একদিনে ঈদ পালন নিয়ে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়



মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, অতিথি লেখক, ইসলাম
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত ও মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, ছবি: সংগৃহীত

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত ও মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাদের যুগ থেকেই স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখে মুসলমানগণ রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

চাঁদ দেখার পর ১০ দিন সময় থাকলেও ঈদুল আজহার চাঁদ খেলাফতের অধীন কোনো অঞ্চলে বা মদিনার বাইরে কোনো প্রদেশে দেখা গিয়েছে কিনা এ সংবাদ নেওয়ার চেষ্টার কথা কোনো হাদিস বা ইতিহাসে নেই।

বরং তাবেয়ি হজরত কোরাইবের বর্ণনা এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা এ কথা প্রমাণিত যে, উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে এক শাসনের অধীনে হওয়া সত্যেও সে যুগের মুসলিম উম্মাহ একদিনে ঈদ ও রোজা করেননি।

সিরিয়ায় হজরত মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক রমজানের চাঁদ দেখার এবং শনিবার রোজা শুরু করার খবর ঈদের তিনদিন আগে পেয়েও ওই সাহাবি বলেছেন, আমরা মদিনার আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখব, অথবা ৩০ দিনে মাস পূর্ণ করে ঈদুল ফিতর পালন করব।

এই ধারা ও রীতিই স্থায়ী, প্রাকৃতিক এবং ইবাদতের মূল দর্শনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

তাছাড়া ঈদ একটি জাতীয় ইবাদত উৎসব ও বিষয়। ইসলামি আইনেই উলামা ও ফকিহগণের (ইসলামি স্কলার) সহযোগিতায় এর সিদ্ধান্ত ঘোষণার অধিকার সরকারের। তাই সরকারের শরিয়াসম্মত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা একটি ফেতনা। সুতরাং বাংলাদেশের কিছু গ্রামের একদিন আগে ঈদ পালন একটি বেআইনি কাজ ও ফেতনা।

বর্তমান মিডিয়ার কারণে কারো কারো কাছে মনে হয়, ঈদে মুসলিম উম্মাহ ভিন্ন! বড় দিনের মতো একসঙ্গে হয় না কেন? বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়নের এ যুগে ঐক্য না করে আলেম সমাজ দায়িত্বহীনতা বা গোঁড়ামির পরিচয় দিচ্ছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, রোজা ও ঈদ পালনে সারাবিশ্ব এক হওয়া জরুরি নয়। আরও জবাব হচ্ছে, সূর্যের গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় নামাজের সময়ে বিশ্বব্যাপী যেমন পার্থক্য স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। তেমনি চাঁদের গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে রোজা শুরু ও ঈদ পালনে বিশ্বজুড়ে আগপিছ হওয়াও স্বাভাবিক। আর রোজা ও ঈদের ক্ষেত্রে একদিন দু’দিনের ব্যবধানের কারণ হলো, সূর্যের মতো নতুন চাঁদ উদয়স্থলে বেশি সময় দৃশ্যমান থাকে না। দূর পশ্চিমে দেখার পর পূর্বের দেশে খবরটি পৌঁছাতে কোথাও তারাবির সময় কোথাও সাহরির সময় পার হয়ে যায়। অথবা এত অল্প সময় থাকে যে, দেশের সব মুসলিমের আমল করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন জাপান ও নিউজিল্যান্ড।

অথচ ইসলামের মৌলিক নীতি হচ্ছে, ‘আল্লাহতায়ালা মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেন না।’ -সূরা বাকারা: ২৮৬

আরেকটি কথা ভাবতে হবে, মহানবী (সা.)-এর নির্দেশ ‘চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো’র তামিল কোনো দু’জন বিশ্বস্ত মুসলিম করার পর সারাবিশ্বকে জানানো বিশ বাইশ বছর আগে কি সম্ভব ছিল? এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলেই কি একথা বলা যাবে যে, দেড় হাজার বছর ধরে প্রযুক্তির অভাবে মুসলিম উম্মাহ ভুল করে আসছে? ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ সত্যেও আমাদের মুরব্বিরা রোজা রেখেছে? শবে কদর কয়দিন? আরাফার রোজা কবে? ইত্যাদি প্রশ্ন তুলে সংস্কারবাদীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন।

আল্লাহ না করুন, করোনাভাইরাস যেমন বৈশ্বিক সবকিছুর চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমন কোনো যুদ্ধ বা বিপত্তি যদি কল্পনাতীতভাবে বিশ্বে ঘটে আর তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ সাময়িকভাবে হলেও অকার্যকর হয়ে যায়, অথবা কেয়ামতের প্রাক্কালে আইটি ধ্বংস হয়। তখন কি সবাইকে আবার প্রাচীন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হবে না?

সমস্যা হলো, ‘প্রথম দেখা’র সংবাদে আমল করার ব্যাপারে। ঈদ পালন ও রোজার বিষয়ে বর্তমানে যারা অন্ধের মতো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমল করে চলছেন, তারা মূলত শরিয়তে নেই। অথবা তাদের দেশে গভীর জ্ঞানী কোনো আলেম বা ফকিহ নেই। যেমন মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর। কিংবা শক্তিমান মুসলিম শাসনের অধীনে নেই। যে কারণে তারা মনে করেন, এত দায় দায়িত্ব ও ঝামেলা করার দরকার নেই, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমল করতে থাকি।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করার কোরো শরয়ি ভিত্তি নেই। হাদিসে প্রথম দেখার মর্মকথা আছে। আর প্রথম নতুন চাঁদ পশ্চিমা কোনো দেশের আকাশে দৃশ্যমান হয় বেশি। সৌদি আরব বা হেজাযের কথা হাদিস-ফিকহ কোথায়ও নেই। বরং বিজিত হওয়ার পর থেকেই পবিত্র মক্কা ও মদিনার ব্যতিক্রমে রোজা ও ঈদ পালন করার হাজার বছর ধরে নজির আছে মিসর, সিরিয়া, কুফা, বসরা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর।

ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। ওআইসি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তের ভলিয়ম আমার কাছে আছে। জেদ্দা থেকে নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন বছর বিভিন্ন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ লিপিবদ্ধ আছে। উদয়স্থলের ভিন্নতা মেনে চলার স্বীকৃতিও আছে। আবার এক শহরে চাঁদ দেখা ‘সাব্যস্ত হলে’ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমদের জন্য তা প্রযোজ্য এ রকম সিদ্ধান্তও আছে। কিন্তু বিশ্বের জমহুর উলামা ও ফকিহগণ এ বিষয়ে কখনও একমত না হওয়ায় সবদেশের সরকার একমত হতে পারেনি।

রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক চরিত্র বিবেচনায় কোরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে বাস্তবেও এমন কোনো দেশ কি আছে? যে দেশের চাঁদ দেখার খবর ও ঘোষণা অন্য সবদেশ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিজ দেশের মানুষকে বছরের পর বছর রোজা, তারাবি, ঈদ ও কোরবানি করার জন্য বলবে?

সর্বোপরি ইসলামি ইবাদত-বন্দেগির বৈশিষ্ট্য হলো, সারাবিশ্বে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতে থাকবে। কোথাও আজান, কোথাও নামাজ। কোথাও ফজর, কোথাও জোহর। কোথাও রোজা, কোথাও ইফতার, কোথাও ঈদ আর কোথাও কোরবানি। বিশ্বময় মুসলিম উম্মাহ আল্লাহতায়ালার মহিমা ঘোষণা করতে থাকবে। তাওহিদের বাণী উচ্চারিত হতে থাকবে সর্বত্র, সবসময়।

তর্কের খাতিরে যদি সংস্কারবাদীদের কথা সমর্থন করা হয়, তাতেও অনেক সমস্যা রয়েছে। যেমন, পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের সরকার ও ফকিহগণ একমত না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুনধারা সারাবিশ্বে চালু করা ঝুকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনে মধ্যপ্রাচ্যের মতো শাসকদের ঘোষণায় পুরো মুসলিম উম্মাহর নির্ভর করা কতটুকু নিরাপদ হবে?

শায়খ বিন বায, শায়খ সালেহ আল উছাইমিন ও শায়খ তকি উসমানিসহ আরব আজমের ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত যে, ইসলামের প্রাথমিক কাল থেকে চলে আসা রীতি সম্পূর্ণ সঠিক। দ্বিতীয় মতটি কিতাবে থাকলেও কোনোদিনই বাস্তবে আসেনি।

বিজ্ঞ আলেমদের মতে, এ দেশে যারা এক উদয়স্থলে এবং এক সরকারের অধীনে থেকে ভিন্ন দিনে রোজা ও ঈদ পালন করছেন, তারা একাধারে শরিয়ত ও সরকার বিরোধী কাজ করছেন। তারা না সৌদি আরবের সঙ্গে আছেন, না প্রথম দেখার সঙ্গে। তাদের ঈদ কখনও সৌদির সঙ্গে মেলে আবার কখনও প্রথম দেখার সঙ্গে।

আর একটি ধারণা এখন বেশি প্রচার হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে রোজা ও ঈদ পালনে লুনার ক্যালেন্ডার অনুসরণ। বিজ্ঞ মুহাদ্দিসদের মতে, এটি বাস্তবায়নের দাবিদাররা শরিয়তের সীমারেখার বাইরে চিন্তা করছেন। কারণ, নামাজের ওয়াক্তের জন্য সূর্যের বিকল্প ঘড়ি হয়। কিন্তু রোজা শুরু ও ঈদ পালনে চোখে চাঁদ দেখার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের সময়সূচি কথায় ও আমলের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর রোজা শুরু ও ঈদ পালনের ক্ষেত্রে বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। যদি আকাশ অস্পষ্ট থাকে তাহলে শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করে নাও।’ -সহিহ বোখারি: ১৯০৯

সব মুহাদ্দিস এ বিষয়ে একমত যে, মহানবী (সা.) এ হাদিসে সরাসরি চাঁদ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি পর্যালোচনা। এর সঙ্গে সহমত ও দ্বিমত পোষণের অবকাশ আছে। এ বিষয়ে জ্ঞানী আলেমদের পরামর্শকে স্বাগত জানাই।

মুফতি ওয়ালীউর রহমান খান: মুহাদ্দিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজরি ১৪৪৩ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১০ জুলাই রোববার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হজ অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুলাই।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন।

মুসলমানরা হিজরি বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। আল্লাহতায়ালার আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর জন্য কোরবানি করার ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য ওপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে ওই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আজহা’ বলা হয়ে থাকে।

;

ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ৯ জুলাই না ১০ জুলাই উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে।

কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;

ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা কোনদিন উদযাপন করা হবে, তা বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় জানা যাবে।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে ওইদিন সন্ধ্যায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে। কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;

মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাদের ইসলাম ও মানবতার মুক্তির দূত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ সময় তারা বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ভারতের উচিত বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা গ্রহণ করা। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা বরাবরের মতো নিরাপদ ও সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে যাচ্ছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, ভয়েস অব ল’ ইয়ার্স বাংলাদেশ-এর আহবায়ক সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলহাজ গিয়াস উদ্দিন, জমিয়তের সভাপতি মাওলানা শায়খ যিয়া উদ্দীন, সহ-সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান পৃথক বিবৃতি ও সভায় মহানবীকে (সা.) নিয়ে ভারতের বিজেপি নেতার কট‚ক্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রাযি.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিজেপির নেতারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সরকারিভাবে এর প্রতিবাদ করুন এবং চলমান জাতীয় সংসদে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করুন।

নারায়ণগঞ্জ: মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে থেকে আজ বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সির নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। 

ফরিদপুর: ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তার স্ত্রী  আয়েশা (রা:) কে নিয়ে ভারতীয় বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও তার সহযোগী নবীনকুমার জিন্দাল কর্তৃক অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ‌।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভারতে রাসূল (সা.)’র অবমাননার নিন্দা ও প্রতিবাদ স্বরূপ শুক্রবার জুমায় রেসালাতের উপর বয়ানের আহবান জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া। তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতা নূপুর শর্মা ও নাভিন জিন্দাল কর্তৃক ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশাকে (রা.) অবমাননার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রদান করেন।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে মহানবী (সা.) কে অবমাননামূলক বক্তব্যের প্র্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ ‘ল’ ইয়াস কাউন্সিল নোয়াখালী শাখা। গতকাল বিকালে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির মিলনায়তে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী বারে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম।

নীলফামারী: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জেষ্ট দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে নীলফামারীতে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জুমার নামাজ শেষে জেলার সকল মসজিদ থেকে মিছিল বের করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয় ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। এ সময় ধর্মীয় স্লোগান এবং বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও জ্যেষ্ঠ  নেতা নবীন কুমার জিন্দালের শাস্তির দাবির স্লোগানে মুখরিত হয় জেলা শহর।

রাজশাহী: ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মূখপাত্র নূপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এবং হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) কে নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের বড় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

রাজশাহী উলামা মাশায়েখ পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে কয়েক হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) কে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজিপি) দুই শীর্ষ নেতা আক্রমণাত্মক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ শুক্রবার (১০) জুম্মার নামাজের পর সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।

পঞ্চগড়: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার কটুক্তির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সর্বস্থরের মুসল্লিরা। জুম্মার নামাজের পর শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা শহরের শেরে বাংলা পার্কের চৌড়ঙ্গী মোড়ের সামনে সমবেত হন। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে মুসল্লিরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে গিয়ে সমাবেশ করে। এ সময় ‘বিশ্বনবীর অপমান, সইবে নারে মুসলমান’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘নুপুর শর্মার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন মুসুল্লি।

দিনাজপুর: ভারতে বিজেপি মুখপাত্র কর্তৃক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সম্পর্কে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে দিনাজপুরে বাদ জুম’আ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে,জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুমা’র নামজ শেষে শহরের ইন্সটিটিউট ও লোকভবন এলাকায় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা দলে দলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

ময়মনসিংহ: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ময়মনসিংহ সদরে গফরগাঁও, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জসহ জেলার সকল উপজেলায় জুমআর নামাজের শেষে  বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।  দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে এ প্রতিবাদ সামবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘‘বিশ্ব নবীর অপমান-সইবে না আর মুসলমান’’ এ প্রতিপাদ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

;