ডিসি অফিসে পর্দা দেবেন না, দরজা-জানালা খোলা রাখবেন: হাইকোর্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিসি অফিসে পর্দা দেবেন না, দরজা-জানালা খোলা রাখবেন: হাইকোর্ট

ডিসি অফিসে পর্দা দেবেন না, দরজা-জানালা খোলা রাখবেন: হাইকোর্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

আদালত অবমাননার মামলায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলামকে সতর্ক করে হাইকোর্ট বলেছেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বলে আপনারা কী ধরনের জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। চাকচিক্যময় জীবন-যাপন করেন। কীভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করে থাকেন। সেটাও জানি। এখন থেকে ডিসি অফিসের দরজা জানালা খোলা রাখবেন। যেন জনগণ আপনাদের চেহারা দেখতে পায়। আপনার দরজা-জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করবেন না।

আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত এক মামলায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক হাজির হলে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।

হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ডিসি হলো সরকারের হার্ট। আপনাকে জনগণের জন্য সেভাবে কাজ করতে হবে। ডিসি অফিসে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নাই। আপনারা একটা দরখাস্ত পর্যন্ত রিসিভ করেন না। এখন থেকে কোনো ধরনের উন্মাসিকতা দেখাবেন না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো কাজ করলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে। আদালত প্রশ্ন রেখে বলেন, কোথাও চুরি ডাকাতি হচ্ছে, সরকারি সম্পত্তি দখল হয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ না পেলে কি আপনি বসে থাকবেন। বসে থাকার সুযোগ নাই।

ডিসিকে  সতর্ক করে আদালত আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য ডিসি অফিসে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান না। আপনাদের অফিসের দরজা জানালা মোটা পর্দায় আবৃত থাকে। যার কারণে মানুষ আপনাদের ছবি পর্যন্ত দেখতে পায় না।

আদালতে ডিসি ও এসপির পক্ষে আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান ও ইউসুফ খান এবং এমডির পক্ষে সৈয়দ মিনহাজুল হক ও ব্যবসায়ী শফিকুলের পক্ষে রাগীব রউফ চৌধুরী শুনানি করেন।

বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুষ্টিয়ার ডিসিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও নিলামকৃত সম্পত্তি গ্রহণকারী ব্যবসায়ীকে ২৪ অক্টোবর শুনানির দিনে হাজির হতে বলা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও ১২৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ১৫ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি করার ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, এসপি মো. খায়রুল আলম, সদর থানার ওসি মো. সাব্বিরুল আলম ও নিলামে সম্পত্তি নেওয়া ব্যবসায়ী আব্দুল রশিদকে তলব করেন হাইকোর্ট। ২১ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

‘কৃষকের কোমরে দড়ি, হাজার কোটি টাকা আত্মসাতকারীর কিছুই হয় না’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হাইকোর্ট বলেছেন, মাত্র ২৫ হাজার টাকা খেলাপির জন্য দরিদ্র কৃষকের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ যাদের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা পাওনা তাদের কিছু করতে পারছেন না।

ঋণ আদায়ে ব্যাংকের চেক প্রতারণার মামলায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হাইকোর্টের এক রায় স্থগিতে করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার (২৮ নভেম্বর) এমন মন্তব্য করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

হাইকোর্টের রায়ের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের আবেদন ১ ডিসেম্বর শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদালত।

গত ২৩ নভেম্বর এক রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ঋণ আদায়ে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা করতে পারবে না।

আরও বলা হয়, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বিধান অনুযায়ী অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে।

চেক প্রতারণার অভিযোগে ব্র্যাক ব্যাংকের করা এক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর দণ্ড বাতিলও করেন হাইকোর্ট।

এই রায় স্থগিতে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে চেম্বার আদালতে শুনানি করেন আবু মোহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন। বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী।

;

জঙ্গি ছিনতাই: আত্মসমর্পণের পর ৪ দিনের রিমান্ডে আমিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর আসামি ঈদী আমিনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঈদী আমিন আত্মসমর্পণ করে আজ জামিনের আবেদন করেন। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২০ নভেম্বর দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। এসময় আরও দু’আসামি আরাফাত ও সবুরকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে জঙ্গিরা। পরে ঘটনাস্থল আরাফাত ও সবুরকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস বাদি হয়ে ২০ জনের নামে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়।

;

ময়মনসিংহে হত্যার দায়ে পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হত্যার দায়ে পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহে হত্যার দায়ে পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধে আবু রায়হান হত্যা মামলায় পিতা দুলাল মিয়া (৫৮) ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ ফরহাদকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আর ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রাশেদ তালুকদার এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি দুলাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপর আসামি তানভীর আহমেদ ফরহাদ পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মুক্তাগাছার কাসেমপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার সঙ্গে ফয়জুর রহমানের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেলে জমির আইল নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ফয়জুর রহমানকে। ফয়জুর রহমানের ডাক চিৎকারে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা ছুটে আসে। এ সময়ে ফয়জুর রহমানের ছেলে আবু রায়হানকে দা দিয়ে আঘাত করে প্রতিপক্ষরা। রক্তাক্ত অবস্থায় রায়হানকে উদ্ধার করে প্রথমে মুক্তাগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন নিহতের বাবা ফয়জুর রহমান বাদী হয়ে চার জনের নামে মুক্তাগাছা থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে দুই জনের সম্পৃক্ততা পায়।

;

জায়েদ নয়, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান প্রার্থিতা বৈধ বলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী নিপুণের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর নিপুণের আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। নিপুণের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। নিপুণ আক্তার পান ১৬৩ ভোট। এরপর টাকা দিয়ে ভোট কেনাসহ একাধিক অভিযোগ আনেন নিপুণ। পরে জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডে আবেদন করেন নিপুণ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে করণীয় জানতে আবেদন করেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আপিল বোর্ডকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার দায়ে বিজয়ী প্রার্থী জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করেন। একই সঙ্গে নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন।

আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন জায়েদ খান। ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন নিপুণ। ৯ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে স্থিতাবস্থা জারি করেন চেম্বার আদালত।

;