ঘর ও জমির দলিল পেয়ে খুশি নীলফামারীর মানুষ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে দিগন্ত জুরে সারি সারি টিলা আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে উকি দিচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যার উপহারের লাল সবুজ ঘর। গৃহ ও ভূমিহীনরা পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের নীড়, পেয়েছেন বেঁচে থাকার অফুরন্ত রশদ।

মুজিব বর্ষে কেউ-ই গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘর ও জমির দলিল পেয়ে খুশি নীলফামারীর ১০১০টি গৃহ এবং ভূমিহীন পরিবার।

রোববার (২০ জুন) সারাদেশে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২য় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে জমিসহ ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই আওতায় নীলফামারীর ১২৫০টি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত গৃহের মধ্যে ১০১০টি পরিবারের মধ্যে ঘরের চাবি এবং জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরাদ্দকৃত ১২৫০ টির মধ্যে নীলফামারী সদরে ২২০টি, সৈয়দপূর উপজেলায় ৬০টি, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৭০টি, ডোমারে ২০০টি, ডিমলা উপজেলায় ৩০০টি এবং জলঢাকা উপজেলায় ৩০০টি বাড়ি দেওয়া হবে। ৩৯৪ বর্গফুটের গৃহগুলোতে একক গৃহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ১২৫০টি গৃহের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২১ একর ৭০ শতাংশ।

গৃহ ও ভূমিহীনরা পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের নীড়
গৃহ ও ভূমিহীনরা পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের নীড়

উপকারভোগী জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের ওমর আলী(৭০) এবং লতিফা বেগম(৬০) স্বামী-স্ত্রী  ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। থাকতেন অন্যের জমিতে। লতিফা বেগম বলেন, ‘শেখ এর বেটি ঘর দিছে আল্লাহ অর ভালো করুক, বাকি জীবনটা যনে এইটে থাকির পাই, মরণ জহনে আমার এইটে হয়।’

কৈমারী বালাপাড়ার ফুলবালা এবং পরেষ চন্দ্র। অন্যের বাড়িতে কাজ করেন স্বামী স্ত্রী দুজনে, ছোট একটি চালায় অন্যের জমিতে থাকতেন। ফুলমতি বালা বলেন, ‘মানুষের বাড়িত কাজ করি খাই, বাস খড়ি কিনির না পাই, হাসিনা মা হামার ঘর তুলি দেইল, সেটে হামা সুখে থাকোমো। হাসিনা মাও চিরদিন ভালো থাউক, সুখে থাউক। মাও জননি হামার খোঁজ খবর নেয়।’

জেলা প্রশাসক রহমান চৌধুরী বলেন, ‘১২৫০টি পরিবারের মধ্যে ১০১০টি পরিবারের কাছে ঘরের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৪০টি ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। শেষ হলে সেগুলো তালিকাভুক্তদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছেন তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষরা কোথায় থাকতো, কিভাবে দিন কাটাতো তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটির ফল আজ ভোগ করছেন এসব মানুষ।’