করোনা ও বন্যাকালে ঈদ: জাগ্রত হোক মানবতাবোধ



মুহাম্মদ ইমদাদুল হক ফয়েজী, অতিথি লেখক, ইসলাম
করোনা ও বন্যাকালের ঈদে জাগ্রত হোক সবার মানবতাবোধ, ছবি: সংগৃহীত

করোনা ও বন্যাকালের ঈদে জাগ্রত হোক সবার মানবতাবোধ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস, অপরদিকে বানের ভাসছে পানিতে প্রিয় মাতৃভূমির অনেক এলাকা। এরই মাঝে ত্যাগ ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে হাজির মহিমান্বিত ঈদুল আজহা। কঠিন ক্রান্তিকালে আনন্দ ও খুশির এ মহোৎসবে আমাদের পারস্পরিক সহানুভূতিশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সমাজের বিত্তবানরা বন্যাদুর্গতসহ সকল প্রকার অসহায়দের প্রতি কল্যাণের হাত প্রসারিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ সাধ্যের আলোকে পারস্পরিক দয়াপরবশ হতে হবে। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, নিঃস্ব, দুর্বল, অসহায়, অনাথদের প্রতি এগিয়ে আসতে হবে। তাদের কল্যাণার্থে উদ্যোগী হতে হবে এবং প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইসলাম মানবতার ধর্ম। দুর্বল, দুঃখীজনের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ, কোমল আচরণ ইসলামের অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি ও আদর্শ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর আত্মীয়-স্বজনকে দাও তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্থ ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপচয় করো না।’ -সূরা ইসরা: ২৬

আল্লাহতায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ -সূরা জারিয়াত: ১৯

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেটপুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে।’ -আদাবুল মুফরাদ

সময় এখন পারস্পরিক কল্যাণকামীতা, সহানুভূতি ও সহযোগিতার। করোনা ও বন্যাকালের ঈদে দুঃখীদের মুখে একমুঠো অন্ন তুলে দেওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। প্রয়োজন, তাদের মুখে এক টুকরো হাসি ফুটানো। পারবো তো- পারস্পরিক সুখ-দুঃখ, হাসি-খুশি ভাগাভাগি করতে?

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন, ‘ইসলামে উত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, কারও মুখে আহার তুলে দেওয়া।’ -সহিহ বোখারি

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হবে, মহান আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পার্থিব কষ্ট বা বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তার কষ্ট বা বিপদ দূর করে দেবেন।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

আবার কঠিন হৃদয়ের লোকদের সতর্ক করে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

করোনা ও বন্যার এ কঠিন দুঃসময় কাটিয়ে ওঠতে আমাদের জন্য অধিক ফলপ্রসূ পন্থা হচ্ছে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্য, সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও দান-সদকার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাদের প্রতিদান তাদের রব এর নিকট রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ -সূরা বাকারা: ২৭৪

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার অপর মুসলিম ভাইয়ের সাহায্য করে আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্য-সহযোগিতা করেন।’ -সহিহ মুসলিম

অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দান-সদকা বিপদ-বিপর্যয় দূর করে, জীবনে সমৃদ্ধি এনে দেয়, পাপমোচন করে, আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচিয়ে রাখে, অসুখ-বিসুখ থেকে সুস্থতা পাওয়া যায়।

তাই আসুন, আমরা একটু সচেষ্ট হই। প্রেম-মমতা ও মহানুভবতা দিয়ে দুঃখ-কষ্টকে জয় করি। আমাদের উদ্যোগ, প্রচেষ্টা হয়তো অসহায়-ক্লিষ্টদের দুঃখ যন্ত্রণার অবসান করতে পারবে না; তবে আমাদের এ প্রেম, এ মানবতাবোধ, একটিবারের জন্যে হলেও, তাদের বিষন্ন মুখে ফুটিয়ে তুলবে প্রাণখোলা হাসি। বিভিন্ন দাতব্য ও সামাজিক সংস্থা কর্তপক্ষের প্রতি একান্তভাবে কামনা ও প্রত্যাশা- তুলনামূলক দরিদ্র, অবহেলিত, আর্তপীড়িত ও বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে অধিকহারে পশু কোরবানি ও গোশত সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

মুহাম্মদ ইমদাদুল হক ফয়েজী: সহকারী শিক্ষক, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, সিলেট।

আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে গতকাল শুক্রবার (১ ‍জুলাই) এক বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়, গতকাল তপন খন্দকার নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর হচ্ছে EE0540246। আর পিআইডি নম্বর 1459017।

এর আগে শুক্রবার তিন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন বলে জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তারা হলেন-রফিকুল ইসলাম (৪৭), ফাতেমা বেগম (৬০) ও আব্দুল গফুর মিয়া (৬২)। তাদের মধ্যে গফুর গত ২৮ জুন এবং রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) মারা যান।

এ পর্যন্ত ১০ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

;

সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদিতে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে আরও তিন বাংলাদেশি মারা গেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তারা হলেন-রফিকুল ইসলাম (৪৭), ফাতেমা বেগম (৬০) ও আব্দুল গফুর মিয়া (৬২)। তাদের মধ্যে গফুর গত ২৮ জুন এবং রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল বৃহস্পতিবার মারা যান।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পোর্টালে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রফিকুল ও ফাতেমা গতকাল এবং গফুর গত ২৮ জুন মারা যান।

পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখান্দার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের হজ আইডি নম্বর ০৫৭৬০৯৯ ও পাসপোর্ট নম্বর বিটি০৪৮৫৪৩৩, রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের হজ আইডি নম্বর ০৭৭৩০৫১ ও পাসপোর্ট নম্বর ইই০৩৮২৮৪৩ এবং টাঙ্গাইলের সখিপুরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর মিয়ার হজ আইডি নম্বর ০৭৭৩০৮০ ও পাসপোর্ট নম্বর বিওয়াই০০৬২২০২।

এ নিয়ে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪৮ হাজার ১৭১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৮৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪ হাজার ৭৮৬ জন গিয়েছেন। চলতি বছর প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি হজে যাবেন।

এখন পর্যন্ত ১৩৩টি ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গিয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি ফ্লাইট বিমান বাংলাদেশের, ৫০টি সৌদি এয়ার লাইনসের ও ৮টি ফ্লাইনাসের।

;

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজরি ১৪৪৩ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১০ জুলাই রোববার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হজ অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুলাই।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন।

মুসলমানরা হিজরি বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। আল্লাহতায়ালার আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর জন্য কোরবানি করার ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য ওপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে ওই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আজহা’ বলা হয়ে থাকে।

;

ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ৯ জুলাই না ১০ জুলাই উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে।

কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;