নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করা উচিত: হারুনুর রশীদ



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন দরকার কি? এটি বিলুপ্ত করে দেন। আমরা শুনেছি নির্বাচন কমিশনের এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাহলে দরকার কি নির্বাচন কমিশনের? নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া দরকার।

বৃহস্পিতবার (১৭ জুন) সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তখন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, সংবিধানে বলা হচ্ছে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আজকে আমরা সেই জায়গায় আছি? আজকে এগুলার কোনটার চর্চা আছে? বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ মুসলমান, ৯০ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসারী, আমাদের ধর্ম কোরআন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি কোরআনে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন স্থান নাই। এটি সংবিধানের বড় অসঙ্গতি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের যে বিষয়গুলো রয়েছে। সভা-সমাবেশে কথা বলা আছে এগুলোর কি কোন অস্তিত্ব আছে? আজকে ভিন্নমত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা আছে? ভিন্ন মত কোন মানুষ প্রকাশ করতে পারছে? রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে ক্ষমতা দেওয়া আছে যেকোনো দণ্ডিত আসামিকে ক্ষমা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

মহাজোট সরকারের আমলে প্রায় ৪০-৫০ জন খুনের দণ্ডিত আসামিদেরকে ক্ষমা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত নাড়া দিয়েছে বিশ্বকে। কিছুদিন আগে আল-জাজিরায় অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, এতে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এটিও সংবিধানের একটি অসঙ্গতি। সংবিধানের ত্রুটিগুলো সংশোধন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক কারণে মাত্র দুই বছরের সাজা দিয়েছেন। আপনি তাকে চিকিৎসার সুযোগটা দিচ্ছেন না। আর বাংলাদেশের দণ্ডিত জঘন্যতম আসামি তাদেরকে মাফ করে দিচ্ছেন। এটি হতে পারে না। অবশ্যই তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুচিকিৎসার জন্য আবেদন করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তাকে অবশ্যই সুচিকিৎসার সুযোগ দিবেন।

তিনি আরও বলেন,জাতীয় সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই মিলে একাকার। আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা বাইরে বলছেন বিরোধী দলের কোন মূল্য নাই। সরকারি দলের কোন মূল্য আছে? সরকারি দলের মন্ত্রীরা বারবারই বলছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য নয়। এভাবে রাষ্ট্র আসলে চলতে পারে না। রাষ্ট্রে একটি সম্মিলিত সরকারি দল বিরোধী দল এবং সকলের সম্মিলিত চিন্তা শক্তির মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বয়স ৫০ বছর হয়েছে। এখনও বিচারক নিয়োগে, নিয়োগ কাঠামো তৈরি করতে পারিনি।

হারুনুর রশীদ বলেন, ৫০ বছর পর বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল শব্দটি বাদ দিলেন। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য এবং এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করছি। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড মধ্য দিয়ে সেদিন পুলিশের প্রধান সেনাবাহিনীর প্রধান বলেছিলেন বাংলাদেশ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখতে চাইনা। কিন্তু এরপর থেমেছে? বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুম এটা অব্যাহত আছে। আমরা এখান থেকে কখন ফিরে আসবো।

তিনি বলেন, আমাদের খুব লজ্জা লাগে। যখন বাইরে চলাফেরা করি আমাদের মুখে কাপড় দিতে হয়। সংসদে কথা বলার কারণে মানুষ আমাদের দিকে তাকায়। সরকারি দলের মন্ত্রীদেরকে নিয়ে আমাদেরকে উপহাস করে? বলে আপনারা কি সরকারি দলের মন্ত্রীদের ভাড়া করেছেন নাকি? আপনাদের কিছু মন্ত্রী সকালে এক বয়ান বিকেলে এক বয়ান আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা সারাদিন বয়ান করছে বিএনপি ভোট বর্জন করছে, বিএনপির জনসমর্থন নাই। বিএনপিতো এজেন্ট দিতে পারেনা বিএনপিতে প্রার্থী প্রত্যাহার করছে। মনে হচ্ছে তারা আমাদের বিএনপি'র স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতা। বিএনপির দায়িত্বশীল ব্যক্তি।

বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিলুপ্ত প্রায় সুস্বাদু কাঠলিচু



ছাইদুর রহমান নাঈম, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

একসময় গ্রামের বন জঙ্গলে অযত্নে বেড়ে উঠতো কাঠলিচু (আঁশফল) গাছ। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটি দুষ্প্রাপ্য ফল হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে ফলটি। আঁশফল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফল। একে বলা হয় গরিবের লিচু। ফল গোল আকারের, শাঁস সাদা, খুব রসালো ও মিষ্টি। এক সময় দেশের পূর্ব দক্ষিণাঞ্চলের চাষ উপযোগী এই আঁশফল খেয়ে আষাঢ় উদযাপন করতো বাঙালিরা।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচুর মত দেখতে রসালো আঁশফল। অনেকের কাছে এটি ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিতি। এই ফল থোকায় থোকায় লিচুর মতোই ঝুলে থাকে গাছে। এটি দেখতেও অনেকটা লিচুর মতো গোলাকার। তবে আকারে ছোট এবং এর রসাল অংশ খুবই কম।

আঁশফল এক প্রকার লিচু জাতীয় সু-স্বাদু ফল। আঁশফল গাছ মধ্যমাকারের চির সবুজ বৃক্ষ। যা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বেলে মাটিতে এই গাছ জন্মে। আপেল, কমলা, আঙ্গুর, লিচুতে আশক্ত হয়ে এই ফলটির কদর হারিয়েছে। স্থানীয় এই ফলটির গুণগতমান তেমন একটা ভালো না হওয়ায় এর কদর কমেছে। আঁশফল লিচু পরিবারের একটি সদস্য। ফলের উপেরভাগ মিশ্রণ, ফলের রং বাদামি, আকার গোল। লিচুর চেয়ে অনেক ছোট হলেও ফলের শাঁস অবিকল লিচুর মত। ফল খেতে লিচুর মত বা লিচুর চেয়েও মিষ্টি। ফলের শাঁস সাদা চকচকে। আঁশফলের বিজ গোলাকার চকচকে কালো এবং শাঁস বীজকে আবৃত করে রাখে। যা সহজে আলাদা করা যায়।

আঁশফলের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা যায়। বীজ থেকে উৎপাদিত গাছ হুবহু মাতৃগুণ বহন করে না। আর ফল ধরতে দীর্ঘ সময় লাগে। এটি গুটি কলম করে এর বংশ বিস্তার করা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ আঁশফল বেশ কিছু উন্নতমানের জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে।

বারি আঁশফল-১ ও বারি আঁশফল-২ নামে উন্নত জাত বাংলাদেশে সর্বত্র মুক্তায়ন করা হয়েছে। আঁশফলে বিভিন্ন খনিজ উপাদান, শর্করাা ও ভিটামিন সি এর প্রচুর উপাদান পাওয়া যায়। আঁশফলের শুকানো শাঁস থেকে ভেজস ঔষধ তৈরি করা যায়। অবসাদ দূর করতে এর দারুণ সুনাম রয়েছে। হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও সক্রিয় রাখতে আঁশফল উপকারী ভূমিকা পালন করে।

বাজারে আঁশফল বিক্রি হচ্ছে ১শ টি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে।

আঁশফল ব্যবসায়ী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নদনা গ্রামের জুলহাস মিয়া জানান, আঁশফল পাকা শুরু হলে তাড়াতাড়ি না পাড়লে ঝরে পড়ে। তাছাড়া বাদুর একবার টের পেলে দল বেঁধে এক রাতেই সব ফল খেয়ে ফেলে। এজন্য অনেকেই আঁশফল গাছে নেট দিয়ে ঢেকে রাখছে বাদুরের হাত থেকে রেহায় পেতে। আঁশফলের স্বাদ আগস্ট মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় বলে বর্তমানে বাজারে এর কদর বেড়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।

;

ফ্লোরিয়াডে এক্সপো-তে বাংলাদেশ দিবস উদযাপন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফ্লোরিয়াডে এক্সপো-তে বাংলাদেশ দিবস উদযাপন

ফ্লোরিয়াডে এক্সপো-তে বাংলাদেশ দিবস উদযাপন

  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক রোববার (০৩ জুলাই) নেদারল্যান্ডসের ফ্লোরিয়াডে এক্সপো-তে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় দিনব্যাপী বাংলাদেশ দিবস উদযাপন করেন।

এসময় নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ, আলমের শহরের মেয়র, ফ্লেভোল্যান্ড প্রদেশের ডেপুটি কিংস-কমিশনার, ফ্লোরিয়াডে কমিশনার জেনারেল এবং ফ্লোরিয়াডে এক্সপো ২০২২- এর সিইও উপস্থিত ছিলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সাথে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্লোরিয়াডে এক্সপো’র সিইও, ডাচ কমিশনার জেনারেল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এবং কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে বক্তব্য দেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ কৃষি পণ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশে ডাচ উদ্ভাবনী কৃষি প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ডাচদের মাঝে তুলে ধরার জন্য নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমন্বয়ে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাণ পরিবেশন করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী পরে বাংলাদেশ ও ডাচ, জার্মান প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন এবং আগত দর্শনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় বাংলাদেশি আমকে ইউরোপের বাজারে পরিচিত করতে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সুমিষ্ট পাকা আম পরিবেশন করা হয়, যা বিপুল সাড়া ফেলে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক বিজনেস-নেটওয়ার্কিং প্যানেলে যোগ দেন। এতে ৪০ জনের অধিক ডাচ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী যোগ দেন। তারা কৃষিমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে কৃষিখাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা ও উদ্ভাবনী ডাচ কৃষি প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

প্রতি দশ বছর পর পর নেদারল্যান্ডসে ৬ মাসব্যাপী আয়োজিত ফ্লোরিয়াডে এক্সপোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে এবারই প্রথম বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে যা আগামী ৯ অক্টোবর শেষ হবে।

;

বিমানের দুই বোয়িংয়ের ফের সংঘর্ষ, ডানা ক্ষতিগ্রস্ত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই উড়োজাহাজের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উড়োজাহাজের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার (০৩ জুলাই) রাতে বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইন ও বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের সঙ্গে এ সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, বিমানের প্রকৌশল বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

বিমানকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমানের সুপরিসর বোয়িং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে এসে সন্ধ্যায় শাহজালালে অবতরণ করে। রাত ৯টা ২০ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হ্যাঙ্গারে নিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে আগে থেকে রাখা বোয়িং ৭৩৭ এর বাম পাশের ডানায় সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ডান পাশের ডানা আঘাত করে।

এর আগে, গত ১০ এপ্রিল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে বিমানের একটি বোয়িংয়ের আরেকটি বোয়িংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে দুটো উড়োজাহাজই কিছু দিনের জন্য বসে যায়। সে ঘটনায় গত ১১ মে বিমানের মুখ্য (প্রিন্সিপাল) প্রকৌশলীসহ পাঁচজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

;

রাজশাহীতে আবারও ছড়াচ্ছে করোনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে আবারও ছড়াচ্ছে করোনা

রাজশাহীতে আবারও ছড়াচ্ছে করোনা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রাজশাহীতে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সবশেষ শনিবার রাজশাহীতে ৭২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত এক সপ্তাহ ধরেই রাজশাহীতে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় এ জেলায় সংক্রমণের হার উঠে যায় ২৯ শতাংশে। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মাঝে। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। এখনও মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছেন মানুষ। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের আরটি-পিসিআর ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর শুক্রবার জেলার ৭২টি নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছে ১৫টি। সংক্রমণের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শনিবার ৭২টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ১৫ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় এ দিন সংক্রমণের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের সময় রাজশাহীতে প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হন। অমিক্রন ধরনের সময়ও একই অবস্থা দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণের হার শূন্যে নেমে আসে। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিট। বন্ধ হয় করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রও (আইসিইউ)। কিন্তু জুনের প্রথম থেকেই দু’একজন করে আবার রোগী শনাক্ত হতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে রোগী।

কিন্তু মানুষের মাঝে সচেতনতার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শহর ঘুরে দেখা গেছে, হাতে গোনা দু’একজন মানুষ ছাড়া কেউই এখন আর মাস্ক পরছেন না। সাধারণ মানুষ তো বটেই, সরকারি কর্মকর্তাদেরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে মাস্ক ছাড়াই। ঘন ঘন হাত ধোয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাসও ভুলে গেছেন বেশিরভাগ মানুষ।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ-এর ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘কয়দিন হলো আমার মোবাইলটা বেশি বাজতে শুরু করেছে। মানে হচ্ছে আবার শুরু হয়ে গেছে। এবার কোথায় গিয়ে থামবে কে জানে! সরকারিভাবে কী পদক্ষেপ নিলো সেটা না ভেবে নিজের এবং প্রিয়জনের জীবন বাঁচানোর জন্য এখনই সবার সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘কয়দিন আগেই ভারতে সংক্রমণের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। এটা ছিল আমাদের জন্য অশনি সংকতে। তাই যাঁরা এখনও তিন ডোজ টিকা গ্রহণ করেননি, তাদের দেরি করার কোন সুযোগ নেই। মাস্ক পরতে হবে। হাত ধোয়ার অভ্যাসটা আবার গড়ে তুলতে হবে। অবিলম্বে সকল প্রকার জনসমাগম পরিহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, ‘করোনা আবার বাড়ছে। এখনও আমরা টিকাদানে জোর দিচ্ছি। যারা টিকা নেননি, তারা যেন দ্রুত তিন ডোজই নেন আমরা সে আহ্বান জানাচ্ছি। রোগী বেড়ে গেলে হাসপাতালও আবার প্রস্তুত হবে। তবে মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘মানুষের মাঝে সচেতনতা কম। যারা টিকা নিয়েছেন এবং শারীরীকভাবে সুস্থ তারা এবার আক্রান্ত হলেও খুব একটা সমস্যা হবে না। তারা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিলেই হবে। কিন্তু আগে থেকেই যারা জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের সমস্যা হবে। এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী আসেনি। তবে যদি আসেও তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রথমে তিনটি ওয়ার্ডে রোগী রাখার চিন্তাভাবনা আছে। তখন ওয়ার্ডগুলোর রোগীদের অন্যখানে সরানো হবে।’

;