রিমান্ড শেষে কারাগারে আড়ানীর মেয়র মুক্তার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রিমান্ড শেষে কারাগারে আড়ানীর মেয়র মুক্তার

রিমান্ড শেষে কারাগারে আড়ানীর মেয়র মুক্তার

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র মুক্তার আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। চারদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলে মুক্তার আলী নিজের কোন অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেননি। পরে আদালত তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার এক আদেশে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তদন্তের জন্য গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে ডিবি পুলিশই মুক্তার আলীকে আদালতে তুলেছিল।

এক কলেজশিক্ষককে মারধরের জেরে মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে ৬ জুলাই বাঘা থানায় একটি মামলা হয়। এরপর পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা, অস্ত্র এবং মাদকসহ স্ত্রী এবং দুই ভাতিজাকে গ্রেফতার করে। পরে ৯ জুলাই ভোরে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে মেয়র মুক্তার ও তাঁর শ্যালককে গ্রেফতার করে। সেদিনই তাঁর বাড়িতে আবারও অভিযান চালানো হয়।

এ অভিযানেও মেলে নগদ টাকা, অস্ত্র এবং মাদক। বিকালে তাঁকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৯ জুলাই থেকেই রিমান্ডে ছিলেন মুক্তার আলী।

এরই মধ্যে সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মুক্তারকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। মুক্তার আলী ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। এরপর পৌরসভার কাউন্সিলর হন। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবার মেয়র হন। এ বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

মামলা-হামলায় দলীয় প্রার্থীকে কোণঠাসা করে জয়ীও হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এখন তাঁর নামে মোট মামলার সংখ্যা ১০টি।