দশ মাসে কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ৪৬ নারী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে ৪৬ জন নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে একটি জরিপ উল্লেখ করেন ‘আইটিইউসি-বিসি, নারী কমিটি’

আজ বৃহস্পতিবার(২৫ নভেম্বর)বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানিরোধে আইএলও কনভেনশন-১৯০ অনুসমর্থনে ‘স্ত্রী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ‘আইটিইউসি-বিসি’ নারী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপটি তুলে ধরেন সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাজনীন নাহার নিরুপমা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের প্রতি সহিংয়সতা,হয়রানী, নির্যাতন,বৈষম্য একটি চলমান সমস্যা। নারী শ্রমিকরা তাদের কাজ হারানাের আশংকায় তা প্রকাশ করতে চায় না। শুধু নারীর প্রতি এ ধরনের ঘটনা ঘটে এমন নয়। পুরুষের প্রতিও ঘটে বলে জানান তিনি।

কর্মক্ষেত্রে এরূপ ঘটনা ঘটলে শ্রমিকের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কাউন্সিল একটি শ্রম সংগঠন যা বিশ্বের ১৬৩ টি দেশের ৩৩২ মিলিয়ন শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করছে। আইটিইউসি বাংলাদেশ কাউন্সিলভূক্ত বাংলাদেশের ৬টি জাতীয় সংগঠনের নারী কমিটি ২০১৬ সাল থেকে অন্যান্য ইস্যুসহ নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, করােনা মহামারীতে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘরে বাইরে ও কর্মক্ষেত্রে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ-বিলস এর সংবাদপত্রভিত্তিক জরিপ অনুযায়ী-২১ সালের জানুয়ারী থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে ৪৬ জন নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংগঠণের নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী-পুরুষের হয়রানী এবং নির্যাতন প্রতিরােধে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সুপারিশমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণের লক্ষে আইএলও ২০১৯ -এর মার্চ মাসে একটি রিপাের্ট পাশ করে যা “ব্লু”রিপাের্ট নামে পরিচিত। এই রিপাের্টে মত প্রকাশে আইটিইউসি- বাংলাদেশ কাউন্সিল, নারী কমিটি-এর ফোকাল পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

বক্তারা বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৯০ এমন একটি কনভেনশন যেখানে নারী পুরুষ উভয়েরই কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা হয়রানী সিনের কথা বলা হয়েছে। শারীরিক, মানসিক,যৌন অথবা অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয় এমন আচরণ যাকে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা বলেন,যৌন হয়রানী প্রতিরােধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও আইনী পরিকাঠামাে গড়ে তুলতে যে সংস্কারগুলোর প্রয়ােজন সেগুলাের জন্যে আইএলও কনভেনশন ১৯০ একটি আন্তর্জাতিক দিক নির্দেশনা,যৌথ দায় গ্রহণ এবং আইটিইউসি-বাংলাদেশ কাউন্সিল নারী কমিটি মনে করে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানী নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুস্বাক্ষর ও সুপারিশমালা বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত অনুস্বাক্ষর করা উচিত।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি ফিরোজা খাতুন, মহিলা শ্রমিক লীগে সাধারণ সম্পাদক কাজী রহিমা আক্তার সাথি, রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ফরিদা আক্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রী আফসানা মনামি, মহিলা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দা খায়রুন্নাহার তামরীনসহ আরও নেতৃবৃন্দ।