শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানে যত অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কুড়িগ্রাম
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও চলছে শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের টিকা(ফাইজার) প্রদান কার্যক্রম। এক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে ষষ্ঠ শ্রেণীর বেশকিছু শিক্ষার্থীর বয়স ১২ বছরের কিছু কম হওয়ায় তারা টিকা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাদের ক্লাসে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার(১৩ জানুয়ারি) দুপুর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের টিকা-কেন্দ্র ঘুরে ভোগান্তি এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকার ২য় ডোজ নেন কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্ময়। তিনি জানান, টিকা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা ছাড়াও লাইনের বাইরে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ঢুকছে। এতে লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এজন্য বেলা ১১ টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ১:৪০ মিনিটে টিকা নেই আমি।

হাসপাতালে ছাত্রদের লাইনের তুলনায় ছাত্রীদের লাইন কয়েকগুণ দীর্ঘ। কুড়িগ্রাম সদরের ভোগ ডাঙা ইউনিয়নের লক্ষ্মী কান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. কামরুন্নাহার শিখা দুপুর দেড়টায় জানান, তিনি সকাল ১০ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন লাইনের প্রায় শুরুর দিকে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে তার। এর মধ্যে টানা রোদে দাঁড়িয়ে থাকায় শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের সাথে আসা ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বশির উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে আমাকেও খারাপ লাগছে। একসাথে এত শিক্ষার্থীদের না ডাকলেই পারতো। সেই সাথে হাসপাতালে বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোগান্তি কমানোর দাবিও করেন তিনি।

হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে গিয়ে আরও দেখা গেছে ছাত্রদের এবং ছাত্রীদের লাইন আলাদা হলেও বেশ কিছু যুবক ছাত্রীদের লাইনের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছেন। এতে ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনায়। মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই ছাত্রীদের লাইনের ভেতর দিয়ে তারা চলাফেরা করছেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে তারা ইভ টিজিং এর শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রীরা।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, আমাদের লাইনের আশেপাশে এই ছেলেদের থাকার কোন দরকার নাই। তারা আমাদের কাছে এসে উত্ত্যক্ত করছে। একাধিকার প্রতিবাদ করেও কাজ হচ্ছেনা। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রীদের সাথে আসা অভিভাবকেরাও। সেই সাথে টিকা প্রদানের ধীরগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

টিকা প্রদানের কাজে নিয়োজিত এক স্বেচ্ছাসেবক সময় বেশি লাগার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন পরীক্ষা করার পর টিকা কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগছে।

অপরদিকে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের নির্দেশনা থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ৬ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১২ বছর পূর্ণ না হওয়ায় টিকা নিতে পারছেন না। তাদের অন্যান্য সহপাঠীরা টিকা নিতে পারলেও তাদের টিকা নিতে না পারায় ক্লাসে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মী কান্ত উচ্চ।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বশির উদ্দিন বলেন, নির্দেশনায় বলা হয়েছে টিকা না নিলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবেন না। তাই আমার স্কুলের ৬ষষ্ঠ শ্রেণীর কিছু শিক্ষার্থী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বয়স কমের কারণ দেখিয়ে তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন সে ক্লাস করতে পারবেনা।

প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসা ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া খন্দকার জানান, আমি আমার বান্ধবীদের সাথে টিকা নিতে এসেছি। কিন্তু আমাকে ফেরত দেয়া হলো। এখন আমি আমার ক্লাসে উপস্থিত হওয়া নিয়ে টেনশনে আছি।

টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এ এস আই আনোয়ারুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি উপজেলায় ১ম ও ২য় ডোজ মিলে মোট ২০ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে। এবং এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৯৯ জন শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এসেছে বলেন জানিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস।

অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. মনজুর এ-মুর্শেদ বলেন, ফাইজার এর টিকা অনেক সচেতনতার সাথে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে প্রদান করা হয়। অন্যথায় এর কার্যকরীতা হ্রাস পায়। এজন্য আমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক বুথ করেছি। একাধিক বুথের দাবির বিষয়টির সম্পর্কে সহমত পেষণ করে তিনি বলেন, আগামী রবিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি যাতে পরবর্তীতে না সৃষ্টি হয় সেব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

যুবকের ওপর হামলা: কুষ্টিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
যুবকের ওপর হামলা: কুষ্টিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

যুবকের ওপর হামলা: কুষ্টিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রিপন(২৮) নামে প্রতিপক্ষের এক যুবকের ওপর হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগে করা মামলায় ভেড়ামারা উপজেলা যুবজোটের সভাপতি উপজেলার ৪নং চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।

রোববার দুপুরে জেষ্ঠ্য বিচারিক আদালতের হাকিম জুয়েল রানার আদালতে জামিনাবেদন করেন এই মামলার এজাহার ভুক্ত ১নং আসামী হিসেবে আত্মসমর্পণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন। আদালত শুনানী শেষে জামিনাবেদন না মঞ্জুর করেন।

তবে এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনের স্ত্রী রুমানা হাফিজ শিখা (৪৫) অভিযোগ, “রিপনের ওপর হামলার ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কিমি দুরত্বে চন্ডিপুরে আমাদের বাড়িতে পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন তপন; অথচ এই মামলার এজাহারকারী উল্লেখ করেছেন ঘটনার সময় হুকুমদাতা হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এটা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা বানোয়াট ও মনগড়া অভিযোগ এনে হীন উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন আমার পরিবারকে বিপন্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। আমিও চাই রিপনের উপর হামলার ঘটনাটি সঠিক তদন্তে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাক।”

আসামি পক্ষের আইনজীবী তানজিলুর রহামন এনাম জানান,‘দেখুন এটা যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা বলেই এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সময় ভিকটিমের সাথে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী স্ত্রী ইয়াসমিন খাতুন বাদি না হয়ে তার চাচাত ভাই ওয়াসিম বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন। সে বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করে জামিনাবেদন করেছিলাম, ‘আদালত নামঞ্জুর করেছেন।’

উল্লেখ্য, এমাসের ১৬ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেড়ামারা রেল স্টেশন সংলগ্ন ঢাকা কোচ কাউন্টার ও সিএনজি স্ট্যান্ডে উপজেলার চাঁদ গ্রাম মসজিদ মোড়ের বাসিন্দা নুরুজ্জামানের ছেলে মো: রিপন বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশার জন্য স্ত্রীসহ অপেক্ষারত অবস্থায় একদল দূর্বৃত্ত রিপনের উপর দেশীয় ধারলো অস্ত্রসহ হামলা চালায়। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত রিপনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক রিপনের প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত আহত রিপনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার শিকার আহত রিপনের চাচাতো ভাই মো: ওয়াসিম বাদি হয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত বাকীরা হলেন, রেজাউল ইসলাম, ফাহাদ, সায়েম, আব্দুল হামিদ কটা, জনি, ড্যানী, রনি, আজিম ওরফে আকাশ, ইভন আলী, সুবেল, এবং সজিব হোসেন। এদের মধ্যে ৬জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সৌপর্দ করেছে পুলিশ। আদালত গ্রেফতাকৃতদের কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

;

তামাকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তামাকদ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে বেশি বেশি করে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অব দি রুরাল পুয়র-ডরপ আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সময়োপযোগীকরণে নীতি- নির্ধারকদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, তামাকদ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে তামাকলব্য নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বেশ কিছু ধারা সংশোধন করে। এছাড়া ২০১৫ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সেমিনারে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সময়োপযোগীকরণে সকল প্রকার পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহনে ধুমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাসহ কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।

এ সময় মন্ত্রী এ আইন সময়োপযোগী করতে আরও কিছু ধারা সংশোধনের উদ্যোগ সরকার ইতোমধ্যে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে ডরপ-এর চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদারের সভাপতিত্বে এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল -এর সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার, সিটিএফকে, বাংলাদেশ এর লিড পলিসি এ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃ-কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল সম্পাদক কামরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
সোহেল মিয়া ও কামরুজ্জামান কামরুল

সোহেল মিয়া ও কামরুজ্জামান কামরুল

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মাদ সোহেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। সর্বসম্মতিক্রমে ২০২২-২৪ সালের জন্য ত্রিবার্ষিক কমিটি ঘোষণা করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক দেবাশীষ বিশ্বাস।
 
রোববার (২২ মে) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় বিগত দিনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তা বিলুপ্তি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাকির হোসেন। এরপর দেবাশীষ বিশ্বাসকে আহবায়ক করে তিন কমিটি বিশিষ্ট একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। জরুরী সভার শুরুতেই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত রঘুনন্দন সিকদারের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন সকল গণমাধ্যমকর্মীরা।
 
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি দুপুরের পর সবার সর্বসম্মতিক্রমে মোহাম্মাদ সোহেল মিয়াকে (বার্তা২৪.কম ও যায়যায়দিন) সভাপতি ও মো: কামরুজ্জামান কামরুলকে (সময়ের কাগজ) পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। 
 
কমিটির অন্যরা হলেন- সহসভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস (বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডিবিসি নিউজ), যুগ্ন-সম্পাদক তনু সিকদার সবুজ (দৈনিক ইত্তেফাক ও মাতৃকণ্ঠ), সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোর্তবা রিজু (দৈনিক গণসংহতি), কোষাধাক্ষ্য গোলাম মোস্তফা (অনুসন্ধান), সদস্য- মো: জাকির হোসেন (দৈনিক ফরিদপুর কণ্ঠ), সমীর কান্তি বিশ্বাস (সকালের সময়), অনিক সিকদার (দৈনিক আজকের পত্রিকা) ও মো: আশরাফুজ্জামান (দৈনিক কুষ্টিয়া)
;

খোঁজ মিলছে না রাজেন্দ্র কলেজের ২৫ শিক্ষার্থীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ২৫ শিক্ষার্থীর কোন খোঁজ মিলছে না। রোববার (২২ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম কুমার সাহা।

তিনি বলেন, গত দুই বছর যাবত তারা হারিয়ে গেছে। তারা কলেজে আসছে না। কোন একাডেমিক সেশনে থাকছে না। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তাদের মোবাইলে ফোন দিয়েও তাদের পাচ্ছি না।

‘করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ তথ্য জানান কলেজ অধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা আখতার বলেন, বর্তমানে পুরুষেরাও নারীর হাতে নিগৃহীত হচ্ছেন। রাজধানী ঢাকাতে ৬০ ভাগ পুরুষ নারীর নির্যাতনের শিকার। নারীবাদি মানে পুরুষকে অস্বীকার করা না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের বাবা, ভাই, স্বামী সকলেই পুরুষ। তাদেরও দরকার রয়েছে। বরং নারী শিক্ষার প্রসার দরকার এই নিগ্রহ ও নির্যাতনের প্রতিকারের স্বার্থে।

রাজেন্দ্র কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে শহরের বায়তুলআমানস্থ ক্যাম্পাসে সমাজকর্ম ভবনের ৩য় তলায় এর আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ.বিএ.এম সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এস.এম. আব্দুস সালাম ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক মো. আশরাফুল আজম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমান।

সেমিনারে আলোচকগণ বলেন, দু’একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করোনাকালে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি। এরও নানা কারণ রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন কাঠামো ছিলো না। শিক্ষার্থীদেরও ডিভাইস বা ডেটা ক্রয়ের সামর্থ্য ছিলো না। গ্রামে এ সময়ে সমস্যা হয়েছে বেশি।

তারা বলেন, করোনার কারণে আমাদের পড়াশুনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জ্ঞানান্বেষণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা, অবসাদ, ক্রোধ, একাকিত্ব সহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ না থাকায় বিশেষ করে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশি। তাদের মাঝে মানসিক বৈকল্য দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্জন থেকে ঝড়ে যাওয়ায় বেড়েছে শিশুশ্রম। এই সাইকোলজিক্যাল ট্রমা থেকে পরিত্রাণে এখনই কার্যকর উপায় বের করতে না পারলে সামনে এর বিরুপ প্রভাব সমাজে বহুদিন বিদ্যমান থাকবে।

করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতির বড় শিক্ষা হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাকে উপর থেকে নিচে পর্যন্ত বদলাতে হবে উল্লেখ করে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে স্বশরীরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অপরিহার্য। এছাড়া শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত এবং শিক্ষার এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দুই তিন বছরের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার।

;