অনেকেই বাইক কিনে দিতে চাচ্ছেন শওকতকে!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের জনতা ইনস্যুরেন্সের সামনের সড়কে শওকত আলম সোহেল নামে একজন পাঠাও চালক রাস্তায় সার্জেন্টের মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর নিজের মোটরসাইকেলে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, মামলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে বাইকার তাঁর নিজের গাড়িতে আগুন দিয়ে থাকতে পারেন।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড্ডা লিংক রোডের জনতা ইনস্যুরেন্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেন। অনেকে আবার তাকে সাহায্য করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। মাহবুব কবির মিলন নামে একজন ব্যক্তি শওকত আলম সোহেলের বাইক পোড়ানোর বর্ণনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিলে তার ফলোয়ার এবং বন্ধুরা অনেকেই শওকত আলমকে বাইক কিনে দিতে চান। এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সোহেলের পরিচয় জানতে চেয়ে তাকে একটি বাইক উপহার দিতে চান।

মাহবুব কবির মিলনের দেওয়া পোস্টের কমেন্টে রাকিব হাসান নামে একজন লেখেন- স্যার আমি তাকে একটি বাইক কিনে দেবো, কাইন্ডলি ডিটেইলস দিন। মো. আনসারুল হক লেখেন- স্যার আমি আমার নতুন কেনা বাজাজ প্লাটিনা গাড়িটি শওকত আলম সোহেলকে গিফট করে দিতে চাচ্ছি। এছাড়া অনেকে লিখেছেন উনার নিজেকে কন্ট্রোল করা উচিৎ ছিলো। রাগের মাথায় মোটেও এমনটা করা ঠিক হয়নি।

আজ সকালে মোটরসাইকেল পোড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ছোটাছুটি করছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলছে। কেউ কেউ পানি দিয়ে মোটরসাইকেলের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে এলে তিনি তাতে বাধা দেন।

এ বিষয়ে বাড্ডা ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুবীর রঞ্জন দাস বলেন, বাড্ডা লিংক রোডের জনতা ইন্স্যুরেন্সের সামনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকের ঘটনা এটি। ট্রাফিক সার্জেন্ট ওই ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র হাতে দিয়েই তিনি সার্জেন্টকে লক্ষ্য করে বলতে থাকেন, ‘মামলা করবেন না স্যার।’ কাগজপত্র নেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে তিনি তাঁর নিজের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে দেখা গেছে, কাগজপত্রের কোনো সমস্যা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, উনি হয়তো হতাশ মানুষ। ব্যবসা করতেন। করোনাকালে হয়তো ধরা খেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর মধ্যে একটি ভয় ছিল, এখানে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকার কারণে মামলা দিতে পারে। ওই স্থানে রাইডারvf দাঁড়ান। কিন্তু, ওখানে আজ দাঁড়াতে না দেওয়ার কথা ছিল। সেজন্য হয়তো উনি আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

শওকত আলম সোহেল বলেন, আমি রাগের মাথায় আমার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছি। পুলিশের কোন দোষ নেই। আমি ব্যবসা করতে যেয়ে করোনা আর লকডাউনের কারণে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। সবশেষে একটি বাইক কিনে পাঠাও চালাচ্ছিলাম। গত সপ্তাহে একটি মামলা খেয়েছি। আজকে পুলিশ গাড়ি থামাতেই আমি হতাশ হয়েছি। রাগের মাথায় নিজেই আমার বাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম।