‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন করা উচিত’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বজুড়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্য এবং কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিরোধে জাতিসংঘকে দুর্বল করা চলবে না বলেও মত দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বে ধারণকৃত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ইতিহাসে নানা সময় মানব সভ্যতার পথ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে এসেছে। জাতিসংঘের ৭৫ বছরপূর্তি সেই রকম আরেকটি মূহূর্ত হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।

এসময় তিনি জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শান্তি রক্ষা মিশনে সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সংঘাত কবলিত দেশগুলোতে শান্তি সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের দেড় শতাধিক শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

করোনা পরিস্থিতির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মহামারিসহ বর্তমান সময়ের নানা সংকট ভিশন ২০৩০ অর্জনকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। এছাড়া এই মহামারি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংকট সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই মহামারি দেখিয়েছে যে, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে জাতিসংঘকে বেশি প্রয়োজন। প্রমাণ হয়েছে বহুপাক্ষিকতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।’

চলমান বৈশ্বিক প্রাণঘাতি মহামারী কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মহামারী আমাদের ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। চলমান মহামারিসহ বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ ধরনের সংকট মোকাবেলার অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, এই মহামারী দেখিয়ে দিয়েছে যে উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে জাতিসংঘকে এখন বেশি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অনেক উপকৃত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছে ঋণী।

জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর সাথে একই সময়ে হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে, জাতিসংঘ ভবিষ্যতে মানুষের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটাবে। এটা জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিকতার উপর বাংলাদেশের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রমাণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য আমি জাতিসংঘের সকল কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ‘২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পূর্বে ধারণকৃত ভাষণ দেবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি বাংলায় বক্তৃতা দেবেন।’

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছেন।