প্রতিবন্ধকতার শিকল যেন প্রতিবন্ধীদের পিছু ছাড়ছেই না



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবন্ধকতার সকল দেয়াল ভেঙে সাফল্যের উচ্চ চূড়াতে পৌঁছাতে বেশ কাঠ-খড় পোড়াতে হয় একজন প্রতিবন্ধীকে। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা না, সমাজে এমন প্রচলিত কথা থাকলেও যখন একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষা গ্রহণের চিন্তা মনে লালন করেন; নিজেকে অন্য সাধারণ মানুষের মত গড়ার কথা ভাবেন তখন থেকেই সংগ্রামের দিনলিপি শুরু হয়। অনেক প্রতিবন্ধীই সংগ্রামের এ যাত্রার মধ্যবর্তী পথে হাল ছেড়ে অন্য পথ বেছে নেন। শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক একজন মানুষের মত শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন যেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে এক অধরা স্বপ্নই থেকে যায়। অনেকে প্রচন্ড বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই সাফল্যকে হাতের নাগালে পেতে প্রতিনিয়ত ছুটেই চলেছেন।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রাথমিকের শিক্ষা কিছুটা বন্ধুসুলভ হলেও প্রাথমিকের পাঠ চুকাতেই শিক্ষাজীবন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য, কারণ বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অধিকাংশ স্কুলই শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে। মাধ্যমিকে এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হয় মূলধারার কোন স্কুলে যার অধিকাংশতেই উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ নেই কিংবা স্কুলগুলো প্রতিবন্ধীদের জন্য বন্ধুসুলভ নয়। এদিকে উচ্চ শিক্ষা তো তাদের কাছে আরেকটা সংগ্রামের নাম।

এমনটাই বলছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আসিফ করিম পাটোয়ারী। প্রাথমিক বিদ্যালয় তার কাছে কিছুটা মানানসই হলেও মাধ্যমিকে এসে মূল ধারার বিদ্যালয়ে পড়তে অনেকটাই বেগ পেতে হয় শুরুতে৷ সেই সময় সরকার ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ব্রেইল বই প্রদান করত না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আসিফ জানান, কখনও অডিও রেকর্ড শুনে পড়াশোনা করছেন, কখনো বা তার বাবা উচ্চ মূল্যে ব্রেইল পদ্ধতিতে বইগুলো প্রিন্ট করে নিয়ে এনে পড়েছেন তিনি।

আসিফ করিম আরও জানান, মাধ্যমিক মাড়িয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে গেলে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে থাকে। বিনামূল্যে ব্রেইল বই না পেলেও উচ্চ মূল্যে ব্রেইল বই প্রিন্ট করে পড়েছেন। কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে অডিও রেকর্ড শুনে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছেন। আসিফ করিম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, দিন যত যাচ্ছে চ্যালেঞ্জিং বাড়ছে। পথ অনেক সংকীর্ণ হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংরক্ষিত থাকলেও, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতে আসিফ তার শ্রুতি লেখক’ক নিয়ে জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন।

এছাড়া দেশের অনেক পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও উচ্চ শিক্ষায় প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে বন্ধু সুলভ না বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা হলো এমন একটি শিক্ষা কাঠামো, যা সব ধরনের শারীরিক, মানসিক ও আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সুশিক্ষিত হয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব শিশুর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাপূর্ণ ও মানসম্মত সুশিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৪ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক তথ্য বলছে, দেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের সাক্ষরতার হার ৩৩ শতাংশ। একই বছর ইউনিসেফ প্রকাশিত তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ৮৯ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু সে সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। এর মানে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার কথা কাঠামোতে থাকলেও তা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হয়ে উঠছে না।

এদিকে দেশের উচ্চ শিক্ষায় কারিকুলামে গলদ রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিক আহসান। তিনি মনে করেন, উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যই জ্ঞান উৎপাদন কিংবা দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা। অথচ আমরা উচ্চ শিক্ষাই এনে মুখস্থ নির্ভর একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে নিচ্ছি। এমন অবস্থাতে ডিজএ্যাবিলিটি আছে এমন মানুষদের জন্য উচ্চ শিক্ষা ডাবল চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে।

তিনি মনে করেন, লিখেই কেন একজন মানুষের শিখন যাচাই করতে হবে। আমরা মুখস্থ করিয়ে লিখিয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করাতে চাই যে সে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় সমস্যা সমাধান ও প্রজেক্টবেজ শিখনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে একই ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের আইন ও ঐতিহ্যের কারণে এমনটা করে থাকে। তবে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না আমরা দেশের সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সব জায়গাতে যেন প্রতিবন্ধীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি ৷ তাছাড়া এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একক কোন ইস্যু না, এটি জাতীয় ইস্যু। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগও নিয়েছি। তবে আমলাতন্ত্রের জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভাগগুলোর নেই কোন পদক্ষেপ:

বাঁধা বিপত্তি মাড়িয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ক্লাস ও বন্ধু-বান্ধবের নোটের উপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আসিফ। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজে তৃতীয় বর্ষে পড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সেভাবে পড়াশোনার বিষয়ে সহায়তা করে না। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে অনির্বাণ ও পিডিএফ নামে দুটি সংগঠন। ক্লাসের অডিও রেকর্ড, পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক প্রয়োজনের পাশাপাশি যেকোন সহায়তা লাগলে তাদের শরণাপন্ন হন বলে জানান তিনি।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, তার বিভাগ যথেষ্ট রকমের সদয় তার প্রতি। এছাড়াও ক্লাসের অডিও রেকর্ড, পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক প্রয়োজন হলে তিনি সজ্জা ও পিডিএফের মত সংগঠনের সহায়তা নিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিক আহসান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সাপোর্ট সেন্টার থাকে। তারাই এ বিষয়টি দেখে থাকেন। যেখানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখকদের একটি পোল থাকে। যেসব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হবে তারা ওই পোল হতে সহায়তা নিতে পারবে। যেই শ্রুতি লেখকের সাথে শিক্ষার্থীদের পূর্ব কোন পরিচিতি থাকবে না। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এমন সাপোর্ট সেন্টারগুলো আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

উচ্চ শিক্ষায় ফাঁকা থাকছে প্রতিবন্ধী কোটায় সংরক্ষিত আসনগুলো:

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা ৬ হাজার ৮৫টি। এর ১ শতাংশ (৬১ জন) প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। প্রতিবন্ধী কোটায় প্রতি বছর ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)। এছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও আসন সংরক্ষিত থাকে। তথ্য জানার ঘাটতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথাকথিত প্রথা ও ঐতিহ্যের কারণে উচ্চ শিক্ষায় বন্ধু সুলভ হতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ভারতে প্রতিবন্ধীদের সুযোগ সুবিধা এবং শিক্ষা নিশ্চিতে তারা তাদের জায়গাতে বেশ শক্ত। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পূরণ না করে, তখন তাদের দেশে জবাবদিহি করতে হয় সঙ্গে তিরস্কারও করা হয়! অথচ আমাদের দেশ, ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী সুরক্ষা যে আইন তার তফসিলের ধারা বাস্তবায়নে কোন কাজ করেনি।

সুবিধা করতে পারছে না প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপবৃত্তি:

সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি চালু থাকলেও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তাদের কাছে এ টাকার পরিমাণ অতি নগন্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ বৃত্তি খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না বলে অনেক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। জানা যায়, সমাজসেবা অধিদফতর শুরুতে ১২ হাজার ২০৯ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৩০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১০০০ টাকা। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধীদের সাথে কথা হলে তারা বার্তা২৪.কম-কে জানান, সরকারের এ ব্যাপারে সদয় হওয়া প্রয়োজন, সেই সঙ্গে অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে আমাদের অর্থ সংকটে পড়তে হবে না।

উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও সাফল্যের উচ্চ শিখরে উঠতে বৈষম্যের অভিযোগ

চলতি বছরের ৯ মে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চাকরির দাবিতে বসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শাহীন আলম। পরবর্তীতে চাকরির আশ্বাসে তিনি আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও চাকরিতে ঢুকতে পারছি না। সংবিধানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এর ধারা (১) দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দিয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বঞ্চিত বা তার প্রতি বৈষম্য করা বা তাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। বিভিন্ন দফতরে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অবহেলা ও অর্থের কাছে হার মানতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেই আমাদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ চাকরির বিজ্ঞাপ্তি রয়েছে। সেখানে আমাদের দেশে বিসিএস থেকে চাকরি প্রতিবন্ধী কোটা তুলে দেওয়াতে অনেক বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে, বলে জানান ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আনোয়ার হোসেন ও রোকনুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয় ও এমপ্লয়মেন্ট সেক্টরের মাধ্যমে একটা কোলাবরেশনে প্রয়োজন, বলে মনে করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিক আহসান। তিনি বলেন, চাকরির বাজারে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে সচেতনতা প্রয়োজন। অধ্যাপক তারিক ‘ছিয়া’ গ্রুপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারা (ছিয়া গ্রুপ) দেখেছে অপ্রতিবন্ধীদের তুলনায় প্রতিবন্ধী মানুষদের উৎপাদনশীলতায় বেশি কর্মক্ষম। এভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সুযোগ দিতে থাকলে ধারণা এমনিই পাল্টে যাবে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ২০০৬ সালে জাতিংঘের Convention on the Rights of Persons with Disabilities, এই কনভেনশনের সঙ্গে ভারতের সংবিধানের সংঘর্ষ থাকায় ভারত তার সংবিধানকে সংশোধন করেছে। কিন্তু আমরা সংবিধান সংশোধন না করে ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন করেছি। যেখানে ভারত সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য একই আইন রেখেছে কিন্তু আমাদের দেশে তা পুরোপুরিভাবে ভিন্ন। ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইনে পরবর্তী বিধিগুলো আমরাও পাইনি, যেখানে অনেক জেলা-উপাজেলা পর্যায়ে কমিটি থাকার কথা। সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা কত তার সঠিক হিসাব নেই কারও কাছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কিন্তু ২০১০ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত খানা জরিপে দেখা যায়, এ হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ আর ২০১৬ সালের খানা জরিপ অনুযায়ী ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, পৃথিবীতে আনুমানিক ৬৫ কোটি লোক, যাদের মধ্যে ২০ কোটি শিশু, এরা কোন না কোনভাবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী ৷ এসব অসহায় মানুষের ৮০ শতাংশের বাস দরিদ্র দেশগুলোতে, যারা স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত ৷

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন-২০১১ এর উদ্ধৃতি দিয়ে উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে বলা হয়- পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৫ দশমিক ৬ ভাগ প্রতিবন্ধী, যাদের ৮০ শতাংশ মানুষ উন্নয়নশীল দেশে বাস করে। তবে বাংলাদেশে সমাজসেবা অধিদফতরের চলমান প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপে’ ৮ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত মাত্র ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৩ জন প্রতিবন্ধী মানুষ পাওয়া গেছে।

প্রতিবন্ধীদের ছাড়া কখনোই এসডিজি বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, যখন লক্ষ্যগুলো গণনা করা হবে, তখন যদি ৯৮ শতাংশ অর্জন হয় তখন আর আমাদের এচিভমেন্ট আর অর্জন হবে না।

এই অধ্যাপক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তাদের কাছে প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ে যে খসড়া নীতিমালা দেওয়া হয়েছে, তা প্রজ্ঞাপন হিসেবে জারি করলে প্রতিবন্ধীদের সকল প্রতিবন্ধকতাই কেটে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক

চেয়ারম্যানের শিশু পুত্রকে খুনের পর আত্মহত্যা করল ঘাতক

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের শিশুপুত্র আল রাফসানকে (৯) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক এরশাদ মোল্লা (৩৫) মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার ভাইকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহত শিশুর স্বজনরা।

বুধবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদরপুরের আটরশি এলাকায় টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দেন এরশাদ মোল্লা।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. জামাল পাশা জানান, ঢেউখালী এলাকার মো. ছানু মোল্যার ছেলে এরশাদ মোল্লা বিকেল চারটার দিকে সদরপুর উপজেলার সাতরশি গ্রামের ঋষিবাড়ীর মোড়ের একটি বাড়িতে হামলা করে। ওই বাড়িতে ঘরের মধ্যে বিছানায় শুয়ে থাকা চেয়ারম্যানের শিশুপুত্র আফসান ও স্ত্রী দিলজাহান রত্নাকে কুপিয়ে জখম করে। এতে রাফসানের মৃত্যু হয়। গুরুত্বর আহত রত্নাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ওই শিশুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত এরশাদ মোল্লা উপজেলার আটরশি এলাকায় টিএন্ডটির মোবাইল টাওয়ারের উপরে উঠে থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন পুর্বে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের একটি সালিশ বৈঠকে রায় দেয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এরশাদ, এর জেরে এরশাদ চেয়ারম্যানের পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, এরশাদ সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে গত সোমবার (১৬ মে) উপজেলা পরিষদে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজনুর রহমান সিকদারের মধ্যস্থতায় সালিস হয়। ওই বৈঠকে ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এরশাদকে  স্ত্রীকে তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরশাদ এ প্রস্তার নাকচ করলে স্ত্রীকে মোহরানা বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা বুধবারের (১৮ মে) মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

;

‘বিএনপি তাদের মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। কারণ, তারা তাদের মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিন্তু তাদের নির্বাচনের ইতিহাস এতটা কলুষিত যে তাদের এই নিয়ে কথা বলার কোন অধিকারই নাই। কোন মুখে তারা বলে।’

বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-১০ এ ফালু (মোসাদ্দেক আলী ফালু) ইলেকশন করেছিল যে ইলেকশনের চিত্র সবার নিশ্চই মনে আছে। মাগুরা ইলেকশন হয়-যে ইলেকশন নিয়েই আন্দোলন করে আমরা খালেদা জিয়া উৎখাত করেছি। মিরপুর ইলেকশন-প্রত্যেকটা নির্বাচনের চিত্রই আমরা দেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৭ সালের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট, ’৭৮ এর রাষ্ট্রপতি এবং ’৭৯ এর সাধারণ নির্বাচন, ’৮১ এর নির্বাচন প্রত্যেকটা নির্বাচনই আমাদের দেখা। পাশাপাশি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনেরও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন ব্যবস্থার যে উন্নয়ন সেগুলো আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং চিন্তা চেতনার বাস্তবায়ন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিক ও যুগোপযোগিকরণে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ইভিএম ব্যবস্থা বলবৎ করারও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ সবের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার আবার জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছে।

আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও দেশ নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর মিডিয়াতে ঢালাও সমালোচনার ও উত্তর দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ছিল এই সভার আয়োজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এসময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরেই ৬ বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা সে সময়কার সামরিক জান্তার রক্তচক্তু উপেক্ষা করে একরকম জোরকরেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

১৯৮১ সালে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গেলে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিল বিচারপতি সাত্তার, সে প্রার্থী। সেই নির্বাচনের যেই চিত্র আমরা দেখেছিলাম, সেখানে কোন ভোটের দরকার ছিল না, কোন ভোট হয়নি। নির্বাচন মানেই হচ্ছে সিল মারা,বাক্স ভরা এবং ফলাফল ঘোষণা দেয়া উল্লেখ করে সেই সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে যে কয়টা নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনে এটাই হয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন এবং সেনা আইন ভঙ্গ করে ক্ষমতা দখল করার পর, একদিকে সেনাপ্রধান তারপর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি এরপরে আবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। প্রথমে ‘হ্যাঁ,না’ ভোট, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তারপরে দলগঠন শুরু। প্রথমে জাগো দল,তারপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং এরপরে তৃতীয় ধাপে এসে সে বিএনপি গঠন করে।

বিএনপিতে স্বাধীনতা বিরোধী,খুনী এবং আওয়ামী লীগের কিছু ‘বেইমান’ও সেখানে যুক্ত হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খন্দকার মুশতাকও চেষ্টা করেছিল এই দল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) ভাঙতে। কিন্তু সেও খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি, এরপর করেছে জিয়াউর রহমান।

সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে খেলা এবং প্রহসন করা এবং নির্বাচনকে কলুষিত করা এটা জিয়াউর রহমানই শুরু করে। সেই ৭৭,৭৮,৭৯ সাল, সেই সময় এটা শুরু হয়। অর্থাৎ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া,গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া এবং ‘মার্শাল ল’ দিয়ে রাষ্ট্র চালানো। প্রতি রাতে থাকতো কারফিউ। ৭৫ এর পর যে কারফিউ দেয়া শুরু হয়েছিল, সেটা ৮৬ সালে এসে প্রত্যাহার হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকতো। এটাই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। কোন মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

তিনি বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং ২১শে অগাষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া। ২০০৭ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তারেক মুচলেকা  দিয়েছিল যে, জীবনে কোনদিন রাজনীতি করবে না। এই মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায় সে। সেই বিচারের মামলার রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। এতিমের অর্থ আতœস্মাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।

যাই হোক, কারাগার থেকে এখন তাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি,অসুস্থ সেজন্য। এইটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, বারবার তাকেই আমি  করুনা ভিক্ষা দিয়েছি, যে কারনে সে এখন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও  এইটুকু সুযোগ তাকে আমরা দিয়েছি। এটা নির্বাহী আদেশেই দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচন করে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনেইতো তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। কলুষিত করতে চায়।            

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু নতুন আঁতেল আবার জুটেছে, একজন অর্থনীতিবিদ তো বলেই দিল, রুপপুরে তাঁর সরকার যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে, সেটা নাকি অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিকর। আর বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নটা বাইরের লোক দেখলেও তারা চোখে দেখে না। তিনি বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হচ্ছে সবথেকে পরিবেশ বান্ধব। আর তাঁর সরকার গ্যাস ভিত্তিক, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে- যেগুলো অনেক ব্যয় বহুল এবং গ্যাসের রিজার্ভ এক সময় নি:শেষ হয়ে গেলে, এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রইতো বিদ্যুতটা দেবে। এটা দেশের অর্থনীতিতেও অনেক বেশি অবদান রাখবে।

এক সময় ‘কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট’ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়েও অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের করে দেয়া বেসরকারি টেলিভিশন এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়েই আজকাল ‘টক শো’ সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে সরকারের সমালোচনা চলছে। যে সুযোগ জিয়া,এরশাদ বা খালেদা জিয়া কারো আমলেই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এসময়ে আক্ষেপ করে বলেন, নানা ‘টক শো’তে ঢালাও সরকার বিরোধী সমালোচনা করা হয়, যেখানে তাদের কেউ কন্ঠ রোধ করেনা। কিন্তু তারপরেও সব কথা শেষে তারা এটাও বলে যে, তাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়না। প্রধানমন্ত্রী এই শ্রেনীর লোকজনের দেশ পরিচালনার খায়েস থাকলে তাদের ভোটের মাঠে নেমে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসারও আহবান জানান। দিনরাত কথা বলার পরেও বিএনপি নেতৃবৃন্দের আহবানে জনগণ সাড়া না দিলে, দোষটা কার সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি’র পদে থাকা না থাকাকে কেন্দ্র করে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে অর্থনীতিবিদ ড. ইউনুস এবং একটি ইংরেজী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের কর্মকান্ডেরও সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে আজ পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে পারাকে ‘শাপে বর’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন আর সেটা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই বিধায় এখন পদ্মা সেতুর রেললাইন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বাবদ ঋণের টাকা  কিভাবে শোধ হবে, কারণ দক্ষিণ বঙ্গের কেউতো রেলে চড়বে না। তারা লঞ্চে যাতায়াত করে থাকে। কাজেই এটা ভায়াবল হবে না, এমনই তাদের বক্তব্য।

আবার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একটার পর একটা স্প্যান বসানোকে বলেছিল, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু করা হচ্ছে, ওখানে চড়া যাবেনা। চড়লে ওটা ভেঙ্গে পড়বে।’  তার সাথে আবার তথাকথিত কিছু বু্দ্ধিজীবী যোগ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এগুলোকে ‘অর্বাচীনের মত কথা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য ভাল কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। কেন? সে প্রশ্নও করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এরা ’৭১ এর পরাজিত পাকিস্তানীদের পদলেহনকারি কিনা সে কথাও জানতে চান।

;

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র সচিব



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট , বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন

  • Font increase
  • Font Decrease
 
 
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশের শ্রমখাতের মান ও অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। শ্রম অধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র, শ্রম, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
 
বুধবার (১৮ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব। তার আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
 
বাংলাদেশের শ্রম মান উন্নত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন বিষয়ক আর্থিক সহায়তা সংস্থার (ডিএফসি) তহবিল থেকে অর্থ পাবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
 
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিএফসি তহবিল থেকে অর্থ না পেলেও বাংলাদেশের অসুবিধা হচ্ছে না। আগামী জুনে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সংলাপে শ্রম অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সেখানে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো ।
 
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উভয় দেশের মধ্যে অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ গুলোর পর্যালোচনা করার জন্য একটি মেকানিজম কারার প্রস্তাব দিয়েছে। আমি নীতিগতভাবে কোন সমস্যা দেখি না। শুধুমাত্র সংলাপ করে গেলাম কিন্তু এর ফলাফল কি আসছে সেটিও সময় সময় দেখা দরকার।
 
তিনি বলেন, এ ধরনের মেকানিজম অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের আছে। জাপানের সঙ্গে আছে, ভারতের সঙ্গে আছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে লাইন অফ ক্রেডিট নিয়ে ভারত নিয়মিত বৈঠক করে থাকে। সবকিছু ঠিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী জুলাই থেকে এটি চালু হবে।
;

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ আহরণ নিষিদ্ধ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মোংলা (বাগেরহাট)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ২০ মে থেকে ৬৫ দিনের জন্য সকল ধরণের মাছ আহরণ বন্ধ হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় ইতোমধ্যে সরকারিভাবে প্রচার প্রচারণা ও সভা করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন মৎস্য বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন। তবে একই সময় ভারতের জলসীমানায় মাছ ধরা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বাংলাদেশী জেলেদের মধ্যে।

তাদের অভিযোগ এ সুযোগে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এদিকে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে মোংলা উপজেলায় ছয় হাজার ৬৫০ জেলের মধ্যে ১১৫০ এবং শরণখোলা উপজেলার চার হাজার সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে মাত্র ৩৭৪ জনের চাল বরাদ্দ এসেছে। এমন অবস্থা বাগেরহাটের সব উপজেলায়। এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।

বুধবার (১৮ মে) শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক সভায় জেলেদের চাহিদার তুলনায় এতো কম বরাদ্দ আসায় নিতে অনিহা প্রকাশ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।

শরণখোলার সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে জেলে রয়েছে ১৪৪০ জন অথচ বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১১০ জনের। এখন এ চাল আমি কিভাবে বিতরন করবো। একই অবস্থা রায়েন্দা ইনিয়নে ১২০০ জেলের মধ্যে চাল এসেছে ১১০ জনের, খোন্তাকাটায় ৯০০ জেলের মধ্যে ১০৪ জন এবং ধানসাগরে ৫৮০ জনের মধ্যে মাত্র ৫০ জন জেলের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এনিয়ে তারা এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বলেও তারা জানান।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, শরণখোলায় মোট জেলের সংখ্যা ৬৭৪৪ জন। এরমধ্যে সমুদ্রগামী জেলে হচ্ছে চার হাজার। ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের জন্য প্রতি জেলে ৮৬ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসাবে মাত্র ৩৭৪ জন জেলের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে এখানে আমার কিছু করার নেই।

মোংলা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মোংলায় ৬৬৫০ জেলের মধ্যে চাল বরাদ্দ হয়েছে ১১৫০ জেলের। তবে তিন কিস্তিতে বাকি চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জনসীমানায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের জেলেরা আর মাছ পায় না। যে কারনে গত বছর আমার ৫০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আমার মত এই মৎস্য সম্পদের নির্ভরশীল বহু ব্যবসায়ী লোকসানে পরে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাই ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ ও ভারতের একই
সময় দেওয়ার দাবী তার।

শরণখোলা উপজেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের জেলেরা না খেয়ে থাকে আর ভরতীয় জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যায়। আমরা তা দেখলেও কিছু করার নেই।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম পাওয়া গেছে। তবে সব জেলেরা যাতে পায় সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দেয়া হবে।

;