ফোনে ওয়াসার এমডিকে ঝাড়লেন মেয়র আতিক



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার মিরপুর জোন অফিসে এডিসের লার্ভা পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ওসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ফোন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র।

শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ এলাকায় ওয়াসার জোন অফিসে পরিদর্শনকালে মোবাইল ফোনে কথা হয় মেয়র ও ওয়াসার এমডির মধ্যে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ওয়াসার এমডির কথোপকথন গুলো তুলে ধরা হলো-

মেয়র: বাংলা কলেজের পাশে আপনাদের ওয়াসার যে অফিসটা আছে, আমরা সেখানে আসছি। এখানে দেখলাম দুনিয়ার লার্ভা। বাইরে লার্ভা, বড় বড় ড্রাম যেগুলো আছে সেগুলোতেও লার্ভা, পানির ট্যাংকির ভেতর লার্ভা, লার্ভার কোন শেষ নাই।

ওয়াসার এমডি: এক্ষুনি নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি। আমি তো এগুলো জানিনা। আমরা তো ওখানে ফগার মেশিন ব্যবহার করি।

মেয়র: আপনার যারা অফিসার সবাই এখানে আছেন, সবাইকে বললাম তোমাদের যদি এই অবস্থা থাকে তাহলে অন্যান্যদের কি হবে?

ওয়াসার এমডি: সেটা নিশ্চয়ই, আমি তো অনুতপ্ত. আমি এর জন্য ব্যাথিত হয়েছি। বললাম না ফগার মেশিন পর্যন্ত কিনে রেখে দিয়েছি।

মেয়র: কিন্তু লাভ তো হল না? ফলোআপ যদি না করা হয় তাহলে আপনার মত একজন চৌকস লোক এমডি হিসাবে থাকা অবস্থায় তো একেবারে এটাকে কি বলব?

ওয়াসার এমডি: আমি তো অনুতপ্ত, আমি অ্যাকশন নেব।

মেয়র: খুবই হতাশা ব্যঞ্জক। আমি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছি এখানে যারা থাকবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য।

ওয়াসার এমডি: আমিও বলছি যেখানে ঘটনাটি হবে যার যার দায়িত্ব তিনি এ ঘটনার দায় নিবেন।

মেয়র: এখানে পাইপগুলো উঁচু হয়ে আছে। প্রত্যেকটা ভেতরে, ট্যাংকির ভেতরে লার্ভা। খালি প্যাকেট রেখে গেছে সেগুলোর ভেতরেও লার্ভা। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনি প্রত্যেকটা জায়গাতে খবর দেন এটা যেন ঠিক হয়ে যায়।

ওয়াসার এমডি: আমি এক্ষুনি নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি।

মেয়র: এটা অত্যন্ত অত্যন্ত হতাশাজনক অবস্থা। এখানে নিয়মিত মামলা হবে।

তাকসিম এ খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, 'বলার কিছু নেই, বলার ভাষা নেই। অফিস-আদালতসসহ প্রতিষ্ঠানের যে কর্ণধার তাকে কিন্তু সে ধরনের মেসেজ দিতে হবে। অফিসের অথবা সব ধরনের প্রতিষ্ঠান সেভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, 'ওয়াসা, এলজিইডি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানে থাকুক না কেন সেই প্রতিষ্ঠানের যিনি দায়িত্বে থাকবেন তার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। বিআরটিএকে মামলা করেছি, সিভিল এভিয়েশনকে মামলা করেছি। আমরা মামলা করতে পারব, এরপরে তো আর কিছু করার নেই আমাদের। ফাইন না হয় জেল। জরিমানা মামলা বড় কথা নয় বড় কথা হচ্ছে আমাদের সচেতনতা হবে।

মেয়র আতিক বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের পাশাপাশি অন্যদেরও করতে হবে। কিন্তু আজ একটা জঘন্য কাজ দেখলা এডিস মশার চাষ করে। এখানে মশার চাষ করার কথা নয়, উচিত ছিল সুন্দর করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।'