স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির ড্রাইভার শত কোটি টাকার মালিক!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আব্দুল মালেক (৬৩) একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। আর সেই কিনা শত কোটি টাকার মালিক। আছে একাধিক বাড়ি ও গাড়ি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) র‍্যাবের মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ র‍্যাব সদর দফতরের তার সম্পর্কে এসব তথ্য দেন।

এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর প্রায় ১২ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‍্যাব জানতে পারে গাড়িচালক মালেক শতাধিক কোটি টাকার মালিক। সঙ্গে রাখেন বিদেশি পিস্তল। কিন্তু সবাই জানে তিনি একজন ড্রাইভার।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাবের নজরদারিতে আমরা একজন ব্যক্তির সন্ধান পাই তুরাগ এলাকায়। তার নাম আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভার। যিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন অতি অল্প সময়ের মধ্যে। তার সম্পদ দেখাশুনার জন্য তিনি বিদেশে একটি পিস্তল ব্যবহার করে। এমন একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ৫ রাউন্ড গুলি, জাল টাকা, ল্যাপটপসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি আব্দুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডিজির গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। পাশাপাশি অধিদফতরের ড্রাইভার ও শ্রমিকদের একটি সংগঠন রয়েছে সেটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি।

র‍্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, মালেক প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে স্বীকার করেছে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার বহুতল বিশিষ্ট একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বর্তমানে শতাধিক কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে দুদক থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তুরাগ থানা অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে (জাল টাকা) একটি মামলা হয়েছে।

আব্দুল মালেক সম্পর্কে আশিক বিল্লাহ জানান, আব্দুল মালেক ১৯৮৩ সালে মাস্টার রোলে চাকরি শুরু করেন। তিনি অষ্টম শ্রেণী পাস একজন ব্যক্তি। ১৯৮৬ সালে মাস্টাররোল থেকে তার চাকরি তৃতীয় শ্রেণীতে পদোন্নতি পায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় দিনে দিনে সে অর্থ বৈভবের মালিক হতে থাকে। বিভিন্ন কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলিসহ নানান কাজে তদবির করে দেওয়ার নামে এসব অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সে। এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এসব অর্থের পরিমাণ শতাধিক কোটি টাকা। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পাশাপাশি মানি লন্ডারিং এর ক্ষেত্রে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে মনে করে র‍্যাব।