দখল-দূষণে অস্তিত্বহীন ৫৬ একর ভূমি দখলমুক্ত করার ঘোষণা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

দখল আর দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে গাবতলী এলাকার প্রায় ৫৬ একর সরকারি জায়গা। ঢাকার পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ৫৬ একর ভূমি ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ করেছিল ঢাকা ওয়াসা। ‘রিটেনশন পন্ড’ বা ধরে রাখার পুকুর হিসেবে এই ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। গাবতলী এলাকার নিম্নভূমিতে এই প্রকল্প ছিল। গাবতলী বেড়িবাঁধে ওয়াসার যে পাম্পটি রয়েছে সেটিও এই জলাশাকে কেন্দ্র করেই গড়ে তোলা। দখল আর ‍দূষণের কারণে সেই পাম্পটি এখন প্রায় অকেজো। সম্প্রতি ওয়াসার এই জায়গা ও পাম্প সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করায় মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

বুধবার (২১ এপ্রিল) পাম্প এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের অবহেলিত খাল। এর মোটেই মা বাপ ছিল না। খালের কোন অভিভাবক ছিল না। অবৈধভাবে দখল হচ্ছিল। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। এই ৫৬ একর জমির মধ্যে যারা আছেন, আপনারা নিজেরা, চলে যান। আমি যখন ভাঙা শুরু করব, তখন কিন্তু কোনো নোটিশ দেবো না। অবৈধ দখলদারদের কোন বৈধ নোটিশ সিটি করপোরেশন দেবে না।

মেয়র বলেন, কল্যাণপুর ‘খ’ খাল এটি ‘রিটেনশন পন্ড’ হিসেবে ছিল। সেই ডোবা বা পুকুর কিন্তু দখল হয়ে গেছে। ওয়াসা যখন দায়িত্বে ছিল তারা কোনদিনই আমাদের কাউন্সিলরদেরকে বলেন নাই, বা আমাদের কেউ বলেন নাই যে খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা নির্বাক ছিলাম। এখানে ৫৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা আছে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই জমিগুলোকে কিনে নেওয়া হয়েছে। কিনে নেওয়ার পরেও অবৈধ দখল হয়ে গেছে।

দখলদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ৫৬ একর জমির মধ্যে যারা আছেন, আপনারা নিজেরা, চলে যান। আমি যখন ভাঙা শুরু করব, তখন কিন্তু কোনো নোটিশ দেবো না। অবৈধ দখলদারদের কোন বৈধ নোটিশ সিটি করপোরেশন দেবে না। এটি আমরা ভেঙে দিব। এর সঙ্গে প্রায় ১১৭ একর জমি আছে বিভিন্ন সংস্থার যেমন বিএডিসি ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের। তাদের সাথে ওয়াসার চুক্তি হয়েছিল যে এটা পানি সংরক্ষণ পুকুর হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ সব মিলে প্রায় ১৭৫ একর জমি আছে সংরক্ষণ পুকুরের জন্য। ঢাকা শহরের পানিগুলো এসে এখানে পৌঁছাবে এবং উত্তরের জলাধার যেগুলো আছে এগুলো রিটেনশন পন্ডের মাধ্যমে আসবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যারা কোন মায়া দয়া করে না, নিজেরাই মনে করে আমরা সর্বস্ব, আমরা সর্বশক্তি। তারা চিন্তা করে না জলাবদ্ধতার জায়গা দখল করে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জলাশয়ের জায়গার ওপর দিয়ে ড্রেজিংয়ের পাইপ গেছে। সেই পাইপগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাই বলবো জলাবদ্ধতার জন্য যারা দায়ী তারা নিজেরা অবৈধ দখলে থাকা ভবনগুলো সরিয়ে নেবেন। আমাদের জায়গা দখলমুক্ত করে দিন। আর ৫৬ একর জমির জন্য যা যা করার দরকার আমরা তাই করব।

এখানে যদি কোন কাউন্সিলর জড়িত থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত এই ৫৬ একর জায়গা প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক উদ্ধার করেছিলেন। পরবর্তীতে আবার দখল হয়ে যায়। সেই জায়গা আবার দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন মেয়র। এবার দখলমুক্ত করে বাউন্ডারি ওয়াল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মেয়র।

পরিদর্শকালে মেয়রের সঙ্গে ছিলেন, ডিএনসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দীন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব), সিভিল সার্কেল খন্দকার মাহাবুব আলম, প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।