আশুলিয়ায় নারীর অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আ.লীগ নেতার রোষানলে পুলিশ



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, (সাভার ) ঢাকা
আশুলিয়ায় নারীর অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আ.লীগ নেতার রোষানলে পুলিশ

আশুলিয়ায় নারীর অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আ.লীগ নেতার রোষানলে পুলিশ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার আশুলিয়ায় পাওনা ১০ হাজার টাকার জন্য এক নারীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে গিয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার রোষানলের শিকার হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকালে আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগী ওই নারী একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরআগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) আশুলিয়ার জিরাবো ঘোষবাগ এলাকায় চুল কাটার এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাতে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিউল্লাহ সিকদার ঘটনার তদন্তে গেলে স্থানীয় ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান শাহেদের রোষানলের শিকার হন।

আটক লাকি বেগম পিরোজপুরের ঈশ্বরকান্দি থানার কালাইয়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। সে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার খোরশেদ আলমের ভাড়া বাড়িতে থেকে মুদি দোকানের ব্যবসা করে।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, গত তিন বছর আগে তারা ঘোষবাগ এলাকা থেকে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে যান। ওই সময় লাকী বেগম নামের ওই নারীর কাছ থেকে বাকীতে বিভিন্ন জিনিসপত্র নেওয়া হতো। এতে ১০ হাজার টাকা বাকী ছিল। এ মাসের ১৯ তারিখ বেলা ১১টার দিকে চাকরি নেওয়ার জন্য নরসিংহপুর হামীম কারখানার সামনে গেলে লাকী তাকে ডেকে নিয়ে যায় ও পাওনা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে দোকানে থাকা কেচি দিয়ে তার মাথার সমস্ত চুল কেটে ফেলে। পরে তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্তে যায় পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই সফিউল্লাহ বলেন, তদন্ত স্যারের নির্দেশে ফোর্সসহ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যাই। উপস্থিত লোকজনের সামনে অভিযোগকারীর কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনি। জেরার সময় মজিবুর নামে এক ব্যক্তি চুল কাটার ঘটনায় অন্য একজনকে ফাঁসানোর কথা শিখিয়ে দেন বলে জানান অভিযোগকারী। ওই স্বীকারোক্তির কিছুটা ভিডিও করি। এরপর মজিবিরকে বাড়ির সামনে বাজারে ডেকে পাঠাই। তাকে আমি চিনিও না। পরে তাকে আমার সঙ্গে থানায় আসতে বলি ওসি স্যারের কাছে। তখন কয়েকজন আমাকে বাঁধা দেয়, খারাপ আচরণ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ সিনিয়ররা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ঢাকা জেলা উত্তর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ হিল কাফি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে বকেয়া টাকা ফেরত না দেয়ায় অভিযোগকারী নারীর চুল কেটে দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে।