পররাষ্ট্রের মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অপসারণের আদেশ বুধবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যৌন হয়রানির তদন্তের নির্দেশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবকে চাকরি থেকে অপসারণের বিষয়ে বুধবার (৮ জানুয়ারি) আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) অপসারণ চ্যালেঞ্জের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে আদেশের জন্য এই দিন রাখেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এ সময় আদালতের আহবানে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন।

শুনানিতে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, হাইকোর্ট যৌন হয়রানি অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর রিট আবেদনকারীকে অপসারণের আদেশ দেওয়া হলো। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আদালতের আদেশের একদিন আগেও অপসারণ করলে আমাদের অভিযোগ করার কিছু ছিল না। যেই মাত্র আদালত আদেশ দিলেন তখনই তাকে অপসারণ করা হয়েছে।

আইনজীবী বলেন, ২০১২ সালে যখন ভিকটিম টোকিওতে রাষ্ট্রদূত ছিলেন তখনই যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছিল। তখন রাষ্ট্রদূত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তার পক্ষ নেন। বরং অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করে নিউইয়র্কে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সেই রাষ্ট্রদূত এখন সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে ভিকটিমকে অপসারণ করেছেন।

তিনি বলেন, ভিকটিমের বিরুদ্ধে যে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তার কোনো অভিযোগকারী নেই। কে অভিযোগ করেছে বা কিসের ভিত্তিতে মামলা হলো সেটা মামলায় বলা হয়নি।

আদালত আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিনের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপসারণের আদেশ শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই নয় তার চেয়েও বড় কিছু। তারা এতদিন অপসারণের আদেশ না দিয়ে হাইকোর্টের আদেশের পর কেন করলেন? এতে বোঝা যায় তারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) আদালতের আদেশকে ফাস্ট্রেটেড করতে চায়।

এরপর আদালত বুধবার আদেশের দিন ধার্য করেন।

গত রোববার (৫ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ওই জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের যৌন হয়রানির ঘটনা তদন্তে ব্যর্থতার কারণ চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন।

ভিকটিম ২০১২ সালে জাপানের টোকিওতে এবং ২০১৩ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত থাকাকালীন যৌন হয়রানির শিকার হন।

এ ঘটনা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্ট আদেশ দেওয়ার তিন ঘণ্টা পরেই ওই জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবকে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চাকরি থেকে অপসারণ করে আদেশ জারি করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। অপসারণের এই আদেশ সোমবার চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

২৭ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ওই জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ময়মনসিংহের বাসিন্দা।

আপনার মতামত লিখুন :