ভবন থেকে পড়ে মারা যাননি মামুন, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক মামুনের মৃত্যু হয়নি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কবির হোসেন।

এর আগে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কবির হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন খবর পেয়ে সেখানে যাই। মামুন নামের ওই শ্রমিক বিমানবন্দরের ভেতরে একটি নির্মাণাধীন গ্যারেজে কাজ করত। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে কিছু না পেয়ে হাসপাতালে নিহত মামুনের সহকর্মী ফাহিম ও ঠিকাদার ইকবাল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ফাহিম স্বীকার করে মামুন ভবন থেকে পড়ে মারা যাননি। তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। ফাহিম ও ইকবালকে তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

মামুনের সহকর্মী ফাহিম জানায়, তারা কয়েকজন বিমানবন্দরে কাজ করছিল। নিচে আরেক শ্রমিক লেলিন দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় মজা করতে গিয়ে উপর থেকে লেলিনের শরীরে বালি দেয় মামুন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। মামুন এক পর্যায়ে লেলিনের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। এতে লেলিনের মাথা ফেটে যায়। পরে লেলিনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একত্রে বসে এটা সমাধানও করা হয়। কিন্তু দুপুরে মামুন বাসায় খেতে গেলে লেলিন তার বুকে-পিঠে-মাথায় আঘাত করে। এতে অচেতন হয়ে যায় মামুন। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মামুনের বাড়ী দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার মোহনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মাজেদুল ইসলাম।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া বলেন, প্রথমে মনে করেছিলাম ভবন থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পেরেছি, আরেকজন শ্রমিক লেলিন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।