সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিজানুরের অবস্থান খতিয়ে দেখার নির্দেশ সিআইডিকে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হাইকোর্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিল অফ এন্ট্রি জালিয়াতি ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিজানুর রহমান চাকলাদার দীপু দেশে না বিদেশে আছেন, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডিকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার সব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যও জানাতে বলেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মিজানুর রহমান চাকলাদারের জামিন নিয়ে রুলের শুনানিতে এ আদেশ দেন।

শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম তার ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার হাজার বিল অব এন্ট্রি জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিজানুর রহমানের জামিন বাতিল করে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

গত ২৭ অক্টোবর আপিল বিভাগ চেম্বার জজ আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। গত দুই বছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সাবেক দুই কর্মকর্তার ইউজার আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তিন হাজার ৭৭৭টি চালান অবৈধভাবে খালাস করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তদন্তে উঠে আসে।

শুল্ক ফাঁকি ও চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিজানুর রহমানকে আসামি করে গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার রমনা থানায় মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এ মামলায় সেদিনই তাকে গ্রেফতার করে শুল্ক গোয়েন্দারা।

আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

গত ২৩ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া। এ জামিন বাতিল চেয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

আদালত গত ২৫ জুন তার জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ না করে দায়রা জজ আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্টে এ আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হবার পর তিনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন গত ১০ জুলাই।

এরপর তিনি হাইকোর্ট থেকে গত ১৪ জুলাই জামিন নেন। এ জামিন আদেশের সময় হাইকোর্ট দুদককেও রুলের জবাব দিতে বলেছিলেন, সেই কারণে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আবেদন করে।

এরপর গত ২৭ আগস্ট তার জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত জামিন বাতিল করে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আসামি চেম্বার জজ আদালতের আদেশ অনুসারে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন :