পরকীয়ার জেরে ডিস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ গ্রেফতার ২



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, (সাভার ) ঢাকা
পরকীয়ার জেরে ডিস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ গ্রেফতার ২

পরকীয়ার জেরে ডিস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীসহ গ্রেফতার ২

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ডিস ব্যবসায়ী ইলিম সরকারকে (৪২) নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।

বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বার্তা২৪.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান। এরআগে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিহত ইলিম সরকারের স্ত্রী সুলতানা আক্তার ক্যামেলি (৩২) এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছে।

এরআগে গত ২৮ মার্চ ফিল্মি স্টাইলে স্বামী ইলিম সরকারকে হত্যা করেন স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টুসহ তার সহযোগীরা। এসময় পুলিশ ও পরিবারের সদস্যকে বিভ্রান্ত করতে কন্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন নিহতের স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী তার নানাবাড়ি কাঠগড়া থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে ইলিম সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৪ বছর আগে বিয়ে করে তারা দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি পরকীয়ার জালে আটকা পড়েন। ২০১৯ সাল থেকে পিন্টুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পরে পরকীয়া সম্পর্কের পথের কাটা তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ মার্চ সকালে ঘুমের মধ্যেই ইলিম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ সহযোগীরা।

পিবিআই জানায়, ইলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে এসে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে ২০১৯ সালে পরিচয় হয় পিন্টুর। পিন্টু জামগড়া পল্লিবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের লাইনম্যান ছিলেন এবং আশুলিয়ার জামগড়ার বেরন এলাকায় বসবাস করতেন। এর পর তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ইলিম সরকার জানতে পারলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা ইলিম সরকার তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জানাবেন বলে হুমকি দেন। পরে হত্যাকাণ্ডের ৭ দিন আগে ইলিম সরকারকে খুনের পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে স্বামী ইলিম সরকারকে দই মিষ্টির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয় তার স্ত্রী। পরে সকালে পিন্টুসহ তার সহযোগী ঘরে ঢুকে ইলিম সরকারকে হত্যা করেন। এ সময় তার স্ত্রী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। সকাল ৮টার মধ্যে সবাই পোশাক কারখানায় কাজে গেলে মানুষশূন্য হয় এলাকা। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য ডিস ব্যবসার কোন্দলের বিষয়টি তখন প্রচার করেন স্ত্রী।

ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এ ঘটনায় পিন্টুর সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারের আগে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ ঘরে ঢুকে ইলিম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এদিন সকালে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখে হত্যাকারী ও তার স্ত্রী চিৎকার করে কান্নাকাটি করেন। পরে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি।

নিহত ইলিম সরকার কাঠগড়া এলাকার হাজী মো. ফজল হক সরকারের ছেলে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে ডিসের ব্যবসা করছিলেন। তার ১০ বছর বয়সের ছেলে কাইফ ও ৭ বছরের কাশফিয়া নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।