নিজের পালিত সন্ত্রাসীদের হাতেই খুন হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবু!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শিহাব উদ্দিন বাবু

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শিহাব উদ্দিন বাবু

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজের পালিত সন্ত্রাসীদের হাতেই খুন হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শিহাব উদ্দিন বাবু (৩৫)। নিজ এলাকা শাজাহানপুর উপজেলার সাবরুল বাজারের আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বের হত্যার জের ধরে শিহাব উদ্দিন বাবুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর অনুসন্ধানে জানাগেছে, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল সাবরুল বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা বাবু স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত কমিটিতে সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ভাবে তাদের মাছের আড়ৎ এবং মাছ চাষের ব্যবসা বাবু নিজেই পরিচালনা করতেন। রাজনীতির কারণে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছেলেদেরকে পরিচালনা করে সাবরুল ও তার আশেপাশের এলাকা একক আধিপত্য বিস্তার করতেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং আধিপত্য নিয়ে গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশ্যে দিনের বেলা আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক যুবক খুন হন। সেই মামলায় সহযোগীদের সাথে বাবুকেও আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর জামিন নিয়ে এলাকায় আসেন বাবু। বাবু পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এলাকার আধিপত্য চলে যায় তারই অন্যান্য সহযোগীদের হাতে। বাবু এলাকায় ফিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে বিরোধ দেখা দেয় তারই এক সময়ের ঘনিষ্টজনদের সাথে। বাবুর ঘনিষ্টজনদের সাথে বিরোধ ছাড়াও সাড়ে ৫ বছর আগের একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধের গুঞ্জণ উঠেছে এলাকায়।

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই এলাকায় দুখু নামের এক ব্যবসায়ী খুন হন। দুখু ছিলেন নিহত বাবুর বাবা সিরাজুলের ব্যবসায়িক পার্টনার। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে সিরাজুলকে ছেড়ে আলাদা করে ব্যবসা শুরু করেন দুখু। ওই সময় সিরাজুলের ব্যবসায় ভাটা পড়ে যায়। দুখুর জমজমাট ব্যবসা চলাকালে তিনি খুন হন। বাবু হত্যার পর দুখু হত্যা মামলা নিয়েও এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েই বাবুকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানাগেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নামও পাওয়া গেছে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।