রোববার থেকে ময়মনসিংহে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে এক ঘণ্ট সময় লাগলেও গাজীপুর থেকে মহাখালী যেতে সময় লাগছে ৪-৫ ঘণ্টার মত। এ অবস্থার অবসানের দাবিতে রোববার (১৬ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতি।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা পরিবহন মটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গত ২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতি ও ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গাজীপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা চলাচলের উপযোগী করতে দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন না ঘটলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকবে না।

উক্ত সমস্যা সমাধানের দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ১৬ জানুয়ারি থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল) যোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ থাকবে।

ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকগণের নিজস্ব জরিপে দেখা যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রতি মিনিটে ৭টি যাত্রীবাহী গাড়ি বিভিন্ন রোড থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করে। হিসাব অনুযায়ী ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি। ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে দশ হাজার ৮০টি গাড়ি। রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয় ২০ লিটার বেশি। হিসাব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০টি গাড়িতে ২ লাখ এক হাজার ৬০০ লিটার তেল লাগে। যার অর্থমূল্য এক কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন মালিকদের তেল বাবদ নষ্ট হচ্ছে ওই টাকা। দিন দিন পরিবহন শিল্পের এই অতিরিক্ত খরচে মালিকরা তাদের গাড়ির কিস্তিসহ মেরামত যন্ত্রাংশ, টায়ার কোনটাই পরিচালনা করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর-ঢাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল বহনে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও রোধ করা যাচ্ছে না। তাই পরিবহন শিল্পসহ সকল ব্যবসায়ীমহলের স্বার্থ রক্ষায় এই ধর্মঘট।

দুই বছর স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ৬৪ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা ভাইরাস মহামারি দেড় বছরের বেশি সময় স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। মহামারিকালে বিশ্বজুড়ে স্কুল সর্ম্পূণ বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে ৬৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউনিসেফের এর জরিপে উঠে এসেছে। 

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসে এবং কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় ইউনিসেফ শিশুদের পড়াশোনার ওপর মহামারির প্রভাব সম্পর্কে প্রাপ্ত সর্বশেষ উপাত্ত তুলে ধরেছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ফের বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২ পর্যন্ত স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেল্ডন ইয়েট বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার প্রথমে স্কুল থাকা উচিত।’

ইউনিসেফের শিক্ষা বিষয়ক প্রধান রর্বাট জনেকন্সি বলেন, ‘বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কোভিড-১৯ নামক বাঁধার দুই বছর পুর্ণ হবে আগামী মার্চে। খুব সহজভাবে বললে, আমরা শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রায় অপূরণীয় মাত্রার ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি, তবে পড়াশোনার ক্ষেত্রের এই প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটাতে হবে এবং শুধু স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়াই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বিকাশ এবং পুষ্টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে স্কুলগুলোকে শুধু শেখানোর নির্ধারিত গন্ডির বাইরেও যেতে হবে।’

ইউনিসেফের জরিপে উঠে এসেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্কুল বন্ধের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় ১০ বছর বয়সীদের ৭০ শতাংশই সহজ পাঠ্য পড়া বা বোঝার সক্ষমতা র্অজন করতে পারেনি, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

ইউনিসেফ বলেছে, মহামারিকালে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা গণনা ও স্বাক্ষরতার মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে। বৈশ্বিকভাবে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অর্থ হলো- লাখ লাখ শিশু শ্রেনীকক্ষে থাকলে যে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারতো তা থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বঞ্চিত হয়েছে, যেখানে ছোট ও আরও বেশি প্রান্তিক শিশুরা সব চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

ইথিওপিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে যে পরিমাণ গণিত শিখতে পারতো তার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিখতে পেরেছে বলে ধারণা করছে ইউনিসেফ।

ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি প্রদেশ গ্রেডে ২-এর প্রতি ৪ শিশুর মধ্যে ৩ জন পড়ার দক্ষতা অর্জন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যা মহামারির আগে ছিল প্রতি ২ শিশুর মধ্যে একজন। দেশটিতে ১০-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন জানিয়েছে। তাদের স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়ার পরে তারা আর স্কুলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে না। টেক্সাস ২০২১ সালে গ্রেড ৩-এর দুই-তৃতীয়াংশ শিশুদের তাদের গ্রেডের জন্য গণিতে দক্ষতা কম ছিল। ২০১৯ সালে এই হার ছিল অর্ধেক শিশু।

যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, টেনেসি, উত্তর ক্যারোলিনা, ওহাইও, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডসহ অনেক অঙ্গরাজ্যে পড়াশোনার ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুলগামী শিশুদের শিক্ষাবর্ষে যে অবস্থানে থাকার কথা তার চেয়ে তারা ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

স্কুল বন্ধ থাকায় তা পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে, তাদের নিয়মিত পুষ্টি প্রাপ্তির উৎস কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ হারে উদ্বেগ ও বিষন্নতা সৃষ্টি করেছে, যার হার কিশোর-কিশোরী এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে বেশী।

ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে বিশ্বব্যাপী ৩৭ কোটিরও বেশী শিশু স্কুলের খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা কিছু শিশুর জন্য খাবার ও দৈনিক পুষ্টি প্রাপ্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস এবং তারা সেটা হারায়।

 

;

লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মৌলভীবাজার
লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার

লাউয়াছড়া বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার বন থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় চা শ্রমিক বৌন বাউরি লাউয়াছড়া বনের স্টুডেন্ট ডরমিটরির পাশের জঙ্গল থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যায়। এসময় সে আশপাশের কয়েকটি স্থানে মানুষের কঙ্কাল সাদৃশ্য বস্তু দেখে পুলিশে খবর দেয়।

কঙ্কালের পাশে গাছের সাথে পেঁচানো একটি শাড়ি পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ এসে হাড়গুলো উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কঙ্কালগুলো মাধবপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আছিদ আলীর বোনের।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় সাড়ে চার মাস আগে আছিদ আলীর বোন নিখোঁজ হয়। শাড়ি দেখে তারা ধারণা করছেন কঙ্কালগুলো নিখোঁজ হওয়া আছিদ আলীর বোনের হতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা বলেন, হাড়গুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে। এরপর কঙ্কালটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। এবিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হবে বলেও তিনি জানান।

;

রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ ৭০ শতাংশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হারে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সংক্রমণের হার বাড়তে বাড়তে ৭০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। করোনার এমন ভয়ানক সংক্রমণেও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই বললেই চলে। সবখানেই অনেকটা গা-ছাড়া ভাব।

সোমবার রাজশাহীর দুটি পিসিআর ল্যাবে এ জেলার ৫৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৮২টি নমুনাতেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ৭০ দশমিক ০৯ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের এই হার এত বেশি আগে আর কখনই হয়নি। দেশে করোনার অমিক্রন ধরন শনাক্তের পরই রাজশাহীতে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণের এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজশাহীর ১৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৯৯টি করোনা পজিটিভ হয়েছে। এখানে সংক্রমণের হার ৫৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৫৪৫টি নমুনার মধ্যে ৩৮২টিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। সংক্রমণের গড় হার ৭০ দশমিক ০৯ শতাংশ।

আগের দিন রোববার জেলার ৪৫৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এতে ২২৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কিন্তু একদিনের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে গেল ১০ শতাংশ। রাজশাহীতে করোনার ডেলটা ধরনের সময়ও এত দ্রুত সংক্রমণ বাড়েনি।

এদিকে সোমবার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৬২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার হয় ৬৭ শতাংশ। ক্যাম্পাসেও করোনার এমন সংক্রমণে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান ড. তবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে করোনা সংক্রমণ খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদি এভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মুশকিল হবে। শিক্ষাথীদের উচিত হবে যাদের অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে তাদের বাড়ি চলে যাওয়া। অন্যথায় সবার মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে শিক্ষাথীদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

এদিকে গোটা রাজশাহীতেই হু হু করে সংক্রমণ বাড়লেও এখনও পথে-ঘাটে মানুষ ঘুরছেন মাস্ক ছাড়া। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করছেন না কেউ। তবে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭টি মামলায় সাতজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। করোনা সচেতনতায় বিতরণ করা হয়েছে ১০৭পিস মাস্ক।

;

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তরুণীর মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
মিথুন ওরফে আকাশ গ্রেফতার

মিথুন ওরফে আকাশ গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রুহি আক্তার (১৯) নামের এক তরুণী নিহতের ঘটনায় প্রেমিক মিথুন ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকালে গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

আটক মিথুন গঙ্গাচড়া উপজেলার ধামুর গ্রামের ইবাদত আলীর ছেলে। সে প্রেমিকা রুহিকে নিজের ভুয়া নাম ও ঠিকানা দিয়েছিল।

এর আগে, রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ভেতর থেকে রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুহি ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড থানার হরিয়ারঘাট গ্রামের সেকেন্দার আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রুহির সঙ্গে রংপুর নগরীর ৯নং ওয়ার্ডের বাহারকাছনা রাম গোবিন্দমোড় এলাকার আকাশ নামের এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) মেয়েটি আকাশের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এক পর্যায়ে আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকেন মেয়েটি। শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ৯৯৯ নম্বরে থেকে খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশ রুহিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।

সেখানে থাকা অবস্থায় রোববার দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আত্মহত্যা করেন রুহি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেনকে (অপরাধ) প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মাহব-উল-আলম।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে পুলিশের এএসআই নাদিরা ও কনস্টেবল আফরুজা বেগমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এক বছর আগেও মেয়েটি ঝিনাইদহ থেকে আকাশের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা তাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে তাকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এঘটনায় রুহির পিতা সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

;