কাচের টুকরো রেখে সেলাই, পা হারাতে বসেছে কিশোর সাকিব

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নেত্রকোনা
কিশোর সাকিব।

কিশোর সাকিব।

  • Font increase
  • Font Decrease

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গ্রাম্য এক হাতুরে ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে পা হারাতে বসেছে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সাকিব নামে এক কিশোর।

এ ঘটনায় ওই হাতুরে ডাক্তারের বিরুদ্ধে নেত্রকোনার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (২) একটি মামলা দায়ের করেছেন সাকিবের বাবা শাহালম। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিকেলে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের শাহালমের ছেলে কিশোর সাকিব ফুটবল খেলতে গেলে তার পায়ে বোতল ভাঙার কাচের টুকরো ঢুকে যায়। পরে হাতুরে ডাক্তার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত খুশিদ ফকিরের ছেলে খায়রুলের ফার্মেসিতে সাকিবের চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় সাকিবের পায়ে ভাঙা কাচের টুকরো রেখেই ৬টি সেলাই করে ওষুধ দেন তিনি। ওষুধ সেবনের কয়েক মাস পরেও সাকিবের পায়ে ব্যথা আরও বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন সাকিবকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সরে করার পর জানতে পারেন সাকিবের পায়ের ভিতরে কাচের টুকরো রয়েছে এবং পায়ের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে গেছে। চিকিৎসক দ্রুত সাকিবের পায়ে অপারেশন করতে পরামর্শ দেন। পরে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি তার পায়ে অপারেশন করে কাচের টুকরো বের করা হয়।
কাচের টুকরোটি দীর্ঘদিন তার পায়ের ভেতর থাকায় পচন দেখা দিয়েছে। এতে পা টি অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা সাকিবের পরিবারকে জানিয়েছেন। এদিকে অপারেশনের পর থেকে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই কিশোর। ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই পা নিয়ে হাঁটতে পারছে না সে।

এ বিষয়ে কিশোর সাকিবের বাবা শাহালম বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাই। হাতুরে ডাক্তার খায়রুলের ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমার ছেলেটি পঙ্গু অবস্থায় বাড়িতে শুয়ে দিন কাটাচ্ছে। ছেলের অপারেশনসহ তার চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ১ লাখ টাকার মতো লেগেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছি। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। এছাড়া এলাকার আরও অনেকে খায়রুলের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে।’

এ বিষয়ে হাতুরে ডাক্তার খায়রুল বলে, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সাকিবের পায়ের ড্রেসিং করে দিয়েছিলাম। কাটা বা সেলাই করিনি।’

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে।