নিউইয়র্কের ঈদ স্মৃতি, শিক্ষণীয় নানাদিক



ফয়সল আহমদ জালালী, অতিথি লেখক, ইসলাম
নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পুরোনো ছবি

নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পুরোনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নিউইয়র্ককে বলা হয় বিশ্বের রাজধানী। দুনিয়ার সব জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এখানে। ভাষার বৈচিত্র্যময় শহর ও এটি। নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই শহরে জীবনযাপন করেন। যার যার ধর্ম পালন করেন অবাধে। ধর্মীয় আচার-আচরণ পালনে নেই কোনো বিধি-নিষেধ। দিন হোক আর রাত হোক চলাচলে নেই কোনো ভয়-আশংকা। লিঙ্গ বৈষম্যমহীনের দেশ আমেরিকা। নারীরা ও চলছে নিজ নিজ গন্তব্যে একা একা। কেউ কাউকে বিরক্ত করছে না।

আমার প্রথম সফর
২০১৮ সালের কথা। আমার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল রমজান মাসের শেষ দশকে। নিশ্চিত করে বললে ঈদুল ফিতরের ২দিন আগে। নিউইয়র্ক ঈদগাহের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের দুয়ার খুলে। এই ঈদগাহের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কাইয়ুম। এই নামেই তিনি খ্যাত। আমেরিকাজুড়ে মুসলিম কমিউনিটিতে তার বেশ প্রভাব ও খ্যাতি রয়েছে। তীক্ষ্ম প্রতিভার অধিকারী বন্ধুবর মাওলানা আবদুল কাইয়ূম খান। শুধু ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেননি তিনি মুহাম্মাদী সেন্টার নামে জ্যাকসন হাইটসে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সংস্কৃতিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। নিউইয়র্কে ইন্টারফেইথ, এন্টি টেরোরিজম এওয়ারনেসেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান। পরে নিজে গাড়ি চালিয়ে তার অফিসে নিয়ে যান। সে স্মৃতি কোনোদিন ভুলবার মতো নয়। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি প্রবন্ধ লেখব- ইনশাআল্লাহ।

অতিথি ইমাম হিসেবে লেখককে সম্মাননা জানাচ্ছেন স্থানীয় কাউন্সিলম্যান, ছবি: সংগৃহীত

‘চাঁদ রাত’ সংস্কৃতি
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসকে বলা হয় মিনি বাংলাদেশ। এখানে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন। ঈদের চাঁদ ওঠার রাতকে ওখানকার মুসলিম সমাজ ‘চাঁদ রাত’ হিসেবে পালন করেন। আমি এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। এশার নামাজের পর বের হয়ে দেখি রাস্তায় প্রচুর নারী ও শিশু। ভিড়ের কারলে ফুটপাতে হাঁটা যাচ্ছে না। এক বাংলাদেশিকে জিজ্ঞেস করলাম, রাস্তায় এত ভিড়ের কারণ কী। তার পাল্টা প্রশ্ন, আপনি এ এলাকায় নতুন এসেছেন? আমি বললাম, শুধু এলাকায় নতুন নয়, আমেরিকাতেই আমি নতুন। মাত্র দু'দিন পূর্বে এসেছি। বলল, আজ চাঁদ রাত। মহিলা ও শিশুরা ঈদের আগের রাতে এখানে রাস্তায় বেরিয়ে এসে আনন্দ করে। হাতে মেহেদী লাগায়। পরিচিতদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে। অনেক রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। এটিকে ঈদ উপলক্ষ্যে মেহেদী উৎসবও বলা চলে।

একই সুতোয় বেঁধে ফেলা ঈদ
নিউইয়র্কে রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলিম সমাজ। এশিয়ান, আমেরিকান, ইউরোপিয়ান ও আফ্রিকান মহাদেশীয় সংস্কৃতির মাঝে তো ভিন্নতা আছেই। এছাড়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, মিসর, মরক্কো, গায়ানা, সুদান, সোমালিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের আচার-আচরণেও রয়েছে ভিন্নতা। রয়েছে ভাষা ও বর্ণের বহু সমীকরণ। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালনে গড়ে ওঠা বিভিন্ন চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের মানুষ রয়েছে এখানে। যাকে আমরা মাজহাব বলি। আর পশ্চিমা লেখকরা যাকে school of thought বলে আখ্যায়িত করেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাইরের কেউ মনে করতে পারেন- মাজহাব নিয়ে বিভক্তি ইসলামের মাঝে উপদলীয় কোন্দল। যা অন্যান্য ধর্মে তীব্রভাবে লক্ষ্য করা হয়। তা মোটেই সত্য নয়। মাজহাব হলো, ইসলামের বিধান পালনে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। একই ইমামের পেছনে সব মাজহাবের মানুষের নামাজ আদায়ই এর বড় প্রমাণ। ঈদের মাঠে ঈদের নামাজে সবাই এক ও অভিন্ন। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করছে। করছে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। নেই তাদের মাঝে কোনো বর্ণ বৈষম্য। দেশ-মহাদেশের নেই কোনো ভেদাভেদ। নিউইয়র্কের ঈদ মনে হয় গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে ফেলে। নিউইয়র্ক যেন এক আদমের সন্তানের মিলন ভূমি।

মুসলিম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো কোরবানির অর্ডার গ্রহণ করে, ছবি: সংগৃহীত

মাঠে-ময়দানে ঈদের জামাত
নিউইয়র্কে ঈদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো- মাঠে-ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাদল দিন হলে ভিন্ন কথা। তখন বাধ্য হয়েই মসজিদে ঈদের আয়োজন করা হয়। স্কুল-কলেজের মাঠ ঈদের জামাতের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পার্কগুলোও ব্যবহার করা যায়। এমনকি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়ও ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। আমেরিকা নিয়ম-কানুন মেনে চলা দেশ। আইন-কানুনকে অবজ্ঞা করে যাচ্ছে-তাই করা যাবে না সেখানে। ওখানকার মানুষ আইনের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। ধর্ম-কর্ম পালনে কোনো বাধা-বিপত্তি নেই। আমার দেখামতে ধর্মাচারীকে আমেরিকার সমাজে শ্রদ্ধা করা হয়। সে যেকোনো ধর্মের মানুষ হোক।

কোভিড-১৯ এর কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব ধরনের উপাসনালয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক মৌখিক নির্দেশে সব খুলে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল না হলে এই অজুহাত আরও দীর্ঘ হতো। বন্ধ থাকত মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডা ইত্যাদি।

জনপ্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা
নামাজ শেষে ঈদগাহে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য উপস্থিত হন নিউইয়র্কের জনপ্রতিনিধিরা। এমনকি অন্য ধর্মের গুরুরাও আসেন শুভেচ্ছা জানাতে। অবশ্য সেটি নির্ভর করে আয়োজকদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। নিউইয়র্ক ঈদগাহের প্রতিষ্ঠাতা কাজী কাইয়ুম আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তার প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহে যেকোনো জনপ্রতিনিধিকে স্বাগত জানানো হয়। এমনকি ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রদর্শনের জন্য আন্তধর্মীয় নেতাদেরকেও গ্রহণ করা হয়। ২০১৮ সালে আমি প্রথম আমেরিকা যাই। নিউইয়র্ক ঈদগাহ আমাকে ইমাম হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। ঈদের জামাত শেষে জ্যাকসন হাইটস এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান নিজে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান। এমনকি অতিথি ইমাম হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির মনোগ্রাম সম্বলিত প্যাডে তার স্বাক্ষরিত একটি সাইটেশন প্রদান করেন। আমাকে নিয়ে ছবি তুলেন। সেখানকার গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

অন্যরাও ঈদের দৃশ্য উপভোগ করে
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এ জন্য দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে এর কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছেন প্রচুর। ওপরে বর্ণিত ঈদের জামাতের সমাগম থেকে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। তবে মাঠে-ঘাটে ও পার্কে ঈদের জামাত আয়োজনের দৃশ্য অন্য ধর্মাবলম্বীরা উপভোগ করেন। সুশৃঙ্খল দৃশ্য দেখে অনেকেই পুলকিত হন। অনেকে এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানান। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুৎবা শুনেন। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় নিউইয়র্ক ঈদগাহের কার্যক্রম পালিত হয়। আমার খুৎবা প্রদান শেষে অনেক অমুসলিম এগিয়ে এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

কোরবানি নির্দিষ্ট স্থানে আদায়
কোরবানি যত্রতত্র আদায় করার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি আদায় করতে হয়। সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে সেখানে কোরবানি করার ব্যবস্থা রয়েছে। চামড়া পৃথক করা ও গোশত কাটাকুটি প্রশিক্ষিত মানুষ দিয়ে করতে হয়। মুসলিম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোও কোরবানির অর্ডার গ্রহণ করে। কোরবানির ঈদ আসন্ন হলে বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙানো হয় দোকানের সম্মুখে। ভাগে যারা কোরবানি করেন তারা বেশিরভাগ তাদের হাতেই কোরবানির দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ জন্য বিশ্বস্ত দোকান মালিক বেছে নিতে হয়। খাসি, ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি যারা করেন তারা নির্দিষ্ট স্লটারিং স্থলে হাজির হন।

নিয়মানুবর্তিতা
সবক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে আমেরিকানরা অত্যন্ত সচেতন। আগে আসলে আগে পাবেন, উঁচু-নীচু সবাই এই নিয়ম মেনে চলেন। মুদির দোকানেও সুশৃংখলভাবে এই নিয়ম মানা হয়। মূল্য পরিশোধের সময় লাইন বেঁধে ক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকেন। কোরবানির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম ভঙ্গ করার প্রশ্নই আসে না। যারা কসাইখানায় পরে যাবেন তাদের পরেই ফিরতে হয়। অনেকের সিরিয়াল পরের দিনও আসতে দেখা যায়, কিচ্ছু করার নেই। ওখানকার মানুষগুলোর স্বভাব হয়ে গেছে নিয়ম মেনে চলার। সিরিয়াল ভঙ্গ করার মানসিকতা কারো হয় না। একান্ত কেউ এর ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করলে তার কাজ করে দেওয়া হয় না। আমেরিকা শ্রেণি বৈষম্যহীনতার এক মনোরম ভূখণ্ড।

ফয়সল আহমদ জালালী: ভিজিটিং ইমাম, নিউইয়র্ক ঈদগাহ, যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামে জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব



তাসফিয়া ইয়াসফা, অতিথি লেখক, ইসলাম
ইসলাম জ্ঞান চর্চায় মানুষকে উৎসাহ দেয়

ইসলাম জ্ঞান চর্চায় মানুষকে উৎসাহ দেয়

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। দুনিয়ায় সৃষ্টিকর্তার যত রকম সৃষ্টি রয়েছে, সবার ওপরে মানুষের স্থান। মানুষের সুবিধার্থে আল্লাহতায়ালা এত রকমের নেয়ামত দান করেছেন। তার পরিধেয় বস্ত্র থেকে নিত্য আহার্য পর্যন্ত মানুষ সৃষ্টিকূল থেকে সংগ্রহ করে। তাই মহান আল্লাহ যা বলেছেন বা যা সৃষ্টি করেছেন, এসব সম্পর্কে জানা এক প্রকার ইবাদত। যেখানে আমরা জ্ঞান অন্বেষণকে শুধুমাত্র পার্থিব জীবনে অর্থ উপার্জনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করি, সেই জ্ঞান অর্জনকে ইসলামিক জীবনাদর্শে ফরজ করা হয়েছে। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘ইলম (জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ -ইবনে মাজাহ

জানা, জ্ঞান ইত্যাদি শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে- ইলম। ইসলামি পরিভাষায় এর অর্থ, কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা। মহান আল্লাহ মানুষকে শুধুমাত্র একটি শরীর দিয়ে এই দুনিয়াতে পাঠান। পরবর্তীতে তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের মাধ্যমে সে জীবন উপলব্ধি করতে শেখে। ভালো-মন্দের পার্থক্য, ভুল-সঠিকের পথ, সত্য-মিথ্যা সবকিছু সম্পর্কে তার ধারণা আসে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। তাই কোনো কিছু জানার ইচ্ছাকে সমুন্নত রাখতে হবে, সচল রাখতে হবে। নবী-রাসুলদের জীবনী থেকে, হাদিস-কোরআনের বাণী থেকে দ্বীনি ইলম সম্পর্কে জানতে হবে এবং অন্যান্য বই-পুস্তকের মাধ্যমে দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিন বান্দা কল্যাণ হতে কখনও তৃপ্তি পায় না। কল্যাণ অর্থ জ্ঞানার্জন এবং শিক্ষা। অতপর বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করে।’ –সুনানে তিরমিজি

যে ব্যক্তি দ্বীন-দুনিয়া সম্পর্কে জানে, সে কখনও দুশ্চরিত্রবান হতে পারে না। কারণ সে ভালো-খারাপের তফাৎ করতে জানে। সে জানে মন্দের শাস্তির ব্যপারে। একজন মূর্খ এবং একজন বিজ্ঞ কখনও এক হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলে দাও, যারা জ্ঞানী এবং মূর্খ তারা কি সমান হতে পারে?’ -সুরা যুমার

বস্তুত শেখার কোনো শেষ নেই। নানা রকম ডিগ্রী অর্জন করতে পারলে কিংবা জীবনের পঞ্চাশ-ষাট বছর কাটিয়ে দিতে পারলেই মানুষে নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবতে পারে না, সে জ্ঞানী হয়ও না। অনেক বিষয় সম্পর্কে জানা শেষ হলেও, প্রকৃত অর্থে মানুষ বিশাল এ সৃষ্টিজগত সম্পর্কে খুব সামান্য পরিমাণ জানার সুযোগ পায়।

তাই জ্ঞানার্জনের প্রচেষ্টা সবসময় চালিয়ে যেতে হবে। জানার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, তা পৃথিবীর কোনো ধন-সম্পদ উপার্জনের মধ্যে নেই।

;

পানির ওপর জায়নামাজে নামাজ পড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত রাবেয়া বসরি (হবে রাবেয়া বসরিয়্যাহ্) দ্বিতীয় হিজরি শতকের একজন প্রসিদ্ধ আবেদা নারী ছিলেন। ইমাম জাহাবি (রহ.)-এর সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইবনে খাল্লিকান (রহ.)-এর অফাইয়াতুল আইয়ান, শারানি (রহ.)-এর আততাবাকাতুল কুবরাসহ আরও বিখ্যাত বিখ্যাত বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থে তার জীবনী সন্নিবেশিত হয়েছে। তার বিষয়ে সমাজে বিভিন্ন বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী প্রচলিত আছে।

তার ও প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হজরত হাসান বসরি (রহ.)-এর বিষয়ে একটি কাহিনী অনেককে বলতে শোনা যায়। সেটি হলো-

একবার হজরত হাসান বসরি (রহ.) পানির ওপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়লেন। হজরত রাবেয়া বসরি একথা জানতে পারলেন এবং তিনি শূন্যের ওপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়লেন। হজরত হাসান বসরি (রহ.) যখন একথা জানতে পারলেন তখন বললেন, রাবেয়ার মাকাম (স্থান) আমার অনেক ওপরে।

বস্তুত এ কিচ্ছার কোনো ভিত্তি নেই। এটি একেবারেই কল্পনাপ্রসূত একটি কাহিনী, বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো ইতিহাসগ্রন্থ কিংবা রাবেয়া বসরির ওপর রচিত কোনো নির্ভরযোগ্য জীবনীগ্রন্থে এ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

তারা কত বড় বুজুর্গ ছিলেন, এ কথা বুঝাতে এ জাতীয় কিচ্ছা-কাহিনীর অবতারণা করা হয়।

হ্যাঁ, তারা অনেক বড়মাপের বুজুর্গ ছিলেন, একথা স্বীকৃত। তারা জুহ্দ (সাধনা) ও তাকওয়ায় (আল্লাহভীতি), দুনিয়াবিমুখতা ও খোদাভীতিতে অনেক অগ্রগামী ছিলেন। কিন্তু এ ধরনের কাহিনী দিয়ে তাদের বুজুর্গি প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আর এ সবের সঙ্গে বুজুর্গির কোনো সম্পর্ক নেই।

আর আল্লাহর অলিদের থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারামত প্রকাশিত হয় এ কথা স্বীকৃত। সেই সঙ্গে এ কথাও স্বীকৃত যে, কারামতের সঙ্গে বুজুর্গির কোনো সম্পর্ক নেই। বুজুর্গি ও আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার মাপকাঠি হলো, তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় ও সুন্নত অনুযায়ী জীবন-যাপন করা।

আর বানোয়াট এ ঘটনায় আরেকটি দিক দেখা যাচ্ছে। তা হলো, একজন পানির ওপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়েছেন তা শুনে অপরজন শূন্যের ওপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন; যেন বুজুর্গি প্রকাশে প্রতিযোগিতা চলছে। এর দ্বারাই বুঝা যায়, এগুলো বানোয়াট গল্প। কারণ, আল্লাহওয়ালারা নিজেদেরকে আড়াল করতে চান। আর তাদের মতো অনুসরণীয় বুজুর্গরা যেন নিজেদের বুজুর্গির প্রদর্শন করছেন। নাউযুবিল্লাহ। এটা তাদের ব্যাপারে মস্তবড় অপবাদও বটে!

আরেকটি বিষয় হলো, হজরত হাসান বসরি (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন ১১০ হিজরিতে। আর রাবেয়া বসরির জন্মই হয়েছে ৯৯ অথবা ১০০ হিজরিতে। অর্থাৎ হাসান বসরি (রহ.)-এর ইন্তেকালের সময় রাবেয়া বসরির বয়স ছিলো সর্বোচ্চ ১১/১২ বছর। সিয়ারু আলামিন নুবালায় (৮/২৪১) ইমাম জাহাবি (রহ.) বলেন, রাবেয়া বসরি ১৮০ হিজরিতে ইন্তিকাল করেছেন। কথিত আছে, তিনি আশি বছর হায়াত পেয়েছেন। সুতরাং এ বিষয়টিও এ ঘটনার অসারতা প্রমাণ করে।

;

ইসলামে হিজড়াদের অধিকার



ইসরাত জাহান সারা, অতিথি লেখক, ইসলাম
ইসলামি স্কলাররা মতে দিয়েছেন, হিজড়াদের অবহেলা করা যাবে না। তাদের গালি দেওয়া যাবে না

ইসলামি স্কলাররা মতে দিয়েছেন, হিজড়াদের অবহেলা করা যাবে না। তাদের গালি দেওয়া যাবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

সমাজে হিজড়াদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ইসলাম দিক-নির্দেশক। ইসলাম মতে, মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। তদ্রূপ হিজড়াও মহান আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব আশরাফুল মাখলুকাতের এক অনন্য মানব সম্প্রদায়। সুরা ত্বীনের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠতম-সুন্দর আকৃতিতে।’

বাংলা একাডেমীর সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান বলছে, ‘হিজড়া’ শব্দটি হিন্দি ভাষা থেকে এসেছে। হিজড়া বিষয়ক গবেষকদের মতে, হিজড়া শব্দটি এসেছে ফার্সি থেকে। ফার্সি ভাষায় হিজড়া অর্থ হলো- ‘সম্মানিত ব্যক্তি।’

নারীও নয় আবার পুরুষও নয়, এ ধরনের এক শ্রেণির মানুষকে আমরা প্রায়ই রাস্তাঘাটে বিভিন্ন রকম অঙ্গভঙ্গি করে চাঁদা তুলতে দেখি, এই অবহেলিত শ্রেণির লোকদেরকে ‘হিজড়া’ বলা হয়।

হিজড়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিজড়া শব্দকে তারা অভিশাপ বা গালি হিসেবে মনে করেন। তারা এক ধরনের প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীরা সমাজে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলে হিজড়ারা এসব থেকে বঞ্চিত। সমাজ তাদেরকে বোঝা মনে করে দূরে ঠেলে দেয়। তাদের প্রতি ঘৃণা নয় বরং ভালোবাসা ও স্নেহ দরকার। প্রতিবন্ধী মানুষের যেমন শারীরিক ত্রুটি থাকে তদ্রূপ এটিও একটি ত্রুটি।

মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহর কাছে মানুষের বাহ্যিক আকার-আকৃতির কোনো মূল্য নেই। হাশরের ময়দানে তিনি দেখবেন শুধু মানুষের আমল। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদের চেহারা এবং সম্পদ দেখেন না বরং তিনি তোমাদের হৃদয় এবং আমলসমূহ দেখেন।’ -সহিহ মুসলিম : ৬৭০৮

ইসলামি স্কলাররা মতে দিয়েছেন, হিজড়াদের অবহেলা করা যাবে না। তাদের গালি দেওয়া যাবে না। তাদেরকে নিয়ে উপহাস করা যাবে না। তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। তাদের ওপর ইসলামের বিধান কার্যকর হবে। যার মধ্যে মেয়েলি ভাব বেশি তার ওপর নারীদের বিধান এবং যার মধ্যে পুরুষের স্বভাব বেশি বিদ্যমান, তার ওপর পুরুষদের বিধান কার্যকর হবে।

ইসলাম মানবতার ধর্ম। তাই ইসলাম হিজড়াদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ মনে করে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অঙ্গ ও আকৃতির ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করা হয়নি। আল্লাহতায়ালার কাছে সব ত্রুটিহীন অথবা ত্রুটিপূর্ণ মানুষই সমান এবং হাশরের ময়দানে সব ধরনের মানুষই জিজ্ঞাসিত হবে। সে জন্যই সকলের মতো নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত- পালন করা হিজড়াদের ওপর ফরজ।

ইসলামের দৃষ্টিতে সব মানুষ সমান। ইমান ও তাকওয়া হচ্ছে- মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড। যে যত বেশি মুত্তাকি, আল্লাহ তাকে তত বেশি ভালোবাসেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে; পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন, যে বেশি মুত্তাকি।’ -সুরা হুজুরাত : ১৩

;

নামাজের উপকারিতা



মোহাম্মদ এনামুল হক ফজলে রাব্বী, অতিথি লেখক, ইসলাম
শাশ্বত আহ্বান, এসো নামাজের দিকে, এসো নামাজের দিকে

শাশ্বত আহ্বান, এসো নামাজের দিকে, এসো নামাজের দিকে

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে- নামাজ। ঈমানের পরেই নামাজের মর্যাদাগত অবস্থান। রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘বলুন! আমার বান্দাদেরকে, যারা ঈমান এনেছে তারা যেন নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি যা তাদেরকে দান করেছি তা হতে ব্যয় করে।’

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় নামাজ বলা হয়, রুকু, সিজদাসহ নির্দিষ্ট আহকাম সম্বলিত এমন বিশেষ ইবাদত অনুষ্ঠানকে- যার মাধ্যমে বান্দা ও স্রষ্টার মাঝে সুনিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক নর-নারী মুসলিমের ওপর আদায় করা ফরজ।

নামাজ ফরজ ইবাদত হলেও নামাজ আদায়ের মূল উপকারিতা হচ্ছে, অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে মানুষকে বিরত রাখা। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।’

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও প্রতিটি জুমার নামাজ রীতিনীতিসহ আদায় করে এবং প্রতি বছর রমজানের রোজাগুলো যথাযথভাবে পালন করে, তাকে আল্লাহতায়ালা এক নামাজ হতে অপর নামাজ, এক জুমা হতে অপর জুমা এবং এক রমজান হতে অপর রমজানের মধ্যকার সময়ে সংঘটিত যাবতীয় গোনাহ ক্ষমা করে দেন। তবে শর্ত হলো, তাকে কবিরা গোনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।’ কেননা আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা যদি নিষেধাজ্ঞাসমূহের পাশাপাশি কবিরা গোনাহ থেকে বিরত থাকো, তবে আমি তোমাদের সগিরা গোনাহগুলো মিটিয়ে দেব।’ সুতরাং সগিরা গোনাহ থেকে ক্ষমালাভের জন্য আমাদের উচিত কবিরা গোনাহ থেকে বিরত থেকে যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও রমজানের রোজাগুলো পালন করা। আল্লাহতায়ালার হুকুম পালনের পাশাপাশি নামাজের মাধ্যমে অনেক বৈষয়িক উপকারিতা ও অর্জিত হয়। যেমন-

মুসলিম ঐক্য : নামাজ মুসলিম ঐক্যের এক শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মুসলমানগণ দৈনিক পাঁচ বার নামাজের উদ্দেশ্য মসজিদে একত্রিত হয়ে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

আনুগত্যের শিক্ষা : নামাজে ইমামের অনুসরণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে নেতার আনুগত্যে শিক্ষা লাভ হয়।

চরিত্র গঠন : নামাজ চরিত্র গঠনের উত্তম উপায়। দৈনিক পাঁচ বার তাওহিদ, রেসালাত ও আখেরাতকে স্মরণের মাধ্যমে চরিত্রের মন্দ দিকগুলো দূরীভূত হয়।

নেতৃত্বের দায়িত্ববোধ : নামাজ দ্বারা নেতৃত্বের দায়িত্ববোধের শিক্ষা অর্জিত হয়। এমনকি সমাজ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার শিক্ষা এখান থেকে অর্জিত হয়।

পারস্পরিক সহযোগিতা : সমাজে মসজিদ তৈরি ও এর রক্ষণাবেক্ষণকারী ইত্যাদি কার্যাবলী মাধ্যমে মানুষ মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সামাজিক গুণ সৃষ্টি হয়।

পারস্পরিক সম্প্রীতি সৃষ্টি : মুসলমানগণ প্রত্যহ পাঁচ বার নামাজ কায়েমের লক্ষ্যে মসজিদে সমবেত হওয়ায় তাদের মাঝে সামাজিক সম্প্রীতি, একতার বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে।

শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণ : মুসলমানরা নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রত্যেহ পাঁচ বার নির্ধারিত সময়ে মসজিদে সমবেত হয় এবং কাতারবন্দি হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে নামাজ আদায় করে। এতে মানুষ নিয়ম শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণ লাভ করে।

নামাজ পরিত্যাগের পরিণাম : ইচ্ছেকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগকারীর ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এ ছাড়া বেনামাজির জন্য ১৪ প্রকার শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নামাজের ব্যাপারে অবহেলা প্রদর্শন করে। আল্লাহতায়ালা তাকে চৌদ্দ প্রকার শাস্তি প্রদান করেন।’

নামাজে যত্নবান হওয়া মুমিনের দায়িত্ব

 

দুনিয়ায় পাঁচ শাস্তি
১. তার জীবন ও জীবিকার বরকত কেড়ে নেওয়া হবে।
২. তার চেহারা হতে নেককার লোকদের নূর মুছে ফেলা হবে।
৩. সে যেকোনো নেক আমল করুক, আল্লাহ তাতে কোনো সওয়াব দান করেন না।
৪. তার কোনো দোয়াই কবুল করা হয় না।
৫. নেককারদের দোয়ায় তার কোনো অংশ থাকে না।

মৃত্যুকালীন তিন শাস্তি
১. অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করবে।
৩. চরম তৃষ্ণার্ত অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। যদি সমস্ত পৃথিবীর সাগরের পানিও তাকে পান করানো হয়, তবুও তার তৃষ্ণা কমবে না।

কবরের তিন শাস্তি
১. তার কবর এত সংকীর্ণ করা হবে যে, তার এক পাঁজরের হাড় অন্য পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যাবে।
২. তার কবরে আগুন জ্বালানো হয়, সে আগুনের শিখার ওপর দিনরাত উলট-পালট অবস্থায় দগ্ধ হতে থাকবে।
৩. তার কবরে একটি ভয়ংকর বিষধর অজগর নিয়োগ করা হবে। যার চোখ দু’টি আগুনের এবং নখরগুলো লোহার মতো শক্ত কিছু দ্বারা তৈরি হবে। অজগরটি বজ্রের ন্যায় আওয়াজ দেবে এবং মৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘন্টা রাতদিন কেয়ামত পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে।

কেয়ামতের তিন শাস্তি
১. অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে বেনামাজির হিসাব নেওয়া হবে।
২. তাকে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেওয়া হবে।
৩. অত্যন্ত অপমানের সঙ্গে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, কেয়ামতের দিন বেনামাজি কপালে তিনটি লাইন লেখা অবস্থায় উঠবে। ‘হে আল্লাহর হক বিনষ্টকারী।’ ‘হে আল্লাহর গজবের পাত্র! দুনিয়াতে তুমি যেভাবে আল্লাহর হক নষ্ট করেছো, সেরূপ আজ তুমি আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত।’ অতএব জ্ঞান থাকা অবস্থায় কোনো মুমিন-মুসলমানের জন্য কোনো অবস্থায় নামাজ পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।

;