লঘু অপরাধের আসামিকে ১০টি গাছ লাগানোর নির্দেশ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লঘু অপরাধের শাস্তি হিসাবে আসামিদের ১০টি গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার আসামিদের এ সাজা প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. জুয়েল হোসেন দেওয়ান, মো. মানিক হোসেন দেওয়ান ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম। তারা কাফরুল থানাধীন দেওয়ান প্রপার্টিজের পরিচালক ছিলেন।

বাদী দেওয়ান প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদ হোসেন সিদ্দিক তার অভিযোগে বলেন, ২০১১ সালে জন্মলগ্ন থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত আসামিরা দেওয়ান প্রপার্টিজের পরিচালক ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৮ মে এক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তারা কোম্পানি ত্যাগ করেন।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী একটি স্বনামধন্য অডিট ফার্ম কোম্পানির হিসাব নিকাশ অডিট করবে এবং দায়ের অর্থ তারা কোম্পানিকে প্রদান করবেন।

পরের বছর ৩ মে একটি অডিট ফার্ম তাদের রিপোর্ট প্রদান করলে বিবাদী পরিচালকগণ তাতে আপত্তি দেন এবং দাবি উত্থাপন করেন যে তারাই কোম্পানির নিকট পাওনাদার।

তারই জের ধরে ২০১৭ সালের জুন মাসে আসামিরা বাদির বাসায় গিয়ে তাকে অডিট রিপোর্টের বিষয় কথা না বলতে বলেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনাটির তদন্ত করে কাফরুল থানার এসআই হোসনা আফরোজ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২৭ ও ৫০৬ ধারার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলাটির বিচার চলাকালে তার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, আসামিরা পরস্পর আত্মীয় এবং একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ক্ষণিকের উত্তেজনায় আসামিরা এ কাজ করেছেন।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, সাধারণত সাজা প্রদানের উদ্দেশ্য হলো সংশোধনমূলক. প্রতিহিংসামূলক নয়। তুচ্ছ এ ঘটনায় তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশন অফিসারের তত্বাবধানে প্রবেশনে দেওয়া সমীচীন মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আজাদ রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, বিচারক আসামিদের ৬ মাস কারাগারে শাস্তির বদলে প্রবেশন অফিসারের তত্বাবধানে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ৬ মাস প্রবেশন মঞ্জুর করেন।

প্রবেশন শর্তে আদালত উল্লেখ করেন যে, প্রবেশনকালীন আসামিরা কোনরূপ অপরাধের সাথে জড়িত হবেন না এমনটি একই অপরাধ আর করবেন না। পরস্পর শান্তি বজায় রাখবেন। বাদি ও বিবাদীগণের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিয়ে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে হবে এবং প্রবেশনকালীন আসামিরা ৫টি বনজ ও ৫টি ফলজ বৃক্ষরোপণ করবেন।

বিচারক তার রায়ে আরও উল্লেখ করেন যে, প্রবেশনকালীন আসামিদের আচরণ সন্তোষজনক না হলে প্রবেশন বাতিল হয়ে যাবে এবং তাদের ৬ মাস সাজা ভোগ করতে হবে। তবে প্রবেশনকালীন তাদের আচরণ সন্তোষজনক হলে এই দণ্ড তাদের চাকরিসহ ভবিষ্যতে জীবনে কোনরূপ অযোগ্যতা বলে গণ্য হবে না।