ঘুরতে গিয়ে বখাটেদের মারধরের শিকার কিশোর-কিশোরী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নেয়া

ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নেয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় প্রকাশ্যে বখাটেরা এক কিশোর-কিশোরীকে মারধর করেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার তালন্দ-চৌবাড়িয়া প্রধান সড়কে লবাতলা ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এই মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, তানোর উপজেলার তালন্দ-সমাসপুর গ্রামের মইনুল ও রাজু নামে দুজন মিলে ঘুরতে আসা অপরিচিত এক কিশোর ও এক কিশোরীর বেধড়ক মারপিট এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করছে। ওই কিশোর-কিশোরী রাস্তার পাশে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তাদের মারধর করা হয়। এ সময় সারুয়ার হোসেনসহ আরও দুই স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি দেখে বখাটেদের বাঁধা দেন ও মুঠোফোনে মারপিটের সেই ভিডিও ধারণ করেন।

এদিকে ধারণকৃত ভিডিওতে মারধরের শিকার দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে তালন্দ বাজারের কয়েকজন জানান, মারধরের শিকার ওই তরুণ-তরুণীরা সকালের দিকে তালন্দ কলেজের দিকে যায় এবং ঘণ্টাখানেক পর কলেজের রাস্তা থেকে ফিরে হাঁটতে হাঁটতে লবাতলা ব্রিজের রাস্তার দিকে তাদের দুজনকেই যেতে দেখেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালন্দ ললিত মোহন কলেজে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ভুক্তভোগী ওই তরুণ-তরুণীকে সকালে কলেজ চত্বরের আশপাশে ঘুরতে দেখেছি। হয়তোবা তারা কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন। কিন্তু পরে তারা মাদকসেবীদের হামলার শিকার হয়েছেন।

এদিকে ঘটনার ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত বখাটে মইনুল ও রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিযুক্ত মইনুল বলেন, ‘এই বিষয়ে আপনাদের নিউজ করার প্রয়োজন নেই।’ ঘটনার সময় আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে মইনুল বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত রাজু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাসির উদ্দীন এ ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলেই ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেই দোষী হোক না কেন, ওই ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘কুসিক নির্বাচনে পেশিশক্তির ব্যবহার হলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে পেশিশক্তির ব্যবহার হলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

রোববার (২৯ মে) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাচনে পেশীশক্তি ব্যবহার করে কোন লাভ নেই। কেউ কোনো কেন্দ্রে পেশিশক্তির ব্যবহার হলে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এসময় তিনি নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ভূমিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেন।

আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় ২ জন প্রার্থীসহ ৫ জন প্রার্থী এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৬ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী, ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টি ওয়ার্ডে ১০৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সিটি করপোরেশনের ৫ নং এবং ১০ নং ওয়ার্ডের একক প্রার্থী হওয়ায় সাবেক ২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ২টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ রক্ষায় নগরীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

;

‘পল্লী উন্নয়ন’ পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘পল্লী উন্নয়ন’ পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘পল্লী উন্নয়ন’ পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

তাকে এই পদক প্রদান করে সেন্টার অন ইন্ট্রিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’র (সিরডাপ) পল্লী উন্নয়নের জন্য পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৯ মে) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ‘আজিজুল হক পল্লী উন্নয়ন পদক-২০২১’ তুলে দেন সিরডাপের মহাপরিচালক ডা. চেরদসাক ভিরাপা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য।

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে সিরডাপ কর্তৃক ‘আজিজুল হক পল্লী উন্নয়ন পদক ২০২১’ প্রদান করায় আমি মনে করি এটা আমার দেশের জনগণের প্রাপ্য। আমি তাদের জন্য এ পদক উৎসর্গ করছি। এ পদক প্রাপ্তির জন্য আমাকে মনোনয়ন করা মানে বাংলাদেশকে মনোনয়ন করা।

তিনি বলেন, ‘সিরডাপ সবসময় তাদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পল্লী উন্নয়নের ওপর কাজ করে। সেখান থেকে একটা পুরস্কার পাওয়া শুধু আমার জন্যই না, আমার দেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক; বাংলাদেশকে সম্মান জানানো।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সবসময় লক্ষ্য যে এদেশের উন্নয়নটা তৃণমূল থেকে হবে। গ্রাম থেকে হবে। ভিলেইজ থেকে হবে। আর সে লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা নিয়েছি। যখনই সরকার গঠন করেছি আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

‘পল্লী উন্নয়নটা অর্থাৎ গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করতে পারলে দেশের উন্নয়ন হয়। সেটাই আমরা বিশ্বাস করি। দেশের উন্নয়ন করতে হলে একেবারে তৃণমূলের মানুষকে বাদ দিয়ে কখনো উন্নয়ন হতে পারে না,’ যোগ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

এ সময় গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে নিজস্ব চিন্তা থেকে ‌প্রথমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ কর্মসূচির কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান এগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। আমরা ভূমিহীন-গৃহহীনদের বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এগুলো আমরা দিচ্ছি। এগুলো সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা, নিজস্ব চিন্তা ভাবনার ফসল। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।’

;

কলকাতা থেকে ১৯ যাত্রী নিয়ে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার আজ থেকে ফের বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে খুলনা-বেনাপোল- কলকাতা রেল রুটে চালু হয়েছে যাত্রীবাহী রেল বন্ধন এক্সপ্রেস।

প্রথম যাত্রায় কলকাতা থেকে ১৯ জন যাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে এসেছে রেলটি। এসময় কাস্টমস ও পুলিশ সদস্যরা যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আপাতত সপ্তাহে দু দিন চলবে বন্ধন। রেল চালুতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক পথের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে বলছেন যাত্রীরা। তবে ভাড়া কমানোর পাশাপাশি রেল সেবা দুদিন থেকে বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের।

জানা যায়, ভারত -বাংলাদেশের মধ্যে সৌহাদ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-বেনাপোল- কলকাতা রেলপথে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চালু হয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেল পরিষেবা বন্ধ করে ভারত সরকার। এতে বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা-বেনাপোল -খুলনা রুটে যাত্রীবাহী রেল বন্ধন এক্সপ্রেস। সংক্রমণ কমে আসলে দুই দেশের মানুষ দাবি তোলেন পুনরায় বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর।

অবশেষে রোববার (২৯ মে) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ৪৫৬ আসনের বন্ধন রেলটি কলকাতা থেকে ১৯ জন যাত্রী নিয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোল স্টেশনে পৌছায়। পরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। খুলনা থেকে আবার যাত্রী নিয়ে দুপুর দেড়টায় রওনা দিয়ে বেনাপোল পৌঁছাবে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে। পরে বেনাপোলে রেলওয়ে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে রওনা দিয়ে কলকাতা পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। এসিতে খুলনা থেকে কলকাতা ভ্রমণে প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া ১ হাজার ৫৩৫ টাকা। আর কেবিনে ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে ২ হাজার ৫৭ টাকা। ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। খুলনা, যশোর ও বেনাপোল স্টেশন থেকে যাত্রীদের রেলে উঠা-নামার সুযোগ রয়েছে।

রেল যাত্রীরা জানান, সড়ক পথে খুলনা থেকে কলকাতা যেতে খরচ হয় সাড়ে ৭শ টাকা। রেলে দ্বিগুণ ভাড়ায় ভ্রমণ করতে সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট হয়ে যাবে। তবে কম সময় আর নিরাপদ যাত্রায় খুশি।

বেনাপোল রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ওসি রাজু আহম্মেদ জানান, বেনাপোল ও কলকাতা রেলওয়ে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের ব্যাগেজ পরীক্ষা ও পাসপোর্ট কার্যক্রম সম্পূর্ণ হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারে তার জন্য আন্তরিক হয়ে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।

বেনাপোল রেলওয়ে ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার লঙ্কিদার কুমার দে জানান, করোনা ও মাঙ্কিপক্স ভাইরাস রোধে ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর জানান, দু বছর পর আবারও বন্ধনের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ১৯ জন যাত্রী এসেছে। সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার এ রুটে বন্ধন চলাচল করবে। বন্ধন এক্সপ্রেস ছাড়াও বেনাপোল-ঢাকা রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও বেনাপোল-খুলনা রুটে বেতনা এক্সপ্রেস যাত্রী সেবায় চলাচল করছে।

;

আমরা সংঘাত চাই না, উন্নতি চাই: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধ না, আমরা শান্তি চাই। সংঘাত না, আমরা উন্নতি চাই।

রোববার (২৯ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সব শান্তিরক্ষীদের বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব-সততা বজায় রেখে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখার যেমন চেষ্টা করবেন, দেশের ভাবমূর্তি যাতে উজ্জ্বল হয় সেভাবে আপনারা কাজ করবেন সেটাই আমরা চাই। জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রয়োজনে আরও শান্তিরক্ষী পাঠাতে আমরা প্রস্তুত। বিশ্ব করোনাভাইরাসের মতো মহামারি অতিক্রম করতে করতে আরেকটা যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে, যা আজকে বিশ্বে অর্থনীতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তি চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাঙালি জাতিরই নন, তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের মুক্তির ও শান্তির দূত। এজন্য বিশ্ব শান্তি পরিষদ তাকে জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

তিনি বলেন, বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত—শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) সব সময় শোষিত, নির্যাতিত, নিপীড়ত মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে আমরা জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করি এবং জাতিসংঘে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেন। সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বিশ্বের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়' এই নীতি তিনি ঘোষণা করেছিলেন। যে নীতি আমরা এখনো মেনে চলি। বাংলাদেশ সব সময় চায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। যুদ্ধ না, আমরা শান্তি চাই। সংঘাত না, আমরা উন্নতি চাই। জাতির পিতার শান্তি সেনানীরূপে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'ব্লু হেলমেট' পরিবারের সদস্য হয়। আজ আমরা 'সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ' হিসেবে গৌরবের ৩৪ বছর উদযাপন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে গত ৩৪ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি শান্তিরক্ষী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সমগ্র বিশ্বে শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বজনবিদিত। ৯৬ সালে প্রায় ২১ বছর পর আমি যখন সরকার গঠন করি, তখনই জানি আমাদের দেশ থেকে শান্তিরক্ষী মিশনে আমাদের সদস্যরা যাচ্ছেন; সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী থেকে। তাই তারা যাতে উপযুক্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য, যিনি যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশ সম্পর্কে জানা, সেখানে কী করণীয় সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেওয়া এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে জন্য আমি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেই। জাতিসংঘ মিশনে কার্যকর অংশগ্রহণ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে। একইসঙ্গে সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়াও, শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করা অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় এবং অরাষ্ট্রীয় অপশক্তিগুলো নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমরা আমাদের শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করে তুলছি।

তিনি আরও বলেন, 'পিপল পিস প্রোগ্রেস: দ্য পাওয়ার অব পার্টনারশিপ' ২০২২ সালের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্যকে আমরা সামনে রেখে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আরও জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে সেই অঙ্গীকার আমরা করছি।

;