‘মানবিক বিবেচনায় ও সহানুভূতিশীলরা কিডনি দিতে পারবেন’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট/ছবি: বার্তা২৪.কম

হাইকোর্ট/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মানবিক বিবেচনায় ও সহানুভূতিশীল যে কেউ কিডনি দিতে পারবেন। তবে মাদকাসক্ত ও কেনাবেচা করেন এমন কিডনি দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।

গত ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ সালের ২ (গ), ৩ ও ৬ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

তার আগে গত ৭ নভেম্বর কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সাত সদস্যর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কমিটি আদালতে মতামত দিয়েছিলেন।

তারা বলেছেন, আত্মীয় নয় এমন কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন নেই। আইনের বাইরে অন্য কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে দেশের দরিদ্র মানুষের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

ধনীরা বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার শুরু করবে। এতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারের মাত্রা বাড়বে। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন বিষয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। কারণ নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কারো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ রাখা হয়নি। তাই একজন সুস্থ মানুষ চাইলে অন্য কাউকে তার অঙ্গদান করতে পারবেন এমন আইন থাকা উচিত।

তার আগে গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চান। আদেশের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভিসি ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা.মুহাম্মদ রফিকুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অপর ছয় সদস্য হলেন- কিডনি ফাউন্ডেশনের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ, বিএসএমএমইউ’র নেপ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.আসিয়া খানম, বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম খুরশীদুল আলম, বারডেম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা এম এইচ ফয়সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম এবং জাতীয় কিডনি ডিজিস ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা।

২০১৭ সালের ২৪আগস্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ এর ২গ, ৩ ও ৬ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন ফাতেমা জোহরা নামে এক নারী। তিনি ২০১৫ সালে মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। তা সত্ত্বেও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে যায়। এরপর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা পেলেও আইনগত বাধায় মেয়েকে কিডনি দিতে না পেরে রিট আবেদন করেন হাইকোর্টে।

আপনার মতামত লিখুন :