রোববার থেকে ময়মনসিংহে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে এক ঘণ্ট সময় লাগলেও গাজীপুর থেকে মহাখালী যেতে সময় লাগছে ৪-৫ ঘণ্টার মত। এ অবস্থার অবসানের দাবিতে রোববার (১৬ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতি।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা পরিবহন মটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গত ২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতি ও ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গাজীপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা চলাচলের উপযোগী করতে দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন না ঘটলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকবে না।

উক্ত সমস্যা সমাধানের দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ১৬ জানুয়ারি থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল) যোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ থাকবে।

ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকগণের নিজস্ব জরিপে দেখা যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রতি মিনিটে ৭টি যাত্রীবাহী গাড়ি বিভিন্ন রোড থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করে। হিসাব অনুযায়ী ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি। ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে দশ হাজার ৮০টি গাড়ি। রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয় ২০ লিটার বেশি। হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০টি গাড়িতে ২ লাখ এক হাজার ৬০০ লিটার তেল লাগে। যার অর্থমূল্য এক কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন মালিকদের তেল বাবদ নষ্ট হচ্ছে ওই টাকা। দিন দিন পরিবহন শিল্পের এই অতিরিক্ত খরচে মালিকরা তাদের গাড়ির কিস্তিসহ মেরামত যন্ত্রাংশ, টায়ার কোনটাই পরিচালনা করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর-ঢাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল বহনে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও রোধ করা যাচ্ছে না। তাই পরিবহন শিল্পসহ সকল ব্যবসায়ীমহলের স্বার্থ রক্ষায় এই ধর্মঘট।

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
Advance train tickets start selling

Advance train tickets start selling

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঘরমুখী মানুষেরা টিকিট পেতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় মুখরিত পুরো স্টেশনের অভ্যন্তর। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্রমশ লম্বা হয়েছে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন।স্টেশনে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। এরমধ্যে অনেকেই পেয়েছেন টিকেট।

পঞ্চগড়ের আবুল মনসুর বলেন, গত ঈদে বাড়ি যাইনি। এবার পরিবার নিয়ে গ্রামে যাব। তাই প্রথম দিনের টিকিট কাটতে মধ্যরাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছি। আশা করছি পাব।

কাউন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ শুক্রবার দেওয়া হচ্ছে ৫ জুলাই যাত্রার টিকিট, আগামীকাল শনিবার দেওয়া হবে ৬ যাত্রার টিকিট, রবিবার দেওয়া হবে ৭ জুলাইয়ের টিকিট, সোমবার দেওয়া হবে ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং মঙ্গলবার দেওয়া হবে ৯ জুলাইয়ের টিকিট।

এছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই। ওইদিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই দেওয়া হবে ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই দেওয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১১ জুলাই ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। তবে ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাউন্টারে এবং অনলাইনে টিকিট বিক্রি করা হবে। টিকিট ক্রয়ের জন্য যাত্রীদের নিশ্চিত জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি দেখিয়ে টিকিট কাটতে হবে।

;

লঞ্চে যাত্রী কমেছে ৫০ শতাংশ, ভাসমান হোটেল বানানোর চিন্তা!



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
লঞ্চে যাত্রী কমেছে ৫০ শতাংশ, ভাসমান হোটেল বানানোর চিন্তা!

লঞ্চে যাত্রী কমেছে ৫০ শতাংশ, ভাসমান হোটেল বানানোর চিন্তা!

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল নৌযান। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেখা গেছে একবারেই ভিন্ন চিত্র। বেড়েছে সড়ক পথে যাতায়াত করা যাত্রীর সংখ্যা। এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নৌযানগুলোতে। বিশেষ করে লঞ্চে যাত্রী পরিবহনে ভাটা পড়েছে। অনেকে নৌযানের বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজছে বলে জানা গেছে।

একাধিক লঞ্চ মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে নৌযান উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী কমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলগামী নৌযানে বেশি প্রভাব পড়েছে। সময় ও টাকা দুটোই সাশ্রয় হওযায়, নৌযানের যাত্রীরা নদী পথ ছেড়ে সড়ক পথে যাতায়াত করছেন। ফলে অর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন নৌযান মালিকরা। অনেক ক্ষেত্রে নৌযানগুলোর তেলের খরচও উঠছে না।

নৌযান মালিক (যাত্রী পরিবহন) সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি মো. বদিউজ্জামান খান বাদল বর্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, পদ্মাসেতু বাংলাদেশর ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু এটি হওয়ার কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ যাত্রী কমেছে নৌযান গুলোতে। যাত্রীরা যেভাবে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য মনে করছেন সেভাবেই যাচ্ছেন। তবে নৌযানালিকদের দিকে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন বলেও মতামত দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, খরচ পোষাতে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকে কম টাকা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন। তার পরেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। খালি নৌযান নিয়েই ছেড়ে যেতে হচ্ছে।

রাবেয়া শিপং লাইন্সের স্বত্তাধিকারী শহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে লঞ্চে যাত্রী ৫০-৬০ শতাংশ কমেছে। অনেক সময় তেলের খরচও উঠছে না। প্রতি ট্রিপে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, আর্থিক ক্ষতির ফলে ব্যাংক লোন পরিশোধ করা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে বিকল্প আয়ের কথা ভাবছেন। তিনি এরই মধ্যে একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ করার কথাও ভাবছেন।

সদরঘাট নৌবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির জানান, গত ৫ দিনে নৌযাত্রী যেমন কমেছে, তেমনি নৌযান ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। পদ্মাসেতু চালুর আগে যেখানে ৭৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেলেও এখন ছেড়ে যাচ্ছে ৬০- ৬৫টি লঞ্চ। যাত্রীরও নেই চাপ। তবে অচিরেই একটা খারাপ প্রভাব পড়বে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর, অনেকেই শখ করে পদ্মা সেতু দেখতে যাচ্ছেন। সামনে ঈদ আছে। ঈদের পরে বোঝা যাবে পদ্মা সেতু এই সেক্টরে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

;

সমালোচকরা দেশের জনগণের সামর্থ্য জানে না: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সমালোচকরা আসলে দেশের জনগণের সামর্থ্য জানে না, বরং তারা জাতির সামর্থ্যকে সবসময় অবমূল্যায়ন করে।

তিনি বলেন,‘আমাদের সমালোচনাকারিরা দেশের মানুষের শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। নইলে তারা বার বার বাধা দেবে কেন? তারা আসলে জাতি হিসেবে আমাদের সক্ষমতাকে সবসময় অবমূল্যায়ন করে। হেয় প্রতিপন্ন করে। সবসময় যেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলার মানসিকতায় ভোগে।’

প্রধানমন্ত্রী ও  সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ  জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ ও ২০২২ সালের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। এদিন সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে এখানে কতগুলো প্রশ্ন এসেছে, বিরোধী দলের সদস্যরা অনেক কথাই বলেছেন। প্রথম প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ হাজার কোটি ধরা হলেও পরবর্তীতে ৩০ হাজার কোটি লাগার কার্যকরণ বিশ্লেষণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণে তাঁর সরকারের বহুদিনের প্রচেষ্টা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরও তিনি ২০০১ সালে স্থাপন করে যান। যদিও পরবর্তী বিএনপি সরকার সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ব্যয় প্রাক্কলন করে (১০ হাজার কোটি টাকা) যার কোন বাস্তব ভিত্তি যেমন ছিলনা তেমনি এরপর বহু যোজন বিয়োজন হয় প্রকল্পে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্র্রচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল এইকম’কে নিয়োগ দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় রেল সুবিধা যুক্ত করে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধান করেন তিনি। শুরুতে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক পাঁচ-আট কিলোমিটার। পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার হয়। প্রথম ডিপিপিতে সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে তিনটির নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা রেখে নকশা করা হয়েছিল। পরে ৩৭টি স্প্যানের নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের সুযোগ রাখার বিষয়টি যুক্ত করা হয়।

সংশোধিত ডিপিপিতে বেশি ভার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন রেল সংযোগ যুক্ত করা হয়। কংক্রিটের বদলে ইস্পাত বা স্টিলের অবকাঠামো যুক্ত হয়। সেতু নির্মাণে পাইলিংয়ের ক্ষেত্রেও বাড়তি গভীরতা ধরা হয়। বাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ব্যয়ও।

সেতু নির্মাণকালিন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময়কার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ প্রত্যাহার করে নিলে অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও তখন সরে দাঁড়ায়। যদিও পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার একটি আদালতে মিথ্যা বলেই প্রমাণিত হয়। আর নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সে সময় দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমি জানি তখন আমাদের দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভেবেছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা ছাড়া এই সেতু নির্মাণ সম্ভব হবেনা, যে কথাটি আমাকে বার বার শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করতে পারলে তবেই করবো, কারো কাছে হাত পেতে করবো না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে ও নিজেই করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণ করতে গেলে দেশিয় রিজার্ভের ওপর চাপ আশার যে আশংকা ছিল সেখানে তাঁর একটা হিসেবে ছিল যে সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে এবং সে সময়ে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে যদি ব্যয় করা যায় তাহলে রিজার্ভে কোন চাপ পড়বে না।

নিজস্ব অর্থায়ণে তাঁর সেতু নির্মাণের ঘোষণায় দেশের জনগণের স্বতস্ফূর্ত ভাবে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কানাডার কোর্ট যখন বলে দিল পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি তখন মানুষের মাঝে একটা অন্যরকম চেতনা আসলো। আর সেটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোন পথ ছিলনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু কেবল দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশ যাতে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে তার স্বর্ণদুয়ারও উন্মোচন করেছে।

;

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) তথ্য বিবরণীতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কোরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

  • হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোনো অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না।
  • ইজারাদারের হাট বসানোর আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  • কোরবানির হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিয়ষগুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে।
  • মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
  • প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে।
  • কোরবানির হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না।
  • প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে।
  • একটি পশুর থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতালা কমপক্ষে তিন ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু কিনতে পারেন।
  • ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
  • মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময় যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। লাইনে তিন ফুট বা কমপক্ষে দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিতে হবে।
  • সব পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে।
  • হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা সম্ভব, এমন সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। একটি পশু কেনার জন্য এক বা দুই জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না।
  • অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
  • স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব কাজ নিশ্চিত করতে হবে।
;