একদিনে ঈদ পালন নিয়ে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়



মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, অতিথি লেখক, ইসলাম
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত ও মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, ছবি: সংগৃহীত

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত ও মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাদের যুগ থেকেই স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখে মুসলমানগণ রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

চাঁদ দেখার পর ১০ দিন সময় থাকলেও ঈদুল আজহার চাঁদ খেলাফতের অধীন কোনো অঞ্চলে বা মদিনার বাইরে কোনো প্রদেশে দেখা গিয়েছে কিনা এ সংবাদ নেওয়ার চেষ্টার কথা কোনো হাদিস বা ইতিহাসে নেই।

বরং তাবেয়ি হজরত কোরাইবের বর্ণনা এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা এ কথা প্রমাণিত যে, উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে এক শাসনের অধীনে হওয়া সত্যেও সে যুগের মুসলিম উম্মাহ একদিনে ঈদ ও রোজা করেননি।

সিরিয়ায় হজরত মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক রমজানের চাঁদ দেখার এবং শনিবার রোজা শুরু করার খবর ঈদের তিনদিন আগে পেয়েও ওই সাহাবি বলেছেন, আমরা মদিনার আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখব, অথবা ৩০ দিনে মাস পূর্ণ করে ঈদুল ফিতর পালন করব।

এই ধারা ও রীতিই স্থায়ী, প্রাকৃতিক এবং ইবাদতের মূল দর্শনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

তাছাড়া ঈদ একটি জাতীয় ইবাদত উৎসব ও বিষয়। ইসলামি আইনেই উলামা ও ফকিহগণের (ইসলামি স্কলার) সহযোগিতায় এর সিদ্ধান্ত ঘোষণার অধিকার সরকারের। তাই সরকারের শরিয়াসম্মত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা একটি ফেতনা। সুতরাং বাংলাদেশের কিছু গ্রামের একদিন আগে ঈদ পালন একটি বেআইনি কাজ ও ফেতনা।

বর্তমান মিডিয়ার কারণে কারো কারো কাছে মনে হয়, ঈদে মুসলিম উম্মাহ ভিন্ন! বড় দিনের মতো একসঙ্গে হয় না কেন? বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়নের এ যুগে ঐক্য না করে আলেম সমাজ দায়িত্বহীনতা বা গোঁড়ামির পরিচয় দিচ্ছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, রোজা ও ঈদ পালনে সারাবিশ্ব এক হওয়া জরুরি নয়। আরও জবাব হচ্ছে, সূর্যের গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় নামাজের সময়ে বিশ্বব্যাপী যেমন পার্থক্য স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। তেমনি চাঁদের গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে রোজা শুরু ও ঈদ পালনে বিশ্বজুড়ে আগপিছ হওয়াও স্বাভাবিক। আর রোজা ও ঈদের ক্ষেত্রে একদিন দু’দিনের ব্যবধানের কারণ হলো, সূর্যের মতো নতুন চাঁদ উদয়স্থলে বেশি সময় দৃশ্যমান থাকে না। দূর পশ্চিমে দেখার পর পূর্বের দেশে খবরটি পৌঁছাতে কোথাও তারাবির সময় কোথাও সাহরির সময় পার হয়ে যায়। অথবা এত অল্প সময় থাকে যে, দেশের সব মুসলিমের আমল করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন জাপান ও নিউজিল্যান্ড।

অথচ ইসলামের মৌলিক নীতি হচ্ছে, ‘আল্লাহতায়ালা মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেন না।’ -সূরা বাকারা: ২৮৬

আরেকটি কথা ভাবতে হবে, মহানবী (সা.)-এর নির্দেশ ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো’র তামিল কোনো দু’জন বিশ্বস্ত মুসলিম করার পর সারাবিশ্বকে জানানো বিশ বাইশ বছর আগে কি সম্ভব ছিল? এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলেই কি একথা বলা যাবে যে, দেড় হাজার বছর ধরে প্রযুক্তির অভাবে মুসলিম উম্মাহ ভুল করে আসছে? ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ সত্যেও আমাদের মুরব্বিরা রোজা রেখেছে? শবে কদর কয়দিন? আরাফার রোজা কবে? ইত্যাদি প্রশ্ন তুলে সংস্কারবাদীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন।

আল্লাহ না করুন, করোনাভাইরাস যেমন বৈশ্বিক সবকিছুর চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমন কোনো যুদ্ধ বা বিপত্তি যদি কল্পনাতীতভাবে বিশ্বে ঘটে আর তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ সাময়িকভাবে হলেও অকার্যকর হয়ে যায়, অথবা কেয়ামতের প্রাক্কালে আইটি ধ্বংস হয়। তখন কি সবাইকে আবার প্রাচীন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হবে না?

সমস্যা হলো, ‘প্রথম দেখা’র সংবাদে আমল করার ব্যাপারে। ঈদ পালন ও রোজার বিষয়ে বর্তমানে যারা অন্ধের মতো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমল করে চলছেন, তারা মূলত শরিয়তে নেই। অথবা তাদের দেশে গভীর জ্ঞানী কোনো আলেম বা ফকিহ নেই। যেমন মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর। কিংবা শক্তিমান মুসলিম শাসনের অধীনে নেই। যে কারণে তারা মনে করেন, এত দায় দায়িত্ব ও ঝামেলা করার দরকার নেই, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমল করতে থাকি।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করার কোরো শরয়ি ভিত্তি নেই। হাদিসে প্রথম দেখার মর্মকথা আছে। আর প্রথম নতুন চাঁদ পশ্চিমা কোনো দেশের আকাশে দৃশ্যমান হয় বেশি। সৌদি আরব বা হেজাযের কথা হাদিস-ফিকহ কোথায়ও নেই। বরং বিজিত হওয়ার পর থেকেই পবিত্র মক্কা ও মদিনার ব্যতিক্রমে রোজা ও ঈদ পালন করার হাজার বছর ধরে নজির আছে মিসর, সিরিয়া, কুফা, বসরা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর।

ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তের ভলিয়ম আমার কাছে আছে। জেদ্দা থেকে নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন বছর বিভিন্ন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ লিপিবদ্ধ আছে। উদয়স্থলের ভিন্নতা মেনে চলার স্বীকৃতিও আছে। আবার এক শহরে চাঁদ দেখা ‘সাব্যস্ত হলে’ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমদের জন্য তা প্রযোজ্য এ রকম সিদ্ধান্তও আছে। কিন্তু বিশ্বের জমহুর উলামা ও ফকিহগণ এ বিষয়ে কখনও একমত না হওয়ায় সবদেশের সরকার একমত হতে পারেনি।

রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক চরিত্র বিবেচনায় কোরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে বাস্তবেও এমন কোনো দেশ কি আছে? যে দেশের চাঁদ দেখার খবর ও ঘোষণা অন্য সবদেশ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিজ দেশের মানুষকে বছরের পর বছর রোজা, তারাবি, ঈদ ও কোরবানি করার জন্য বলবে?

সর্বোপরি ইসলামি ইবাদত-বন্দেগির বৈশিষ্ট্য হলো, সারাবিশ্বে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতে থাকবে। কোথাও আজান, কোথাও নামাজ। কোথাও ফজর, কোথাও জোহর। কোথাও রোজা, কোথাও ইফতার, কোথাও ঈদ আর কোথাও কোরবানি। বিশ্বময় মুসলিম উম্মাহ আল্লাহতায়ালার মহিমা ঘোষণা করতে থাকবে। তাওহিদের বাণী উচ্চারিত হতে থাকবে সর্বত্র, সবসময়।

তর্কের খাতিরে যদি সংস্কারবাদীদের কথা সমর্থন করা হয়, তাতেও অনেক সমস্যা রয়েছে। যেমন, পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের সরকার ও ফকিহগণ একমত না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুনধারা সারাবিশ্বে চালু করা ঝুকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনে মধ্যপ্রাচ্যের মতো শাসকদের ঘোষণায় পুরো মুসলিম উম্মাহর নির্ভর করা কতটুকু নিরাপদ হবে?

শায়খ বিন বায, শায়খ সালেহ আল উছাইমিন ও শায়খ তকি উসমানিসহ আরব আজমের ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত যে, ইসলামের প্রাথমিক কাল থেকে চলে আসা রীতি সম্পূর্ণ সঠিক। দ্বিতীয় মতটি কিতাবে থাকলেও কোনোদিনই বাস্তবে আসেনি।

বিজ্ঞ আলেমদের মতে, এ দেশে যারা এক উদয়স্থলে এবং এক সরকারের অধীনে থেকে ভিন্ন দিনে রোজা ও ঈদ পালন করছেন, তারা একাধারে শরিয়ত ও সরকার বিরোধী কাজ করছেন। তারা না সৌদি আরবের সঙ্গে আছেন, না প্রথম দেখার সঙ্গে। তাদের ঈদ কখনও সৌদির সঙ্গে মেলে আবার কখনও প্রথম দেখার সঙ্গে।

আর একটি ধারণা এখন বেশি প্রচার হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে রোজা ও ঈদ পালনে লুনার ক্যালেন্ডার অনুসরণ। বিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের মতে, এটি বাস্তবায়নের দাবিদাররা শরিয়তের সীমারেখার বাইরে চিন্তা করছেন। কারণ, নামাজের ওয়াক্তের জন্য সূর্যের বিকল্প ঘড়ি হয়। কিন্তু রোজা শুরু ও ঈদ পালনে চোখে চাঁদ দেখার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের সময়সূচি কথায় ও আমলের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর রোজা শুরু ও ঈদ পালনের ক্ষেত্রে বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। যদি আকাশ অস্পষ্ট থাকে তাহলে শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করে নাও।’ -সহিহ বোখারি: ১৯০৯

সব মুহাদ্দিস এ বিষয়ে একমত যে, মহানবী (সা.) এ হাদিসে সরাসরি চাঁদ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি পর্যালোচনা। এর সঙ্গে সহমত ও দ্বিমত পোষণের অবকাশ আছে। এ বিষয়ে জ্ঞানী আলেমদের পরামর্শকে স্বাগত জানাই।

মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান: মুহাদ্দিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ

ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু বিশেষ সময় কিংবা মুহূর্তকে মহান আল্লাহ তাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম সময় হলো- রাতের শেষ ভাগ। হজরত আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ ভাগে মহান প্রভু আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি এই সময় আল্লাহর স্মরণ করতে পারলে তা করো।’ –সহিহ বোখরি : ১১৪৫

তা ছাড়া মহান আল্লাহ সকাল-সন্ধ্যাকেও ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তৈরি করেছেন। পবিত্র কোরআনে হজরত দাউদ (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) নিয়োজিত করেছি পর্বতকে, যাতে তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও। সবাই ছিল তার অনুগত।’ –সুরা সাদ : ১৮-১৯

বর্ণিত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, সকাল-সন্ধ্যায় শুধু মানুষই নয়। গোটা সৃষ্টি জগৎই আল্লাহর তাসবিহে নিয়োজিত থাকে। সুতরাং এই দুটি সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দার দৈনিক আমলগুলো মহান আল্লাহর দরবারে দুই কিস্তিতে পেশ করা হয়। দিনের আমল দিন শেষে রাত আসার আগে। আর রাতের আমল প্রতি রাতের শেষে দিনের সূর্য উদিত হওয়ার আগে।

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে পাঁচটি কথা বললেন, আল্লাহ কখনও নিদ্রা যান না। নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। তিনি তার ইচ্ছানুসারে তুলাদণ্ড নামান এবং উত্তোলন করেন। দিনের আগেই রাতের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয় এবং রাতের আগেই দিনের সব আমল তার কাছে উত্থিত করা হয়। এবং তার পর্দা হলো নুর (বা জ্যোতি)। -সহিহ মুসলিম : ২৯৩

মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সময় হলো, সিজদা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ –সহিহ মুসলিম : ৪৮২

আজানের সময়ও মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয়, আসমানের দুয়ার খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়।’ -মাজমাউজ যাওয়ায়েদ : ১৮৮৪

আজানের পর থেকে নিয়ে ইকামতের মধ্যবর্তী সময়টিও গুরুত্বের দিক থেকে কম নয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুল হয়। সুতরাং তোমরা দোয়া করো।’ –মেশকাত : ৬৭১

এ ছাড়া ইকামত, সৈন্য সমাবেশ ও বৃষ্টির সময় মহান আল্লাহ মানুষের দোয়া কবুল করেন। তাই এই মুহূর্তগুলোকেও অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোয়া কবুলের সুযোগ সন্ধান করো সৈন্য সমাবেশ, নামাজের ইকামত ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়।’ -বায়হাকি

জুমার দিন বেলা ডুবার পূর্ব মুহূর্তটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের ১২টি মুহূর্ত। তার একটি মুহূর্ত এমন, যখন কোনো মুসলিম কিছু চাইলে আল্লাহ তা তাকে দান করেন। তোমরা আসরের পরের শেষ মুহূর্তে তা অনুসন্ধান করো।’ –সহিহ বোখারি : ৬০৩৭

এ ছাড়া ইফতারের সময়, কদরের রাতে, আরাফার ময়দানে অবস্থানের সময় ও কাবাঘরের সামনে অবস্থানের সময়টুকু বান্দার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

;

নামাজে কাতার সংযুক্ত করে দাঁড়ানোর ফজিলত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা জানি, আল্লাহতায়ালার সামনে ফেরেশতারা গায়ে গায়ে লেগে লেগে মিলে মিলে দাঁড়ায়। তারা কাতারের মাঝে কোনো ফাঁকা রাখে না। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অমনোযোগীতা ও অসাবধনতার কারণে আমরা কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা রেখেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই; ফলে কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করা অনেক ফজিলতের কাজ, সওয়াবের আমল।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করবে আল্লাহতায়ালা তাকে (তার রহমতের সঙ্গে) যুক্ত করবেন। আর যে কাতারকে বিচ্ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে (তার রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন করবেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৬৬

বিচ্ছিন্ন কাতারকে যুক্ত করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর দ্বারা মহান আল্লাহর রহমত লাভ হয় এবং ফেরেশতাদের দোয়া-ইস্তেগফার লাভ হয়।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করে আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে। আর যে কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করেন।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৯৯৫

কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম সব বিষয়ে ডান দিক পছন্দ করতেন। কাতারের ক্ষেত্রেও একই কথা। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যখন নবীজীর পেছনে নামাজ পড়তেন তখন কাতারের ডান দিকে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেন। হজরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, ‘আমরা যখন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামাজ পড়তাম তার ডানে দাঁড়ানো পছন্দ করতাম।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬১৫

হাদিস শরিফে কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যারা কাতারের ডান দিকে দাঁড়ায় আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগফার করে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৬৭৬

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের স্বাভাবিকভাবেই কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানোর জন্য সামনের কাতারের বাম দিক খালি রেখে পেছনের কাতারের ডান দিকে দাঁড়ানো হবে। বরং চেষ্টা করবে, না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নামাজে দাঁড়াবে।

;

ওয়াজ মাহফিলের উপকারিতা



মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম, অতিথি লেখক, ইসলাম
সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম

সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম

  • Font increase
  • Font Decrease

ওয়াজ মাহফিল- কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরের একটি পাঠশালা। সেখানে শেখানো হয়, নামাজ কীভাবে পড়তে হয়? বলা হয়, নামাজ পড়ার ফজিলত, নামাজ না পড়ার ভয়াবহ শাস্তি। বয়ান করা হয়- দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে ও অবস্থা নিয়ে। সেই পাঠশালা থেকে মানুষ তার প্রয়োজনীয় ইলম (জ্ঞান) হাসিল করে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার পক্ষ হতে একটি হাদিস হলেও মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।’ -সুনানে তিরমিজি : ২৬৬৯

এই হাদিসের ওপর আমলের বেশি সুবিধা হয় ওয়াজ মাহফিল ও তাবলিগের মাধ্যমে। না হয় একজন একজন করে রাসুলের বাণী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব। ওয়াজ মাহফিলে মানুষের জমায়েত হয়, কৃষক, দিনমজুররাও উপস্থিত হয়, ফলে বক্তারা কথা বলতে আনন্দ পায়, মন খুলে কথা বলে। যার নিমিত্তে শ্রোতারাও আনন্দচিত্তে, খুশিমনে বক্তার নসিহত শ্রবণ ও আমল করার চেষ্টা করে।

নবী কারিম (সা.)-এর যুগেও সাহাবারা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কে ঘিরে বসে নসিহত শ্রবণ করত। যুগে যুগে এভাবে হয়ে আমাদের পর্যন্ত এসেছে। আয়োজনের ক্ষেত্রে ভিন্নতা ঘটেছে তবে কথা কোরআন ও হাদিসেরই। তখন খোলা আকাশের নীচে, গাছের নীচে সবাই বসতেন। এখন মানুষের সুবিধার্থে প্যান্ডেল, স্টেজ করা হয়। মাইকের ব্যবস্থা করা হয়।

সুস্থ-সমাজ গঠনে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, সেখানে বলা হয়, কীভাবে একটি সুস্থ, ইসলামি সমাজ গঠন করা যায়! ওয়াজ মাহফিল নিয়ে আসে ব্যক্তিজীবনের পরিবর্তন। যখন সাহাবা, অলি-আউলিয়াদের কথা বলা হয়, তখন নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন চলে আসে। নিজের জীবনেকে তাদের মতো করে গড়ার চেষ্টা করে।

ওয়াজ মাহফিল, ইসলামের ওপর চলার আগ্রহ বাড়ায়, ইসলামের ওপর চলতে সাহায্য করে। যখন ওয়াজে নামাজের ফজিলত, না পড়ার ভয়াবহ শাস্তির কথা বলা হয়, মেসওয়াক করার ফজিলত ও ফায়দার কথা বলা হয়, যখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের কথা বলা হয়, তখন ইসলামের ওপর চলার আগ্রহী হয়। কারণ, একজন পাগলও তার লাভ-লোকসান বুঝে। সেখানে একজন সুস্থ-মস্তিষ্কের মানুষ কেন বোঝবে না যে, এই কাজটি করলে তার লাভ (জান্নাত) হবে, না করলে লোকসান (জাহান্নাম) হবে।

ওয়াজ মাহফিলে আল্লাহর কথা, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা বলা হয়। যেখানে কোরআন-হাদিস নিয়ে আলোচনা হয় আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। রহমতের ফেরেশতারা বেষ্টন করে রাখে।

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা কম বেশি সবাই সওয়াবের ভাগীদার হয়

 

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা আমলে তেজ আসে। একটি বটিকে যদি ঘরে ফেলে রাখা হয়, সেটি ভোঁতা হয়ে যায়। ফেলে না রেখে কাজে লাগানো যায়, তাহলে তেজ বহাল থাকে। ঠিক তেমনি যত বেশি ওয়াজ মাহফিল হবে, সেখানে যত বেশি আমলের কথা বলা হবে, আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে, আমলের ফজিলতের কথা বলা হবে, ফলে আমলের তেজ থাকবে। যদি আমলের কথা বলা না হয় কিংবা শোনা না হয়, তাহলে আমলে অনীহা চলে আসবে, আস্তে আস্তে আমল ছেড়ে দেবে।

ওয়াজ মাহফিল দ্বারা কম বেশি সবাই সওয়াবের ভাগীদার হয়। মাহফিলে আমলের কথা শুনে কেউ যদি একটি আমল করে, যে আমল করল সে তো সওয়াব পাবে, যিনি এই আমলের কথা বললেন তিনিও সওয়াব পাবেন, যারা মাহফিলের আয়োজন করেছেন তারাও সওয়াবের ভাগীদার হবেন।

আমরা অনেকে বলে থাকি, এত এত ওয়াজ, মাহফিল হচ্ছে; কিন্তু কয়জন মানুষ হেদায়েত হচ্ছে? এক এলাকায় একটি মাহফিলই যথেষ্ট। এত ওয়াজ দিয়ে লাভ কী? এ ধরণের কথা যারা বলেন, তারা আজ থেকে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। কেননা হেদায়েতের মালিক আল্লাহতায়ালা। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, যাকে ইচ্ছা দেন না। এই ব্যাপারে কোনো মানুষের প্রশ্ন ওঠানো অযৌক্তিক। আল্লাহতায়ালা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে হেদায়েত দিতে পারবেন না, তবে আল্লাহতায়ালাই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন। -সুরা কাসাস ৫৬

যেখানে স্বয়ং রাসুলকে এই ক্ষমতা দেননি যে, যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু সৎপথের দিকে আহবান করতে পারবেন। অন্য আয়াতে বলেন, ‘আপনি উপদেশ দিন। কেননা, উপদেশ বিশ্বাসীদের উপকারে আসে।’ -সুরা আয-যারিয়াত : ৫৫

আল্লাহতায়ালা নবী কারিম (সা.)-কে উপদেশ দিতে বলছেন। হেদায়েতের মালিক আল্লাহ! তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেবেন। আমাদের এতে মাথাব্যথা কেন? আলেমদের কাজ হলো- হক-বাতিল, হালাল-হারামের কথা বলে যাওয়া। যথাযথভাবে ইসলামের বিধান, কোরআন ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা মানুষের সামনে তুলে ধরা। মানুষকে উপদেশ দেওয়া। যে গ্রহণ করলো সে লাভবান হলো, যে গ্রহণ করলো না তার ক্ষতি হলো।

;

অনবরত সওয়াব লেখা হয় যে দোয়া পাঠে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অনবরত সওয়াব লেখা হয় এই দোয়া পাঠে

অনবরত সওয়াব লেখা হয় এই দোয়া পাঠে

  • Font increase
  • Font Decrease

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খলকিহি, ওয়া রিজাকা নাফসিহি, ওয়া জিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।’

অর্থ : আমি আল্লাহতায়ালার পবিত্রতা ও তার প্রশংসা বর্ণনা করছি, তার সৃষ্টি সংখ্যা পরিমাণ, তার মর্জি অনুযায়ী, তার আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার কালামের কালির পরিমাণ।

উপকার : হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতসকালে আমার কাছ থেকে ঘরের বাইরে গেলেন এবং আমি জায়নামাজে বসে অজিফা পড়ছিলাম, তারপর চাশতের পর দিনের এক-চতুর্থাংশ চলে গেল। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ফের ঘরে এলেন। তখনও আমি একই অবস্থায় জায়নামাজে অজিফা পড়ায় মগ্ন ছিলাম। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে আমাকে বলেন, আমি যাওয়ার সময় তোমাকে যে অবস্থায় দেখেছি, এখনও কি তুমি সেই আগের অবস্থায় রয়ে গেছ? আমি বলেছি হ্যাঁ, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর যে চারটি কলেমা পাঠ করেছি, তা যদি তোমার সকাল থেকে এই পর্যন্তের সব অজিফার বিপরীতে ওজন করা হয়, তাহলে এই চারটি কলেমার ওজন বেশি ভারী হবে। -সহিহ মুসলিম : ৬৮০৬

অন্য বর্ণনায় হাদিসে উল্লেখিত দোয়ায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ‘সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহি সুবহানাল্লহি রিজা নাফসিহি সুবহানাল্লহি জিনাতা আরশিহি সুবহানাল্লহি মিদাদা কালিমাতিহি।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার অসংখ্য মাখলুকের পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমান, তার আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার কালিমাসমূহের সংখ্যার সমান।’ –সহিহ মুসলিম : ৬৮০৭

;