নিয়মিত কুকুর আসছে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে, থাকছে অভুক্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা।

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর পথেঘাটে বেওয়ারিশ কুকুর থাকবে কি থাকবে না, এই আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৩০ হাজার কুকুর শহরের বাইরের লোকালয়ে স্থানান্তরিত করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর সরানো শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় ঘুমের ওষুধ দিয়ে অন্তত ১০০ কুকুরকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক-দুই দিন পর পর সিটি করপোরেশনের ট্রাকে নিয়মিত কুকুর আসছে মাতুয়াইলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে প্রায় ১০০ একর জমি জুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগার রয়েছে। সেখানে কুকুরগুলোর খাবারের সংকট রয়েছে। এখানে যে ধরনের বর্জ্য আসছে, তা থেকে খাওয়ার মতো কিছু পাচ্ছে না কুকুরগুলো।

অনেক আগে আসা কুকুরগুলো দিনের পর দিন অভুক্ত থাকায় রোগা হয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে মারা যাচ্ছে বলেও দাবি করছে সেখানে কাজ করা শ্রমিকরা।

সিটি করপোরেশনের হয়ে কাজ করা শ্রমিক মজিরন বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি, এখানে ২-১ দিন পর পর ট্রাকে করে কুকুর এনে ছেড়ে দিয়ে যায়। প্রতি ট্রাকে ১৫-২০টি করে কুকুর থাকে। তাদের ইনজেকশন দিয়ে এখানে আনা হয়। মজিরনের ধারণা, আনুমানিক ৫০০ এর মতো কুকুর থাকতে পারে পুরো এলাকায়।’

বেওয়ারিশ কুকুর।

মজিরনের সঙ্গেই কাজ করেন মালা নামে আরেকজন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এখানে আসার পর কুকুরগুলো দলে দলে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু তারা কিছু খেতে পায় না। আমি গত ৫ বছর ধরে এখানে কাজ করি। এখানে বাসা-বাড়ির ময়লা আসে না। তাই ময়লার ভেতরে খাবার থাকে না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য পরিবহনের চালক সাইফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কুকুর নিয়ে আসার ট্রাকগুলো আলাদা। আমি কোনো দিন কুকুর নিয়ে আসিনি। কুকুরগুলো নিয়ে এসে মাঝ ভাগারে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানে কখনো দলে দলে, কখনো একা খাবারের সন্ধান করে কুকুরগুলো।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা পার্কসহ আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রমনা এলাকার বাসিন্দা নাসের আলী জানান, ঢাকা শহরের রাস্তায় কুকুরের আনাগোনা প্রায়ই চোখে পড়ত। এছাড়া আবাসিক এলাকা, গলির মুখে বা যেখানে ময়লা জমে থাকে সেখানে একাধিক কুকুর দেখতে পাওয়া যেত। কিন্তু হঠাৎ করেই কুকুর কম চোখে পড়ছে।

টিএসসিতে ডাব বিক্রেতা জহুরল ইসলাম বলেন, ‘আগের মতো কুকুর আর চোখে পড়ে না। শুনেছি ধরে নিয়ে গেছে। দিনের বেলায় নেয়াতে ঝামেলা হচ্ছিল। তাই রাতে কুকুরগুলো ধরা হচ্ছে।’

অন্যদিকে কুকুর নিধন বা অপসারণের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি সংগঠন।

তারা বলছেন, স্থানান্তর করলে আসলে সমস্যা কমবে না বরং আরও বাড়বে।

অ্যানিমেল কেয়ার ট্রাস্ট বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করেন আফজাল খান। তিনি জানান, এতো সংখ্যক কুকুরকে এক সঙ্গে কোনো একটি অঞ্চলে ছেড়ে দেয়া হলে সেখানে অবশ্যই খাদ্য সংকট দেখা দেবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রমনা পার্ক থেকে কুকুর অপসারণ করা হয়েছে। গত রোববার থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কুকুর অপসারণ অভিযান শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এক সময় ঢাকা সিটি করপোরেশন পিটিয়ে কুকুর নিধন করত। ২০১২ সালে উচ্চ আদালত এভাবে কুকুর নিধনকে অমানবিক উল্লেখ করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন।