। ঈদের চাঁদ ওঠার রাতকে ওখানকার মুসলিম সমাজ ‘চাঁদ রাত’ হিসেবে পালন করেন। আমি এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। এশার নামাজের পর বের হয়ে দেখি রাস্তায় প্রচুর নারী ও শিশু। ভিড়ের কারলে ফুটপাতে হাঁটা যাচ্ছে না। এক বাংলাদেশিকে জিজ্ঞেস করলাম, রাস্তায় এত ভিড়ের কারণ কী। তার পাল্টা প্রশ্ন, আপনি এ এলাকায় নতুন এসেছেন? আমি বললাম, শুধু এলাকায় নতুন নয়, আমেরিকাতেই আমি নতুন। মাত্র দু'দিন পূর্বে এসেছি। বলল, আজ চাঁদ রাত। মহিলা ও শিশুরা ঈদের আগের রাতে এখানে রাস্তায় বেরিয়ে এসে আনন্দ করে। হাতে মেহেদী লাগায়। পরিচিতদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে। অনেক রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। এটিকে ঈদ উপলক্ষ্যে মেহেদী উৎসবও বলা চলে।

একই সুতোয় বেঁধে ফেলা ঈদ
নিউইয়র্কে রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলিম সমাজ। এশিয়ান, আমেরিকান, ইউরোপিয়ান ও আফ্রিকান মহাদেশীয় সংস্কৃতির মাঝে তো ভিন্নতা আছেই। এছাড়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, মিসর, মরক্কো, গায়ানা, সুদান, সোমালিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের আচার-আচরণেও রয়েছে ভিন্নতা। রয়েছে ভাষা ও বর্ণের বহু সমীকরণ। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালনে গড়ে ওঠা বিভিন্ন চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের মানুষ রয়েছে এখানে। যাকে আমরা মাজহাব বলি। আর পশ্চিমা লেখকরা যাকে school of thought বলে আখ্যায়িত করেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাইরের কেউ মনে করতে পারেন- মাজহাব নিয়ে বিভক্তি ইসলামের মাঝে উপদলীয় কোন্দল। যা অন্যান্য ধর্মে তীব্রভাবে লক্ষ্য করা হয়। তা মোটেই সত্য নয়। মাজহাব হলো, ইসলামের বিধান পালনে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। একই ইমামের পেছনে সব মাজহাবের মানুষের নামাজ আদায়ই এর বড় প্রমাণ। ঈদের মাঠে ঈদের নামাজে সবাই এক ও অভিন্ন। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করছে। করছে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। নেই তাদের মাঝে কোনো বর্ণ বৈষম্য। দেশ-মহাদেশের নেই কোনো ভেদাভেদ। নিউইয়র্কের ঈদ মনে হয় গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে ফেলে। নিউইয়র্ক যেন এক আদমের সন্তানের মিলন ভূমি।

মুসলিম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো কোরবানির অর্ডার গ্রহণ করে, ছবি: সংগৃহীত

মাঠে-ময়দানে ঈদের জামাত
নিউইয়র্কে ঈদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- মাঠে-ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাদল দিন হলে ভিন্ন কথা। তখন বাধ্য হয়েই মসজিদে ঈদের আয়োজন করা হয়। স্কুল-কলেজের মাঠ ঈদের জামাতের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পার্কগুলোও ব্যবহার করা যায়। এমনকি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়ও ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। আমেরিকা নিয়ম-কানুন মেনে চলা দেশ। আইন-কানুনকে অবজ্ঞা করে যাচ্ছে-তাই করা যাবে না সেখানে। ওখানকার মানুষ আইনের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। ধর্ম-কর্ম পালনে কোনো বাধা-বিপত্তি নেই। আমার দেখামতে ধর্মাচারীকে আমেরিকার সমাজে শ্রদ্ধা করা হয়। সে যেকোনো ধর্মের মানুষ হোক।

কোভিড-১৯ এর কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব ধরনের উপাসনালয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক মৌখিক নির্দেশে সব খুলে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল না হলে এই অজুহাত আরও দীর্ঘ হতো। বন্ধ থাকত মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডা ইত্যাদি।

জনপ্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা
নামাজ শেষে ঈদগাহে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য উপস্থিত হন নিউইয়র্কের জনপ্রতিনিধিরা। এমনকি অন্য ধর্মের গুরুরাও আসেন শুভেচ্ছা জানাতে। অবশ্য সেটি নির্ভর করে আয়োজকদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। নিউইয়র্ক ঈদগাহের প্রতিষ্ঠাতা কাজী কাইয়ুম আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তার প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহে যেকোনো জনপ্রতিনিধিকে স্বাগত জানানো হয়। এমনকি ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রদর্শনের জন্য আন্তধর্মীয় নেতাদেরকেও গ্রহণ করা হয়। ২০১৮ সালে আমি প্রথম আমেরিকা যাই। নিউইয়র্ক ঈদগাহ আমাকে ইমাম হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। ঈদের জামাত শেষে জ্যাকসন হাইটস এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান নিজে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান। এমনকি অতিথি ইমাম হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির মনোগ্রাম সম্বলিত প্যাডে তার স্বাক্ষরিত একটি সাইটেশন প্রদান করেন। আমাকে নিয়ে ছবি তুলেন। সেখানকার গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

অন্যরাও ঈদের দৃশ্য উপভোগ করে
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এ জন্য দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে এর কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছেন প্রচুর। ওপরে বর্ণিত ঈদের জামাতের সমাগম থেকে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। তবে মাঠে-ঘাটে ও পার্কে ঈদের জামাত আয়োজনের দৃশ্য অন্য ধর্মাবলম্বীরা উপভোগ করেন। সুশৃঙ্খল দৃশ্য দেখে অনেকেই পুলকিত হন। অনেকে এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানান। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুৎবা শুনেন। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় নিউইয়র্ক ঈদগাহের কার্যক্রম পালিত হয়। আমার খুৎবা প্রদান শেষে অনেক অমুসলিম এগিয়ে এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

কোরবানি নির্দিষ্ট স্থানে আদায়
কোরবানি যত্রতত্র আদায় করার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি আদায় করতে হয়। সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে সেখানে কোরবানি করার ব্যবস্থা রয়েছে। চামড়া পৃথক করা ও গোশত কাটাকুটি প্রশিক্ষিত মানুষ দিয়ে করতে হয়। মুসলিম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোও কোরবানির অর্ডার গ্রহণ করে। কোরবানির ঈদ আসন্ন হলে বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙানো হয় দোকানের সম্মুখে। ভাগে যারা কোরবানি করেন তারা বেশিরভাগ তাদের হাতেই কোরবানির দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ জন্য বিশ্বস্ত দোকান মালিক বেছে নিতে হয়। খাসি, ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি যারা করেন তারা নির্দিষ্ট স্লটারিং স্থলে হাজির হন।

নিয়মানুবর্তিতা
সবক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে আমেরিকানরা অত্যন্ত সচেতন। আগে আসলে আগে পাবেন, উঁচু-নীচু সবাই এই নিয়ম মেনে চলেন। মুদির দোকানেও সুশৃংখলভাবে এই নিয়ম মানা হয়। মূল্য পরিশোধের সময় লাইন বেঁধে ক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকেন। কোরবানির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম ভঙ্গ করার প্রশ্নই আসে না। যারা কসাইখানায় পরে যাবেন তাদের পরেই ফিরতে হয়। অনেকের সিরিয়াল পরের দিনও আসতে দেখা যায়, কিচ্ছু করার নেই। ওখানকার মানুষগুলোর স্বভাব হয়ে গেছে নিয়ম মেনে চলার। সিরিয়াল ভঙ্গ করার মানসিকতা কারো হয় না। একান্ত কেউ এর ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করলে তার কাজ করে দেওয়া হয় না। আমেরিকা শ্রেণি বৈষম্যহীনতার এক মনোরম ভূখণ্ড।

ফয়সল আহমদ জালালী: ভিজিটিং ইমাম, নিউইয়র্ক ঈদগাহ, যুক্তরাষ্ট্র

আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে গতকাল শুক্রবার (১ ‍জুলাই) এক বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়, গতকাল তপন খন্দকার নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর হচ্ছে EE0540246। আর পিআইডি নম্বর 1459017।

এর আগে শুক্রবার তিন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন বলে জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তারা হলেন-রফিকুল ইসলাম (৪৭), ফাতেমা বেগম (৬০) ও আব্দুল গফুর মিয়া (৬২)। তাদের মধ্যে গফুর গত ২৮ জুন এবং রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) মারা যান।

এ পর্যন্ত ১০ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

;

সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে আরও তিন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তারা হলেন-রফিকুল ইসলাম (৪৭), ফাতেমা বেগম (৬০) ও আব্দুল গফুর মিয়া (৬২)। তাদের মধ্যে গফুর গত ২৮ জুন এবং রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার মারা যান।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পোর্টালে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল এবং গফুর গত ২৮ জুন মারা যান।

পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখান্দার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের হজ আইডি নম্বর ০৫৭৬০৯৯ ও পাসপোর্ট নম্বর বিটি০৪৮৫৪৩৩, রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের হজ আইডি নম্বর ০৭৭৩০৫১ ও পাসপোর্ট নম্বর ইই০৩৮২৮৪৩ এবং টাঙ্গাইলের সখিপুরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর মিয়ার হজ আইডি নম্বর ০৭৭৩০৮০ ও পাসপোর্ট নম্বর বিওয়াই০০৬২২০২।

এ নিয়ে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪৮ হাজার ১৭১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৮৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪ হাজার ৭৮৬ জন গিয়েছেন। চলতি বছর প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি হজে যাবেন।

এখন পর্যন্ত ১৩৩টি ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গিয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি ফ্লাইট বিমান বাংলাদেশের, ৫০টি সৌদি এয়ার লাইনসের ও ৮টি ফ্লাইনাসের।

;

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজরি ১৪৪৩ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১০ জুলাই রোববার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হজ অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুলাই।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন।

মুসলমানরা হিজরি বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। আল্লাহতায়ালার আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর জন্য কোরবানি করার ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য ওপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে ওই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আজহা’ বলা হয়ে থাকে।

;

ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ৯ জুলাই না ১০ জুলাই উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে।

কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;