বিয়ের রাতেই মুক্তিপণের জন্য স্ত্রীর ভাইকে স্বামীর হুমকি!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
বিয়ের রাতেই মুক্তিপণের জন্য স্ত্রীর ভাইকে স্বামীর হুমকি

বিয়ের রাতেই মুক্তিপণের জন্য স্ত্রীর ভাইকে স্বামীর হুমকি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লায় বিয়ের রাতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য ভাইকে ফোন করেছেন তাঁর বোনের স্বামী! মুক্তিপণের টাকা না পেলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। আর একথা পুলিশকে জানালেও বোনকে ফিরে পাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু বোনের স্বামীর এই ফোন পেয়ে ভাই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। এরপর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৩০ জুন) বিকেলে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ভুক্তভোগী নারী খাদিজা আক্তার। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায়। এ ঘটনায় ৮ জুন কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৩ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলায় তার স্বামী ওমর ফারুকসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

খাদিজা আক্তার জানান, চলতি মাসের ৫ জুন তার বিয়ে হয় উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে। ওইদিন বিকালে তাকে শ্বশুর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মেনে নেয়নি শ্বশুর বাড়ির লোকজন। উল্টো মারধর করে।

তখন স্বামী ফারুক তাকে জানান, তারা উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকবেন। তিনি সন্ধ্যায় স্বামীর হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। তাকে উপজেলার মোহাম্মদপুর নামে একটি এলাকায় নিয়ে কিছু লোকের নিকট ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই লোকেরা তাকে মারধর করে তার গায়ের গহনা খুলে নেয়। এ সময় তার খালাতো ভাই মেহেদী হাসানকে স্বামী ওমর ফারুক কল করে বলেন, এক লাখ টাকা নিয়ে আয়। পুলিশকে জানাবি না। তাহলে তোর বোনকে মেরে ফেলবো। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে তারা আমাকে ফেলে চলে যায়। আমি খালার বাড়িতে মাসহ লুকিয়ে আছি। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যেকোন সময় আমাকে মেরে ফেলবে। তিনি তার সাথে প্রতারণার বিচার চান।

খালাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, খাদিজার পিতা মৃত। আমরা তাদের পরিবারকে দেখভাল করি। আনন্দের সাথে বোনকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সন্ধ্যায় বোনের স্বামী ফারুক ফোন করে জানান এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে, না হলে তাকে মেরে ফেলবেন। যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯-এ কল করলাম। দাউদকান্দি থানা পুলিশ ফারুককে ফোন করলে সে ভয়ে বোনকে ফেলে চলে যায়। বোন ওই এলাকা চিনে না। তার সাথে ফোনও নেই। রাতে পুলিশ লোকেশন ট্র্যাকিং করে বোনকে উদ্ধার করেন। সেই সব ফোন রেকর্ড আমার নিকট সংরক্ষণে রয়েছে।

মামলার আইনজীবী জামিল আহমেদ রাতুল বলেন, মামলার বর্ণনার প্রকৃতি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, আসামিরা নারী পাচারকারী। বিয়ের রাতেই ওই নারীর সাথে জঘন্য কাজ করেছে। বিজ্ঞ আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি থানার এসআই মো. হারিসুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেবো।

এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ওমর ফারুক। তার মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে। এজন্য বারবার যোগাযোগ করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি