দারাজে গ্রাহক হয়রানি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটার মাধ্যম দারাজে পণ্য কিনে গ্রাহক হয়রানির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক পণ্য অর্ডার করলে আরেক পণ্য ডেলিভারি দেওয়া। কখনো গ্রাহকের পছন্দের নির্ধারিত রঙের পণ্য না দিয়ে অন্য রঙের দিয়ে দেওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে কিছুদিন পর পরেই। এসব বিষয় জানিয়ে অভিযোগ করলে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও সেখানে রয়েছে পদে পদে ভোগান্তি। পছন্দের পণ্য না পেয়ে, অথবা নষ্ট পণ্য পেয়ে টাকা রিফান্ডের যে প্রক্রিয়া সেটিও অনেক জটিল ও ধীরগতির হওয়ায় এসব বিষয়কে হয়রানি বলে অভিহিত করছেন দারাজের গ্রাহকরা।

সম্প্রতি দারাজের মাধ্যমে দুটি পণ্য ক্রয় করেন মিরপুরের আবির আব্দুল্লাহ। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমি কিছুদিন আগেই দুইটি পণ্য অর্ডার করি দারাজের মাধ্যমে। এক জোড়া সু ও এক জোড়া ডাম্বেল। সু ঠিকঠাক থাকলেও আমার ডাম্বেলের কালার আমি যেটি চেয়েছিলাম তারা সেটি না দিয়ে অন্যটি দিয়েছে। পছন্দের পণ্য না পেলে সেটি ব্যবহারে অনীহা আসে। দারাজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত।

একই এলাকার সারাহ মেহজাবীন জানান, আমি একটি হিজাব অর্ডার দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিলেও আমি যে কালার যেছিলাম সেটি না দিয়ে অন্যটি দেয়। পোশাকের কালার পছন্দ না হলে সেটি আর ব্যবহার করা হয় না। পয়সা দিয়ে কেনা জিনিস আমার ঘরেই পরে আছে। অভিযোগ করলে টাকা রিটার্ন পাওয়া যাবে কিন্তু সেটিও খুব স্লো ও লম্বা প্রসেস, যা হয়রানির নামান্তর।

দারাজ থেকে দুটি পণ্য কিনে ঠকেন তারিকুল জেবিন। গত ৭ আগস্ট দারাজের ওয়েবসাইট থেকে একটি প্যান্ট ও নারীদের এক জোড়া হাইহিল স্যান্ডেলের চাহিদা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর জেবিন বিস্মিত! প্যান্টের বদলে তাকে সরবরাহ করা হয়েছে জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া এক ধরনের ট্রাউজার। আর হাইহিল স্যান্ডেলের বদলে দেওয়া হয়েছে ফোমের সাধারণ স্যান্ডেল।

এরপর নিয়ম মেনে দারাজের ওয়েবসাইটে রিফান্ডের জন্য আবেদন করেন জেবিন। পরদিন ওই পণ্য ফেরত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এইচএম আখতারুজ্জামান নামে এক গ্রাহক দারাজের ফেসবুক পাতায় মন্তব্যের ঘরে অভিযোগ করে লিখেছেন, দারাজ রিটার্ন প্রোডাক্টে রিফান্ড ভাউচার ইস্যু করতে অনেক দেরি করে।

রিগান নামে দারাজের এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, এরা ফালতু, বাটপার। আমার অর্ডার নিয়ে তা দেয় নাই। উল্টা পাল্টা করে এবং সব থেকে বাজে জিনিস দেয়। ফুটপাতেও কেউ এত বাজে জিনিস বিক্রি করে না!

ফাতেমা আকতার নামে আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, দারাজ থেকে আমি অর্ডার করেছিলাম এক লোগোর টি-শার্ট আর তারা দিয়েছে অন্য লোগোর টি-শার্ট। যেটা আমি অর্ডার করিনি। আর রিটার্নের প্রসিডিউর কমপ্লিট করার ৪/৫ দিন পরে মেসেজ আসে যে বাতিল করা হয়েছে অর্ডার!

এসব অভিযোগ নিয়ে দারাজের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সংযোগ কর্মকর্তা সায়ন্তনী তৃষা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এ ধরনের সমস্যায় রিটার্ন, রিফান্ড পলিসি অনুসরণ করা হয়। ভুল পণ্য পেয়ে থাকলে সেটি ফেরত দিয়ে টাকা বুঝিয়ে নেওয়ার অপশন আছে।

রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসিতে ভোগান্তির কথা জানতে চাইলে দারাজের এই কর্মকর্তা বলেন, এক্ষেত্রে সাত ও চৌদ্দ দিনের মধ্যে পণ্য রিটার্ন করতে হয়। এর পরে যথা সময়ে টাকা রিফান্ড করা হয়। দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া।

সম্প্রতি ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রগুলোর কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশের গ্রাহকদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। দারাজের মতো প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মকাণ্ড গ্রাহকদের মনে নানা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রগুলো নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও হয়রানিমুক্ত হয়ে উঠুক এমন প্রত্যাশা সাধারণ গ্রাহকদের।