এমপি হারুনের জামিন স্থগিত চায় দুদক

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
এমপি হারুন, ছবি: সংগৃহীত

এমপি হারুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এর ওপর বুধবার (৩০ অক্টোবর) শুনানি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের করা আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান এটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগের দিন সোমবার (২৮ অক্টোবর) পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হারুন অর রশীদের করা আপিল গ্রহণ করে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। একই সঙ্গে তার ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের সাজা স্থগিত করেছেন আদালত। জামিনের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) আবেদন করে দুদক।

গত ২১ অক্টোবর (সোমবার) শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করে সেটি বিক্রির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির অপরাধে হারুন অর রশীদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম। একই সঙ্গে, তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

এমপি হারুন ছাড়াও পলাতক আসামি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে (এমডি, চ্যানেল ৯) ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার পর এমপি হারুনকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

চার দলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে একটি হামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্তভাবে কেনেন এমপি হারুন। গাড়িটি তিনি পরে আরেক আসামি ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন।

নিয়ম অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়, কিন্তু এমপি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক ইউনুছ আলী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :