চোখ ও গোপনাঙ্গে দিত মরিচের গুড়া, খাওয়াতো মলমূত্র!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রোগীদের নির্যাতনের চিত্র

রোগীদের নির্যাতনের চিত্র

  • Font increase
  • Font Decrease

চিকিৎসার নামে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রংপুরে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর উলঙ্গ করে গোপনাঙ্গ ও চোখে মরিচের গুড়া দেওয়াসহ মল-মূত্র খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা।

এমন নির্যাতনের খবর পেয়ে ওই কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে রোগীদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে নগরীর মেডিকেল পূর্বগেট এলাকায় প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লোহার পাইপ দিয়ে এক রোগীকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে ওই রোগীর কয়েকজন স্বজন সেখানে যান। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রোগীরা তাদের ওপর চলা শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত দেখিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানান।

রোগীরা জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রায়ই লোহার পাইপ দিয়ে নির্যাতন চালান। এতে অনেকের পিঠে, কোমর ও হাঁটুতে রক্তাক্ত জখম হয়। শুধু তাই নয়, অনেককে উলঙ্গ করে নির্যাতনের পর গোপনাঙ্গ ও চোখে মরিচের গুড়া দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা। এমনকি নির্যাতনের পাশাপাশি মল-মূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

লোমহর্ষক নির্যাতনের খবর পেয়ে অন্যান্য রোগীর স্বজনরাও রাতেই ছুটে আসেন। তারা একত্রিত হয়ে কেন্দ্রের অভিযুক্ত লোকজনের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশে খবর দেওয়া হলে অভিযুক্তরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও সেখানে আসেন।

ওই কেন্দ্রে মোট ২১ জনকে ছোট্ট দুটি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। এক সময় ১০ জন রোগীর চিকিৎসার অনুমতিসহ প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স ছিল। কিন্তু পরে আর নবায়ন করা হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।

রংপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শহিদুল্লাহ কায়সার জানান, শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়ায় রোগীদের সেখান থেকে উদ্ধার করে উপস্থিত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিরাময়ের নামে অপচিকিৎসাসহ বেশকিছু অনিয়ম থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।