ময়মনসিংহে মায়ের পরকীয়ার বলি ছেলে, গ্রেফতার ৫

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামি/ছবিঃ বার্তা২৪.কম

গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামি/ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের ঈশ্বররগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর উত্তরপাড়া এলাকার মঞ্জুরুল হক (৩৬) বাড়তি উপার্জনের আশায় থাকেন মালয়েশিয়ায়। আর তার তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০) থাকতেন স্বামীর বাড়িতেই।

স্বামী বিদেশ থাকায় স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন একই এলাকার এমদাদুল হকের সঙ্গে। হঠাৎ রোজিনার পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যায় তার অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া বড় ছেলে পারভেজ মিয়া (১৫)। আর এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দেয় ঘাতক মা ও তার প্রেমিক।

চাঞ্চল্যকর পারভেজ হত্যার ক্লুলেজ মামলার রহস্য উন্মোচন ও ঘটনায় জড়িত প্রধান পাঁচ আসামিকে গ্রেফতারের পর এমনটি জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১৪।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- এমদাদুল হক (৩৮), মোছা. রোজিনা আক্তার (৩০), মো. গনি (৪৫), সুলতান উদ্দিন (৪০) ও রুহুল আমিন (৫৮)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব-১৪’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১৪’র উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, গত ১১ অক্টোবর ঈশ্বরগঞ্জের ওই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় থেকে পারভেজ মিয়া নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি জানার পর তৎক্ষণাৎ র‌্যাব-১৪’র একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যার বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পারিপার্শ্বিকতার বিচার ও নিহতের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে দুইদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উন্মোচন করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় অপারেশন টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যায় জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রেজিনা আক্তারের পরকীয়া তার ছেলে পারভেজ জেনে ফেলায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মা রোজিনা ও প্রেমিক এমদাদুল। পরবর্তিতে পরিকল্পনা মোতাবেক অন্যান্য আসামিদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে এনে তাদের সহায়তায় পারভেজকে হত্যা করে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র‌্যাব-১৪’র এ কর্মকর্তা।