রংপুর বিভাগে স্বপ্নের নীড় পেল ৯ হাজার ১৯৫ গৃহহীন পরিবার



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
স্বপ্নের নীড় পেল গৃহহীন পরিবার

স্বপ্নের নীড় পেল গৃহহীন পরিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে প্রথম পর্যায়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় স্বপ্নের নীড় পেল ৯ হাজার ১৯৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে সারা দেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব বাড়ি হস্তান্তরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বাড়ি পাওয়া ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা স্ব স্ব উপজেলা কার্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের হাতে ঘরের চাবি ও জমির দলিল তুলে দেন।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে রংপুর বিভাগে ঘর পাচ্ছেন ১৩ হাজার ১১০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। এরমধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠির ৪২০টি এবং বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসকারী পরিবার আছে ৮৭টি। এসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২২৪ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

শনিবার প্রথম পর্যায়ে রংপুর বিভাগে আট জেলায় ৯ হাজার ১৯৫টি পরিবারকে বাড়ির চাবিসহ প্রয়োজনীয় দলিল তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রংপুরে ৮১৯টি, দিনাজপুরে ৩ হাজার ২২টি, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ৪২৯টি, গাইবান্ধায় ৮৪৬টি, নীলফামারীতে ৪৮১টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৮৯টি, পঞ্চগড়ে ১ হাজার ৫৭টি ও লালমনিরহাটে ৭৫২টি গৃহ পেয়েছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি টয়লেট, একটি স্টোর রুম কাম রান্না ঘর। চারদিকে ইটের দেয়াল এবং ওপরে লাল ও সবুজ রঙের টিনের ছাদ রয়েছে। দুই শতাংশ খাস জমির ওপর এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ভূমিহীনদের দুই শতক জমির দলিল, নামজারি, জমির মালিকানা কবুলিয়ত নামা এবং ঘরের চাবি দেওয়া হয়।

বাড়িগুলো নির্মাণে সহযোগিতা করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ভিমেরগড়ের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, বাহে ছইল-পইলোক (সন্তান) বাপ মাও জমি-জমা ঘরদোর করি দেয় না। সেই জাগাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামার কষ্ট বুঝিয়া ঘর বানেয়া দেওচে। ওই ঘর পায়া হামার খুশির জায়গা নাই।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা আমিনা বেগম বলেন, হামরা স্বপ্নেও ভাবি নাই সরকার হামাক এমন ঘর দিবে। ঘর পায়া হামরা সগাই খুশি হইছি। শেখের বেটি হামার বড় উপকার করিল।

কাউনিয়া উপজেলার আব্দুর রহমান বলেন, হামরা নদী ভাঙা মানুষ। নিজের জায়গা-জমি নাই তাই মাইনষের জায়গাত ঘর তুলি আছনো। ভাঙাচোরা ঘরত থাকি এখন ভাল ঘর পাইনো। এমন সুন্দর ঘর পায়া হামরা খুবই খুশি।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবে রূপ দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, মুজিববর্ষে রংপুর বিভাগে শুধু ‘ক’ শ্রেণির ১৩ হাজার ১১০টি ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবারকে গৃহ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে আজ ৯ হাজার ১৯৫টি পরিবার গৃহ পেলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাকি গৃহগুলো দেওয়া হবে।