দখলের ৫০ বছর পর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রেলের জমি উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
দখলের ৫০ বছর পর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রেলের জমি উদ্ধার

দখলের ৫০ বছর পর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রেলের জমি উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের বদরগঞ্জে ৫০ বছর ধরে দখলে থাকা প্রায় ৩২ একর রেলের জমি উদ্ধার করেছে রেলওয়ে বিভাগ।

সোমবার (১ মার্চ) সকাল থেকে বদরগঞ্জ পৌরশহরের ১২ থেকে ১৩ নম্বর রেলঘুন্টি পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় রেলের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা এসকেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব, বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেহেনুমা তারান্নুম ও বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান।

উচ্ছেদ অভিযানের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়, দোকানপাট, হোটেল, গরুর খামার, গুদাম, অবৈধভাবে বসবাসকারির বসতঘর, জুয়ার আখড়া হিসেবে পরিচিত পাকা ও সেমিপাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও দখল হওয়া প্রায় শত বছরের রেলওয়ের ৫টি পুরাতন ভবন ভেঙে দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে দখল নিয়ে শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি রেলের দুইধারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতঘর, মাদকের আখড়াসহ বড় বড় গোডাউন তৈরি করে ভাড়া দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। কয়েক দফা উচ্ছেদের নোটিশ করার পরেও কেউ রেলের জমি ছেড়ে দেয়নি।

অবশেষে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদের জন্য নোটিশ ও মাইকিং করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকে রেলওয়ে পুলিশ ও বদরগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ নেতৃত্বে রেললাইনের দুইধারের ৩২ একর ৫৫ শতাংশ জমির ওপর ছোট বড় প্রায় শতাধিক দোকান ও বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। গোটা রেললাইনের দুই ধার ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়। কিছু ব্যবসায়ী তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে পারলেও অনেকেই তা পারেনি। স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের ভবনে গড়ে তোলা একটি অটিস্টিক স্কুলও ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান দেখতে এসময় শত শত মানুষ জড়ো হয়। বসতঘর হারানোর বেদনায় অনেক পরিবারের লোকজন কাঁদতে থাকেন।

বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, উদ্ধার অভিযানে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় এ জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে একটি

মাস্টারপ্লান করা হয়েছে। এজন্য আগেই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের প্রয়োজনীয় অংশে বসবাসকারিদের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে পরিকল্পিত দোকান ও ভবন নির্মাণ করা হবে।