বেনাপোল বন্দরের দুর্বল অবকাঠামোয় লোকসানে ব্যবসায়ীরা!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না উঠায় বাণিজ্যের পরিমাণ কমে এসেছে অর্ধেকে। এতে চরম ভোগান্তি আর হয়রানির মধ্য দিয়ে বাণিজ্য করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অবশেষে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কর্মবিরতি মত কঠিন কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হয়েছে পণ্য পরিবহনকারী বাণিজ্যিক সংগঠন বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি। ১৭ মে থেকে পণ্য উঠা-নামানো থেকে বিরত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এ সংগঠনটি। তাদের এ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে বন্দরের অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও।

এদিকে বন্দর কর্মবিরতির কবলে পড়লে বড় ধরনের অচলাবস্থায় আমদানি কারকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, বন্দরে পণ্যগার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা মত পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় ওপারে এক থেকে দেড় মাস ধরে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে আমদানি কমায় রাজস্ব আয় দিন দিন মারাত্মক হারে কমে এসেছে।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, দেশে সরকার অনুমোদিত মোট ২৪টি স্থলবন্দর আছে। এর মধ্যে মাত্র ১২টি বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হয়। অন্যান্য বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের আগ্রহ না থাকায় এ পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। অযথা হাজার হাজার কোটি টাকা এসব বন্দরে খরচ করে অর্থ অপচয় করা হয়েছে। অথচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের আগ্রহ বেশি থাকলেও এ বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য হতে সরকারকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপদভাবে বাণিজ্য সম্পাদনের পরিবেশ আজও বন্দর কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। বেনাপোল বন্দরের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্যের। বন্দরে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন আমদানি পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব ট্রাকে শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মাণধীন যন্ত্রপাতি রয়েছে। জায়গার অভাবে এসব পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি ৩ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। পণ্য ছাড় করাতে না পারায় দেশের শিল্পকলকারখানার উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৬শ ট্রাক পণ্য আমদানির চাহিদা থাকলেও বন্দরে জায়গা সংকটে ৩শ ট্রাকের বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রফতানি বাণিজ্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। বন্দরে ভারি পণ্য উঠা-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ক্রেন ও ফর্কক্লিপ বেশি ভাগ সময় অচল হয়ে পড়ে থাকায় পণ্য খালাসে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি ব্যবসায়ীদের। তবে বন্দরের নানান অব্যবস্থাপনায় লোকসানের কবলে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে বেনাপোল বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছে। কর্মবিরতি পালনের আগে বন্দরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জাানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ইতিমধ্যে বন্দরে জায়গা অধিগ্রহণ করে নতুন পণ্যগার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। আরও জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। তবে এসব কাজ শেষে হতে আরও আড়াই বছরের মত সময় লাগবে। তবে দ্রুত পণ্য খালাসে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে নতুন ক্রেন ও ফর্কক্লিপ কেনার জন্য বলা হয়েছে।

কর্মবিরতি যাতে প্রত্যাহার করা হয় তার জন্য ট্রান্সপোর্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুরি যাওয়া টিন খুলনায় উদ্ধার



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মোংলা (বাগেরহাট)
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুরি যাওয়া টিন খুলনায় উদ্ধার

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুরি যাওয়া টিন খুলনায় উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুরি যাওয়া ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল খুলনা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার হওয়া মালামাল খুলনার বটিয়াঘাটা থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (০২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল চুরির ঘটনায় র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে শনিবার (০২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকারীরা চোরাকারবারিদের লুকিয়ে রাখা এসব মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া ২৮৭ পিস অ্যালুমিনিয়াম টিন সিট রাতেই বটিয়াঘাটা থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য ১৬ লাখ টাকা বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া মালামাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছিলো। যা সংঘবদ্ধ চোরচক্র চুরি করে নিয়ে বটিয়াঘাটা এলাকায় লুকিয়ে রাখে।

উল্লেখ্য, এর আগে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া জিআই পাইপ, বৈদ্যুতিক তার ও সকেট উদ্ধারসহ চুরির সাথে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনে র‌্যাব-৬।

;

ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহারের মেয়াদ বাড়ল ৩ মাস



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোক্তাপর্যায়ে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম সহনীয় রাখতে এ পণ্যের ওপর মূল্যসংযোজন কর প্রত্যাহারের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (৩ জুলাই) বিকেলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ভোজ্যতেলে বিদ্যমান এ ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় এ সুবিধার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে ভোজ্যতেলে শুধু আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ আছে। আর উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে কোনো ভ্যাট দিতে হয় না ব্যবসায়ীদের। এ দুই স্তরে মোট ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সুবিধা দেওয়া হয়।

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় গত মার্চের মাঝামাঝি তিন ধাপে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমায় সরকার।

;

ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

রোববার (৩ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ক্যামেরা বসবে, বসানো হবে স্পিডগানও। তারপর পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ২৭ জুন ভোর ৬টা থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন সকাল থেকে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

 

;

ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যায়নি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা একেবারে তৃণমূল থেকে। বিশেষ করে আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

রোববার (০৩ ‍জুলাই) মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন পুরস্কার ২০২২’ ও ‘শুদ্ধচার পুরস্কার ২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন বলেই আমরা কাজটা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা রাজনীতি করি, আমাদের দল আছে। আমরা যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় একটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো দেয়নি, আমরা বিনাপয়সায় সবাইকে করোনা টেস্ট ও ভ্যাকসিন দিয়েছি। বুস্টার ডোজও দেওয়া হচ্ছে। আমি আশা করি সবাই এ ভ্যাকসিন নেবেন।

এ সময় মুজিব বর্ষের গৃহনির্মাণ কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান।

;