ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছির

ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছির

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের ডিআইজি মিজান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে এ অভিযোগ গঠন করেন। এদিন আসামি বাছিরের পক্ষে অভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত সোমবার দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ও আসামি মিজানের পক্ষে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী অভিযোগ শুনানি করেন।

অভিযোগ গঠন শেষে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৩ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

গত বছরের ১৬ জুলাই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অন্য একটি মামলায় গত বছরের ২ জুলাই থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।

আবেদনে বলা হয়, মিজানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মামলার অপর আসামি দুদক পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) এনামুল বাছিরকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

আসামি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ হতে অব্যাহতি পেতে অপর আসামি এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করতে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অপরাধলব্ধ আয় থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করে পরস্পর অপরাধ করেছেন।

নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ তদন্ত শুরু করেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। কিন্তু তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেন বাছির।

এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ডিআইজি মিজান অভিযোগ করেন, মামলা থেকে বাঁচাতে বাছির তার কাছে থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রমাণ স্বরূপ বাছিরের সঙ্গে তার কথোপকথন ফাঁস করে দেন। তবে এনামুল বাছির তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০১৯ সালের ২৪ জুন তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মিজান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনা রত্না, ভাগ্নে এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে আসামি করে মামলা করে দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

গত বছরের ১ জুলাই আত্মগোপনে থাকা এ পুলিশ কর্মকর্তা হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। ২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

আপনার মতামত লিখুন :