বাসচাপায় ২ সচিব নিহত: চালকের ৯ বছরের কারাদণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাসচাপায় দুই সচিব নিহতের ঘটনায় জামিনে থাকা পলাতক বাসচালক মো. আনোয়ার হোসেনকে একই মামলায় পৃথক তিনটি ধারায় নয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে আসামিকে দুই লাখ ছয় হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান।

বিচারিক আদালতের দণ্ডিত আসামি হলেন- দ্রুতি পরিবহনের চালক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামার খেলা গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে।

বাসচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপ্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৩০৪-খ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ৩৩৮-ক ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪২৭ ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বর্ণিত সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। একই সাথে আসামির উপর ৩০৪-খ ধারায় আরোপিত অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহত দুই পরিবারকে সমহারে প্রদান করার নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩১ জুলাই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাজারো জিপ গাড়িতে করে গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী সংযোগ মোড়ে এসে পৌঁছলে সকাল সাতটার দিকে দ্রুতি পরিবহনের বাসটি তাদের গাড়িকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাদেরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এঘটনায় সেদিনই বিসিক প্রধান কার্যালয় ঢাকার এজিএম মো. সামসুল হক বাদি হয়ে শিবালয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ২০১০ সালের ১৯ আগস্টে বাসচালকের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়া প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সারা দেশের পথশিশুকে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাপস কান্তি বল।

গত ১২ জুন রাজধানী ঢাকার দুই লাখসহ সারাদেশের পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধন দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। স্পোর্টস ফর হোপ অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট সংগঠনের পক্ষে ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল রিটটি দায়ের করেন।

নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব, জন্ম নিবন্ধন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট তাপস কান্তি বল বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে লাখো পথশিশু রয়েছে। এসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদ নেই। জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকার কারণে পথশিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকার কারণে শিশুরা অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

;

শিক্ষক লাঞ্ছনা: বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা জাহান এ রিট দায়ের করেন।

এর আগে গত ২৮ জুন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নড়াইলের কলেজ শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় রিট আবেদন নিয়ে আসতে বলেছিলেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনলে আদালত এ পরামর্শ দেন।

আদালতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনেন আইনজীবী পূর্ণিমা জাহান। তখন হাইকোর্ট বলেন, আপনারা রিট আবেদন নিয়ে আসুন। আমরা শুনব।

জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ছাত্র রাহুল দেব রায় গত ১৭ জুন ফেসবুকে ভারতে মহানবি (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ‘প্রণাম নিও বস নূপুর শর্মা, ‘জয় শ্রী রাম’ ক্যাপশন দেয়। এরপর ১৮ জুন সকালে তাকে কলেজে দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বিশ্বাস তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপস্থিত শিক্ষকদের জানান। এরপর স্থানীয় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুরসালিন, কলেজের জিবির সভাপতি অচিন চক্রবর্তী, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়।

এরপর মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুরসালিন কলেজে থেকে রাহুলকে নিয়ে যেতে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং বাধা দেন। কিছু সময়ের মধ্যে নড়াইল সদর থানার ওসি শওকত কবির অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে সেখানে পৌঁছান। কিন্তু রাহুলকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম আরও পুলিশ নিয়ে মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে যান। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের বুঝিয়ে রাহুলকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে লোকজন বাড়তে থাকে আর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আরও অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় সেখানে যান। রাহুলের উপযুক্ত বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই এলাকার সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাহুল রায়কে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন যোগ দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ফলে কলেজ চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এরপর কলেজের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন বিশ্বাস, শিক্ষক প্রশান্ত রায় ও শিক্ষক অরুন কুমার মণ্ডলের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

ওই দিন বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দু’জন মিলে উপযুক্ত বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে রাহুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় একদল যুবক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে মারপিট করে।

আলোচিত এই ঘটনার ১০দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে ১৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

;

যুদ্ধাপরাধ মামলা: হবিগঞ্জের মাওলানা শফিউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার মাওলানা শফি উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর আসামি সাব্বির আহমেদকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।

আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. তাজুল ইসলাম (৮০), মো. জাহেদ মিয়া (৬২) ও ছালেক মিয়া।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত ২৮ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার মাওলানা শফি উদ্দিনসহ পাঁচজনের রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

২০১৮ সালের ২১ মার্চ এ মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে তদন্ত সংস্থা। পরে তারা প্রসিকিউটর বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রসিকিউশন এ আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ মে রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের বিরুদ্ধে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

;

নিবন্ধনধারী ৪৮৩ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৪তম নিবন্ধনধারী ৪৮৩ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুন) ৪টি পৃথক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতের রায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ ও অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন। গত বছর জাকির হোসেনসহ ৪৮৩ নিবন্ধনধারী হাইকোর্টে রিট করেন।

এর আগে গত ১ জুন ১৩তম নিবন্ধনধারী ২৫০০ জনকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে করা পৃথক ৯টি রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

;